ইসরাইলকে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি: মারাত্মক অবনতির দিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক
https://parstoday.ir/bn/news/world-i114712-ইসরাইলকে_রাশিয়ার_হুঁশিয়ারি_মারাত্মক_অবনতির_দিকে_দ্বিপক্ষীয়_সম্পর্ক
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদভ ইহুদিবাদী ইসরাইলকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, 'ইসরাইল যদি ইউক্রেনকে সমরাস্ত্র সরবরাহের 'বেপরোয়া পদক্ষেপ' নেয় তাহলে মস্কোর সঙ্গে তেল আবিবের সম্পর্ক ধ্বংস হয়ে যাবে। মেদভেদভ বর্তমানে রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করছেন'।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
অক্টোবর ১৯, ২০২২ ১৫:০৯ Asia/Dhaka

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদভ ইহুদিবাদী ইসরাইলকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, 'ইসরাইল যদি ইউক্রেনকে সমরাস্ত্র সরবরাহের 'বেপরোয়া পদক্ষেপ' নেয় তাহলে মস্কোর সঙ্গে তেল আবিবের সম্পর্ক ধ্বংস হয়ে যাবে। মেদভেদভ বর্তমানে রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করছেন'।

তিনি এক টুইটবার্তায় বলেছেন, 'ধারণা করা হচ্ছে ইসরাইল কিয়েভকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ইসরাইলের এ সিদ্ধান্ত খুবই বোকামীপূর্ণ'। এর আগে ইসরাইল ও বিশ্বের ইহুদি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংযোগ স্থাপন বিষয়ক ইসরাইলের মন্ত্রী নাকম্যান শাই বলেছিলেন, 'ইসরাইলের উচিত ইউক্রেনের পক্ষ নেয়া এবং ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করা'। তার এ বক্তব্যের পরই রুশ কর্মকর্তা দিমিত্রি মেদভেদভ ওই কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন।

এ ছাড়া ইসরাইলের মন্ত্রী ইউক্রেনের ওপর যেকোনো অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য তেলআবিবের প্রতি আহ্বান জানান। ইসরাইলের এ মন্ত্রী আরো বলেন, ইউক্রেনকে ইসরাইলের পক্ষ থেকে অস্ত্র সহায়তা দেয়ার সময় এসেছে যেমনটি আমেরিকা ও ন্যাটো জোট ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে।

মজার বিষয়টি হচ্ছে, রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদভের পাল্টা হুশিয়ার পর ইসরাইলের কর্মকর্তারা বলেছেন, ইউক্রেনকে অস্ত্র দেয়ার বিষয়ে ইসরাইলি মন্ত্রী নাকম্যান শাইএর এ ধরণের বক্তব্য একান্তই তার ব্যক্তিগত এবং  এর সাথে সরকারের কোনো  সম্পর্ক নেই।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান এমন সময় ইসরাইলের ব্যাপারে কঠোর বক্তব্য দিলেন যখন রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবেলার জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করার জন্য ইউক্রেন তার বন্ধু দেশগুলোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। ইসরাইলের কাছে কয়েক রকমের ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। এ কারণে কিয়েভ কর্তৃপক্ষ ইসরাইল থেকে এসব অস্ত্র নিতে খুবই আগ্রহী। ইউক্রেন সরকার এর আগে রুশ বিমান হামলা ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র সামগ্রী দিতে তেলআবিবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।

যদিও ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে ইসরাইল নিজেকে নিরপেক্ষ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিল কিন্তু যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় এবং মার্কিন চাপে তেলআবিব ধীরে ধীরে কিয়েভের প্রতি সমর্থন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে শুরু করে। এ কারণে এর আগে রাশিয়া সেদেশে অবস্থিত ইহুদি সংস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল। এর পর থেকে ইসরাইল ও রাশিয়ার মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা চলে আসছিল। কারণ এ ঘটনা ছিল ইসরাইলের জন্য অনেক বড় আঘাত ও ক্ষতি। এ অবস্থায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে রাশিয়ার নতুন হুমকি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। #    

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।