ইসরাইল-আমিরাত সম্পর্ক স্থাপন: প্রতিরোধ শক্তিকে নির্মূল করাই মূল উদ্দেশ্য
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i82334-ইসরাইল_আমিরাত_সম্পর্ক_স্থাপন_প্রতিরোধ_শক্তিকে_নির্মূল_করাই_মূল_উদ্দেশ্য
কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দখলদার ইসরাইলের সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বিরাট নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ব্যাপকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বহু বছর ধরে গোপনে সম্পর্ক বজায় রাখার পর অবশেষে ইসরাইল ও আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে। গত ১৩ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্ক স্থাপনের এ সিদ্ধান্তের কথা সবাইকে জানিয়ে দেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
আগস্ট ১৭, ২০২০ ১১:৩৭ Asia/Dhaka

কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দখলদার ইসরাইলের সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বিরাট নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ব্যাপকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বহু বছর ধরে গোপনে সম্পর্ক বজায় রাখার পর অবশেষে ইসরাইল ও আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে। গত ১৩ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্ক স্থাপনের এ সিদ্ধান্তের কথা সবাইকে জানিয়ে দেন।

ধারণা করা হচ্ছে দু’পক্ষই বিভিন্ন ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ায় সম্পর্ক স্থাপনের এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের এ সিদ্ধান্তের ফলে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার অনেক কারণ রয়েছে। কেননা ইসরাইল  যেখানেই  পা রাখে সেখানেই গোলযোগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা ইস্যুটি অন্য সব এলাকার চাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ নিয়ে দুর্ভাবনার মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে ইসরাইল কেন এতো আগ্রহী তা নিয়ে  প্রশ্ন উঠেছে।

প্রকৃতপক্ষে, ইসরাইল অভ্যন্তরীণ নানা সংকটে জর্জরিত। শুধু প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু নন সেইসঙ্গে দখলদার ওই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামোও বিরাট চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। অভ্যন্তরীণ তীব্র রাজনৈতিক সংকট ছাড়াও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়েছে ইসরাইল। ইসরাইলের একটি গবেষণা সংস্থার পরিচালিত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে অধিকৃত এলাকায় মহামারি করোনার কারণে প্রতি পাঁচ জন ইসরাইলির একজন বেকার হয়ে পড়েছে। করোনা রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর গত জুন পর্যন্ত ইসরাইলের ১৩.৫ শতাংশ কর্মী অর্থাৎ প্রায় সাড়ে  পাঁচ লাখ কর্মী বেকার হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া, ২৬ শতাংশ কর্মীর বেতন কমিয়ে দেয়া  হয়েছে। ইসরাইলের পরিসংখ্যান দফতর থেকে বলা হয়েছে, করোনার প্রভাবে তাদের জাতীয় উৎপাদনের পরিমাণ ২৮.৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জনতার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

অভ্যন্তরীণ এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং তারা নিজেদের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলার জন্য আমিরাতের অর্থ সহায়তার ওপর নির্ভর করছে অনেকটা।

তেলআবিব ও আবুধাবির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের আরেকটি দিক হচ্ছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব। আমিরাত ও ইসরাইল উভয়ই এ অঞ্চলের প্রতিরোধ শক্তির প্রচণ্ড বিরোধী। গত এক দশক ধরে তারা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী প্রতিরোধ শক্তিকে নির্মূল কিংবা দুর্বল করে দেয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বলা যায় প্রতিরোধ শক্তিকে মোকাবেলা করাই আবুধাবি ও তেলআবিব সম্পর্কের মূল উদ্দেশ্য। তবে তাদের ষড়যন্ত্র সত্বেও প্রতিরোধ শক্তি ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। ইরাক ও সিরিয়ায় দায়েশ তথা আইএস সন্ত্রাসীদের পতন এবং ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ব্যর্থতা এর বড় প্রমাণ। এ অবস্থায় ইসরাইল আমিরাতের সঙ্গে প্রকাশ্য সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ার প্রতিরোধ শক্তি বিশেষ করে ফিলিস্তিনের সংগ্রামীদের নির্মূল করার জন্য নতুন করে প্রচেষ্টা শুরু করেছে। ফিলিস্তিনের হামাস নেতা মাহমুদ আয যাহারও বলেছেন, এ অঞ্চলের সব প্রতিরোধ শক্তির ওপর আঘাত হানার জন্যই ইসরাইল ও আমিরাত সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৭