দায়েশ-'খলিফা' বাগদাদি নিহত : পশ্চিমা সূত্রের খবর
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i74801-দায়েশ_'খলিফা'_বাগদাদি_নিহত_পশ্চিমা_সূত্রের_খবর
 মার্কিন মদদে গড়ে-তোলা তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের (আইএস) প্রধান নেতা আবু বকর আল বাগদাদি সিরিয়ায় এক মার্কিন সেনা অভিযানে নিহত হয়েছে বলে খবর দিচ্ছে পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমগুলো। 
(last modified 2026-02-17T14:37:08+00:00 )
অক্টোবর ২৭, ২০১৯ ১৬:২৬ Asia/Dhaka
  • মার্কিন মদদে গড়ে-তোলা তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের (আইএস) প্রধান নেতা আবু বকর আল বাগদাদি (ফাইল ছবি)
    মার্কিন মদদে গড়ে-তোলা তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের (আইএস) প্রধান নেতা আবু বকর আল বাগদাদি (ফাইল ছবি)

 মার্কিন মদদে গড়ে-তোলা তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের (আইএস) প্রধান নেতা আবু বকর আল বাগদাদি সিরিয়ায় এক মার্কিন সেনা অভিযানে নিহত হয়েছে বলে খবর দিচ্ছে পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমগুলো। 

একজন মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, গতরাতে বাগদাদিকে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই অভিযান সফল হয়েছে কিনা তা তিনি জানাতে সক্ষম নন বলে উল্লেখ করেছেন। 

সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ইদলিবে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর এক কমান্ডার বলেছেন, শনিবার মধ্যরাতের এক অভিযানে বাগদাদি নিহত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ওই অভিযানে কয়েকটি হেলিকপ্টার ও যুদ্ধ-বিমান অংশ নেয় এবং একই অভিযানে তুর্কি সীমান্তবর্তী ব্রিশা গ্রামের কাছে ভূমিতে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় বাগদাদির নিহত হওয়ার বিষয়টিকে 'বড় ঘটনা' বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি আজ এ বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন বলে পশ্চিমা সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ইরাকের দু'জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, বাগদাদি নিহত হওয়ার নিশ্চিত খবর তাদের কাছে এসেছে। তারা বলেছেন, সিরিয়ায় নিয়োজিত আমাদের তথ্য-সূত্রগুলো বাগদাদির  খোঁজ নিতে সক্রিয় ইরাকি গোয়েন্দা টিমকে নিশ্চিত করেছে যে বাগদাদি তার ব্যক্তিগত দেহরক্ষীসহ ইদলিবে নিহত হয়েছে। বাগদাদির গোপন আস্তানার ঠিকানা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর সে তার পরিবারকে ইদলিব থেকে বের করে তুর্কি সীমান্তের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে ওই দুই ইরাকি কর্মকর্তার একজন জানান। 

নানা সংবাদ মাধ্যম ও সূত্র এর আগেও বেশ কয়েক বার বাগদাদির নিহত হওয়ার খবর প্রচার করেছিল। বাগদাদিকে দায়েশ বা আইএস-এর নেতা হিসেবে গড়ে তুলতে ইহুদিবাদী ইসরাইলে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল এবং এমনকি কোনো কোনো সূত্রে তাকে ইহুদি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।  

আরও পড়ুন: খলিফা বাগদাদি ইহুদি, আইএস মোসাদের সৃষ্টি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ছাড়াও মার্কিন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা মাঝে মধ্যেই স্বীকার করেছেন যে আইএসআইএল বা দায়েশ মার্কিন উদ্যোগে ও মদদেই গড়ে উঠেছে।  মার্কিন সরকার নানা সময়ে লোক-দেখানো সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের নামে এই গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে আসলেও বাস্তবে নানা সময়ে এই ধর্মান্ধ-ওয়াহাবি জঙ্গি গোষ্ঠীর কাছে অর্থ, অস্ত্র ও নানা ধরনের সহায়তা পাঠিয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নেতাদের জীবন রক্ষার জন্য তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে এনেছে মার্কিন বিমান অথবা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে। 

পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরান, রাশিয়া ও হিজবুল্লাহর সহায়তা ছাড়া দায়েশ সিরিয়া ও ইরাকে কখনও পরাজিত হত না এবং ইরাক ও সিরিয়ার সরকারি আর গণবাহিনীর সক্রিয় সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধ ছাড়া দায়েশ বা আইএস বিপর্যস্ত হত না। এইসব বাহিনীর কার্যকর হামলার বিপরীতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কথিত 'সন্ত্রাস-বিরোধী অভিযান' ছিল পুরোপুরি অকার্যকর, লোক-দেখানো ও প্রায়ই দায়েশের পরিবর্তে সাধারণ জনগণ অথবা সন্ত্রাস-বিরোধী বাহিনীগুলোই মার্কিন নেতৃত্বাধীন হামলার শিকার হয়েছে। # 

পার্সটুডে/এমএএইচ/২৭