সৌদি আগ্রাসন মোকাবেলায় আত্মরক্ষার অধিকার আমাদের রয়েছে: ইয়েমেন
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i74342-সৌদি_আগ্রাসন_মোকাবেলায়_আত্মরক্ষার_অধিকার_আমাদের_রয়েছে_ইয়েমেন
ইয়েমেন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে তাদের বড় ধরণের দু'টি হামলায় শত্রুপক্ষের ব্যাপক প্রাণহানী, দুই হাজার সেনাকে আটক ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ইয়েমেনিদের ওপর চলমান সৌদি অপরাধযজ্ঞের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দেয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। তিনি বলেন সম্প্রতি সৌদি আরবের গভীরে যে হামলা চালানো হয়েছে তা ওই অধিকার বলেই আঞ্জাম দেয়া হয়েছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
অক্টোবর ০৯, ২০১৯ ১৬:০৬ Asia/Dhaka
  • ইয়াহিয়া সারি
    ইয়াহিয়া সারি

ইয়েমেন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে তাদের বড় ধরণের দু'টি হামলায় শত্রুপক্ষের ব্যাপক প্রাণহানী, দুই হাজার সেনাকে আটক ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ইয়েমেনিদের ওপর চলমান সৌদি অপরাধযজ্ঞের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দেয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। তিনি বলেন সম্প্রতি সৌদি আরবের গভীরে যে হামলা চালানো হয়েছে তা ওই অধিকার বলেই আঞ্জাম দেয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের ৫১ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, "এই সংস্থার কোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে যদি কেউ হামলা চালায় তাহলে আক্রান্ত দেশটির আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।"  জাতিসংঘের এ ধারা অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিষদ ব্যবস্থা না নিলেও শত্রুর হামলা প্রতিহত করার অধিকার সব দেশের রয়েছে।

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট গত ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনে আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। এ হামলায় হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়া ছাড়াও দেশটির বহু অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। শিশু সুরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি জোটের হামলায় গত সাড়ে চার বছরে ইয়েমেনের ৮৪ হাজার শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামরিক হামলা এবং পুষ্টিহীনতায় বহু শিশু নিহত হয়েছে। বর্তমানে ইয়েমেনের সাড়ে ৭৫ লাখ মানুষের জন্য জরুরি খাদ্যের প্রয়োজন।

খাদ্য সংকট এতটাই মারাত্মক আকার ধারণ করেছে যে, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থেনিও গুতেরেসসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ও সংস্থাগুলো বহুবার ইয়েমেনে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে। সৌদি আরব ইয়েমেনে মানবতা বিরোধী অপরাধযজ্ঞ চালালেও বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার কাজে দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতিসংঘ আজ পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

প্রকৃতপক্ষে, নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি সদস্য দেশ বিশেষ করে আমেরিকা সৌদি আরবের অপরাধযজ্ঞের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন সদস্য বিষয়টি স্বীকারও করেছেন। গত জুলাই মাসে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি মার্কিন সাহায্য বন্ধের জন্য একটি প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হয়। প্রস্তাবটির পক্ষে ২৪০ এবং বিপক্ষে ১৮৫টি ভোট পড়ে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেটোর কারণে তা বাতিল হয়ে যায় এবং সৌদি আরবের প্রতি মার্কিন সমর্থন অব্যাহত থাকে।

এ অবস্থায়, ইয়েমেনের সেনা ও গণবাহিনী এটা বুঝতে পেরেছে যে, যুদ্ধ বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার কোনো আশা নেই। আর সে কারণেই তারা জাতিসংঘের ৫১ নম্বর ধারা অনুযায়ী আত্মরক্ষার পথ বেছে নিয়েছে এবং এটা তাদের অধিকার। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৯