ইউক্রেনে জীবাণু অস্ত্রের পরীক্ষাগারের প্রমাণপঞ্জি নাকচ করলো আমেরিকা
https://parstoday.ir/bn/news/world-i105506-ইউক্রেনে_জীবাণু_অস্ত্রের_পরীক্ষাগারের_প্রমাণপঞ্জি_নাকচ_করলো_আমেরিকা
ইউক্রেনের বায়োলজিক্যাল ল্যাবগুলোতে মার্কিন সহায়তার আরও তথ্যপঞ্জি প্রদর্শন করেছে রাশিয়া। জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ স্থায়ী প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেছেন: ইউক্রেনে আমেরিকার বায়োলজিক্যাল ল্যাবগুলো সেদেশের জনগণের স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য ভয়াবহ হুমকি।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ২১, ২০২২ ১৫:৩৫ Asia/Dhaka

ইউক্রেনের বায়োলজিক্যাল ল্যাবগুলোতে মার্কিন সহায়তার আরও তথ্যপঞ্জি প্রদর্শন করেছে রাশিয়া। জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ স্থায়ী প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেছেন: ইউক্রেনে আমেরিকার বায়োলজিক্যাল ল্যাবগুলো সেদেশের জনগণের স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য ভয়াবহ হুমকি।

রাশিয়ার উপস্থাপিত নথিতে দেখা গেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে আমেরিকা সামরিক বায়োলজিক্যাল পরীক্ষাগারের পরিকল্পনা দিয়েছে এবং ল্যাবের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছে। ইউক্রেনকে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সাহায্যও দিয়েছে। বায়োলজিক্যাল ল্যাবগুলোকে দেওয়া আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ বত্রিশ মিলিয়ন ডলার। ওই অর্থ গ্রহীতা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে 'ব্ল্যাক অ্যান্ড ভিচ'। প্রকল্পটি যে ইউক্রেন সরকারের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে তারও প্রমাণ রয়েছে ওইসব নথিতে।

মজার বিষয় হল, যে রকম ভাবা হয়েছিল যে জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি লিন্ডা থমাস গ্রিনফিল্ড নেবেনজিয়ার উত্থাপিত তথ্যপঞ্জিকে উড়িয়ে দেবে, তাই হয়েছে। গ্রিনফিল্ড রাশিয়ার উপস্থাপিত নথিকে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করে সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ওয়াশিংটনে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আনাতোলি আন্তোনোভ বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জৈব অস্ত্র কনভেনশন লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে। তাদের ভয় হচ্ছে ইউক্রেনের জৈব পরীক্ষাগারে সংরক্ষিত প্যাথোজেন বা রোগ-জীবাণু ছড়ানোর উপাদানগুলো রাশিয়ার হাতে পড়ে না যায়।

বাস্তবতা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশের অভ্যন্তরে কয়েক ডজন বৃহৎ জীবাণু অস্ত্রের গবেষণাগার গড়ে তুলেছে। তার পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও তারা জৈব অস্ত্র পরীক্ষাগারের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী এরকম দুই শ'রও বেশি জৈব অস্ত্রের গবেষণাগার সক্রিয় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ভাইরাস তৈরিতে সক্ষম মার্কিন সামরিক জৈব পরীক্ষাগারগুলো "গ্রেড-ফোর' পর্যায়ের।  এগুলোর বিপর্যয়কর ক্ষতি এড়াতে তারা সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরীক্ষাগারগুলো স্থানান্তর করেছে।

বেশ কিছু পরীক্ষাগার বিশেষ করে রাশিয়া এবং চীনের কাছাকাছি দেশগুলোতে স্থানান্তর করেছে যে দুটি দেশ প্রকৃতপক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিযোগী। এর কারণ হলো ওই দুটি দেশের বিরুদ্ধে আমেরিকা জীবাণু অস্ত্রের হুমকি সৃষ্টি করতে চায়। এ কারণেই রাশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেন এবং জর্জিয়াতেও আমেরিকা জৈব অস্ত্রের পরীক্ষাগার গড়ে তুলেছে। যদিও আমেরিকা রাশিয়ার এই তথ্যভিত্তিক দাবী অস্বীকার করছে।

১৯৭২ সালে গৃহীত এবং ১৯৭৫ সাল থেকে বাস্তবায়িত 'বায়োজিক্যাল উইপন কনভেনশনে'র সদস্য আমেরিকা। তারপরও তারা এই মানবতা বিরোধী অস্ত্র তৈরিতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। আর বিপজ্জনক এই অস্ত্র তৈরির ল্যাবগুলো তারা গড়ে তুলেছে তাদের শত্রু দেশগুলোর আশেপাশে। ইউক্রেনে তৎপর ল্যাবগুলোর কথা অস্বীকার করা থেকেই বোঝা যায় এগুলো কতোটা ভয়াবহ এবং বিপর্যয়কর,যার দায়-দায়িত্ব নিতে নারাজ পেন্টাগন।#

পার্সটুডে/এনএম/২১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।