ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের পর পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/world-i105192-ভারতের_ক্ষেপণাস্ত্র_আঘাতের_পর_পাকিস্তানের_প্রতিক্রিয়া
পাকিস্তান সরকার সেদেশে ভারতের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। গত বুধবার ভারতের একটি ক্ষেপণাস্ত্র রাজধানী ইসলামাবাদের ৫০০ কিলোমিটার ভেতরে আঘাত হানে। তবে তাতে ওয়ারহেড বসানো ছিল না অর্থাৎ কোনো বিস্ফোরক তাতে ছিল না। ফলে প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পরপরই ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হয়।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ১৪, ২০২২ ১২:২৫ Asia/Dhaka
  • ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের পর পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তান সরকার সেদেশে ভারতের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। গত বুধবার ভারতের একটি ক্ষেপণাস্ত্র রাজধানী ইসলামাবাদের ৫০০ কিলোমিটার ভেতরে আঘাত হানে। তবে তাতে ওয়ারহেড বসানো ছিল না অর্থাৎ কোনো বিস্ফোরক তাতে ছিল না। ফলে প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পরপরই ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হয়।

এ ঘটনার ব্যাখ্যায় ভারতের তরফ থেকে বলা হয়েছে ওই ক্ষেপণাস্ত্র সংস্কার কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাক্রমে তা পাকিস্তানে গিয়ে আছড়ে পড়েছে। কিন্তু এ ব্যাখ্যার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান জানিয়েছে এ রকম গুরুতর বিষয়ে ভারতের কর্মকর্তাদের এমন সরল ব্যাখ্যা যথেষ্ট নয়। এ কারণে পাকিস্তান সরকার এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। যেহেতু দুই দেশই পরমাণু শক্তিধর তাই এ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া জরুরি বলে ইসলামাবাদ জানিয়েছে।

ভারত ও পাকিস্তান প্রতি বছরই বিভিন্ন ধরণের  ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায় এবং দুই দেশের মধ্যেই অস্ত্র প্রতিযোগিতা চলে। এ অবস্থায় ভারত যদিও বলেছে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ঘটনা ছিল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং ভুল বশত: কিন্তু পাকিস্তান সরকার ভারতের এ ব্যাখ্যাকে যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে। প্রকৃতপক্ষে, দশকের পর দশক ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শত্রুতা চলে আসছে। এ কারণে ভারতের দাবি অনুযায়ী ভুল বশত: পাকিস্তানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। পাকিস্তান এটাকে বড় হুমকি হিসেবে দেখছে এবং এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বর্তমান বিশ্ব ইউক্রেন ও আফগানিস্তান নিয়ে বড় ধরনের ঝামেলায় জড়িয়ে আছে। এ অবস্থায় পাকিস্তানের এ আবেদনের প্রতি এ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সমাজ সাড়া দেবে কিনা তাতে সন্দেহ রয়েছে। এ ছাড়া, আন্তর্জাতিক সমাজ এটাও জানে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের জানি দুশমন। আর এ কারণেই কোনো ঘটনা ঘটলে দুই দেশই বিষয়টিকে অনেক বড় করে বিশ্বের সামনে তুলে ধরে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমাজকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা চালায়।

যেহেতু ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনো প্রণাহানী ঘটেনি সে কারণে নয়া দিল্লির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য পাকিস্তানের চেষ্টা খুব একটা কার্যকর হবে না বলেই অনেকে মনে করছেন। তারপরও ইসলামাবাদ সাম্প্রতিক ঘটনাকে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।

এদিকে, আফগানিস্তানে তালেবান ফের ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তালেবানের নতুন করে পদার্পণ ঘটেছে। ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও তাদের অভিজ্ঞতা নতুন। এ অবস্থায় ওই দেশে প্রভাব বিস্তারের জন্য ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। অর্থাৎ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্বের অন্যতম একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠছে আফগানিস্তান। এ অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ার ঘটনা দুদেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।#                     

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।