জাতিসংঘ ইহুদি উপশহর নির্মাণকে অবৈধ মনে করে: মুখপাত্র
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i91232-জাতিসংঘ_ইহুদি_উপশহর_নির্মাণকে_অবৈধ_মনে_করে_মুখপাত্র
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেছেন, জাতিসংঘ এখনো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ধ্বংস কিংবা জবর দখল করাসহ অবৈধভাবে ইহুদিবসতি নির্মাণ করাকে বেআইনি বলে মনে করে। পূর্ব বায়তুল মোকাদ্দাসের শেইখ জারাহ এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার জন্য ইসরাইলের আদালতের নির্দেশ এবং অবৈধ ইহুদি অভিবাসীদের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি দখলের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেছেন।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
মে ০৬, ২০২১ ১৪:০৯ Asia/Dhaka

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেছেন, জাতিসংঘ এখনো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ধ্বংস কিংবা জবর দখল করাসহ অবৈধভাবে ইহুদিবসতি নির্মাণ করাকে বেআইনি বলে মনে করে। পূর্ব বায়তুল মোকাদ্দাসের শেইখ জারাহ এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার জন্য ইসরাইলের আদালতের নির্দেশ এবং অবৈধ ইহুদি অভিবাসীদের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি দখলের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেছেন।

জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা ইহুদি উপশহর নির্মাণ বিষয়ে ২০১৬ সালে নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২৩৩৪ নম্বর প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ওই প্রস্তাবে বায়তুল মোকাদ্দাস এলাকাসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনে অবৈধ ইহুদিবসতি নির্মাণ বন্ধের জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অন্থেনিও গুতেরেসও গত ফেব্রুয়ারিতে অবৈধ ইহুদি উপশহর নির্মাণ বন্ধের জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

জেরুজালেম আল-কুদস শহরের দক্ষিণ-পূর্ব এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সর্বমোট ২৫৪০ ইউনিট ইহুদি বসতি স্থাপন করতে চাইছে ইসরাইলের দখলদার সরকার। এই অবৈধ বসতি স্থাপন করলে পশ্চিম তীর ও ফিলিস্তিনের বেইত সাফাফা এলাকা  জেরুজালেম শহর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। সে কারণে জেরুজালেম আল-কুদস শহর থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং সেখানে নতুন করে ইহুদি উপশহর নির্মাণের যে পদক্ষেপ ইসরাইল নিয়েছে সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। আল-কুদস শহরের ভূমি দখল এবং নতুন ইহুদি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার জন্য ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিশনের মুখপাত্র পিটার স্ট্যানো এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, 'তেল আবিবের এই ভূমি দখল প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে বড় রকমের বাধা সৃষ্টি করবে।'

বিবৃতিতে পিটার স্ট্যানো আরো বলেন, 'অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি স্থাপনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অবৈধ বলে গণ্য করে এবং ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের আগের সীমানায় কোনো ধরনের পরিবর্তনকে স্বীকৃতি দেয় না। ইসরাইল যে জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে বসতি স্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে তা বাতিল করার আহ্বান জানায় ইইউ।' এছাড়া, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জুড়ে ইসরাইল যে উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে তাও স্থগিত করার ওপর জোর দেন পিটার স্ট্যানো।

বাস্তবতা হচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ণ সমর্থন নিয়ে দখলদার ইসরাইল জর্দান নদীর পশ্চিম তীর ও পূর্ব বায়তুল মোকাদ্দাস এলাকায় ইহুদিবসতি নির্মাণ কাজ নজিরবিহীনভাবে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। ইসরাইল ২০১৮ সালে অধিকৃত এলাকায় আরো ২০০০ নতুন বাড়ি নির্মাণের ঘোষণা দেয়।

১৯৬৭ সালে জবর দখলের পর থেকে ইসরাইল উপশহর নির্মাণ কিংবা নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণের অজুহাতে ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোকে একটি অপরটি থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার চেষ্টা করছে। এ কারণে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে এর নিন্দা জানিয়েছে। বিশ্বে সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে ইসরাইল। তারা ফিলিস্তিনিদেরকে হত্যা করা ছাড়াও স্থানীয় অধিবাসীদেরকে বহিষ্কার করে সেখানে ইহুদিদের জন্য বসতি নির্মাণ করছে। এ অবস্থায় ইসরাইলের ব্যাপারে জাতিসংঘ মহাসচিবের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৬