সিরিয়ায় আগ্রাসন চালিয়ে যে লক্ষ্য অর্জন করতে চান নেতানিয়াহু
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i67552-সিরিয়ায়_আগ্রাসন_চালিয়ে_যে_লক্ষ্য_অর্জন_করতে_চান_নেতানিয়াহু
ইহুদিবাদী ইসরাইল গতকাল (মঙ্গলবার) অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার আল-বারিজ শরণার্থী শিবিরে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া, কুদস দখলদার এই শক্তি চলতি সপ্তাহে কয়েকবার সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে; যদিও ইসরাইলি জঙ্গিবিমান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের বেশিরভাগই প্রতিহত করেছে সিরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ২৩, ২০১৯ ১৪:১৬ Asia/Dhaka
  • বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
    বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

ইহুদিবাদী ইসরাইল গতকাল (মঙ্গলবার) অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার আল-বারিজ শরণার্থী শিবিরে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া, কুদস দখলদার এই শক্তি চলতি সপ্তাহে কয়েকবার সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে; যদিও ইসরাইলি জঙ্গিবিমান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের বেশিরভাগই প্রতিহত করেছে সিরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরাকি কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ইসরাইল ইরাকের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা করতে চায়।

প্রশ্ন হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে প্রতিরোধ অক্ষের সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইসরাইলের এই আগ্রাসনের লক্ষ্য কি?

এ প্রশ্নের উত্তরে বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়ায় বিদেশি মদদে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর গত আট বছরে ইহুদিবাদী ইসরাইল তার কোনো অশুভ লক্ষ্য হাসিল করতে পারেনি। পশ্চিমা ও আরব দেশগুলোর পাশাপাশি ইসরাইল ২০১১ সাল থেকে সিরিয়ার জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। কিন্তু তারপরও ইরানসহ প্রতিরোধ অক্ষের দেশগুলোর সমর্থন নিয়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছেন।

ইসরাইলের বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে সিরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

আসাদ সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নকারী আরব দেশগুলো সাম্প্রতিক সময়ে একে একে আবার দামেস্কের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে শুরু করেছে।এ অবস্থায় সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে এবং ইরাকে হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে এই দুই দেশের প্রতি সহযোগিতা বন্ধ করতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায় ইহুদিবাদী ইসরাইল। সিরিয়ায় ইরানের সামরিক উপদেষ্টা মোতায়েন থাকুক তা কোনোমতেই মেনে নিতে পারছে না তেল আবিব।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সিরিয়া থেকে তার দেশের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।আমেরিকার এই পদক্ষেপের একটি উদ্দেশ্য হতে পারে সিরিয়ায় হামলা করার ক্ষেত্রে ইসরাইলকে অবারিত সুযোগ করে দেয়া। অন্যদিকে, তেল আবিব সবাইকে একথা বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, সিরিয়ায় নিজের পরাজয় সে মেনে নেয়নি এবং দামেস্কে পুনরায় দূতাবাস চালু করার যে উদ্যোগ আরব দেশগুলো নিয়েছে তাতে সে সন্তুষ্ট নয়।

সবশেষে বলা যায়, ইসরাইল সরকার এমন সময় মধ্যপ্রাচ্যে আগ্রাসী তৎপরতা চাঙ্গা করেছে যখন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার পতন হয়েছে এবং আগামী এপ্রিলে সেখানে আগাম নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ওই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার লক্ষ্যে নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকা ও সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছেন এবং ইরাকে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। তিনি নিজের বিরুদ্ধে আদালতে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ থেকে জনমতের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চান। কিন্তু ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রমাণ করছে, নেতানিয়াহুর এই কূটকৌশল ব্যর্থ হবে এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের ভরাডুবি ঠেকানো তার পক্ষে সম্ভব হবে না।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৩