ইরান সম্পর্কে মার্কিন রাজনীতিবিদদের যেসব বিষয় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন প্যাট্রিক ক্লাসন
-
মার্কিন অর্থনীতিবিদ এবং গবেষক প্যাট্রিক ক্লাসন
পার্সটুডে- পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক এক বিখ্যাত মার্কিন অর্থনীতিবিদ এবং গবেষক প্যাট্রিক ক্লাসন একটি প্রবন্ধে আমেরিকান রাজনীতিবিদদের কিছু বিষয় মনে করিয়ে দিয়েছেন।
পার্সটুডে অনুসারে,৫ নভেম্বন প্যাট্রিক ক্লাসন ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত "ইরানের আত্মবিশ্বাসের প্রত্যাবর্তন?" শীর্ষক তার প্রবন্ধে ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনগুলো পরীক্ষা করে দেখেছেন এবং জোর দিয়েছেন যে তেহরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের প্রতি আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে।
প্রথম; ক্লাসন জোর দিয়ে বলেছেন যে ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী ২০ অক্টোবর এক ভাষণে যুদ্ধে ইরানের পারফরম্যান্সকে বিজয়ী সুরে রক্ষা করেছিলেন এবং ঘোষণা করেছিলেন যে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম হয়েছিল। তিনি আরও জোর দিয়েছিলেন যে ইরান একটি নতুন দফা সংঘাতের জন্য প্রস্তুত এবং জাতীয় শক্তির প্রতীক হিসাবে দেশীয়ভাবে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র চালু করেছে।
দ্বিতীয়; ক্লাসন জোর দিয়েছেন যে ইরান ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধে নিজেকে বিজয়ী বলে মনে করে। এই প্রসঙ্গে, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি ৪ জুলাই প্রেস টিভির সাথে এক বিস্তারিত সাক্ষাৎকারে ঘোষণা করেন যে ইরান সাম্প্রতিক যুদ্ধে জয়লাভ করেছে। ইরানি কর্মকর্তা এবং বিজ্ঞানীদের ওপর প্রাথমিক ইসরায়েলি আক্রমণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় ইরান উদ্যোগ নিয়েছিল। লারিজানি তার বক্তব্য প্রমাণের জন্য এহুদ ওলমার্ট, বেজালেল স্মোট্রিচের মতো ইসরায়েলি সূত্র এবং ইসরায়েলি মিডিয়ার উদ্ধৃতি দেন এবং বলেন যে ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ অব্যাহত থাকার ভয়ে ভীত ছিল এবং তাই যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায়।
তৃতীয়ত, ক্লাসন সতর্ক করে দেন যে ইরানের আত্মবিশ্বাস একধরনের মনস্তাত্ত্বিক বাধা হতে পারে, তবে এটিকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ওয়াশিংটনকে সংঘাত সম্পর্কে অকাট্য প্রমাণ প্রকাশ করতে হবে। তিনি দাবি করেন যে ইরান কখনও কখনও তার ক্ষতির মূল্যায়ন অতিরঞ্জিত করে। উদাহরণস্বরূপ, লারিজানি বলেছেন যে ছয়টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র কাতারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত করেছে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেবল একটি নিশ্চিত করেছে। অবশ্যই, ক্লাসনের এই দাবি বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক। বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েনি বলেছেন, ইরান থেকে ছোড়া ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে আমেরিকা ১১১ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে যার মধ্যে ৬টি তাদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে (আল-উদেইদ ঘাঁটিতে)।
চতুর্থ; ক্লাসন জোর দিয়ে বলেন যে, প্রত্যাশার বিপরীতে ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান পারমাণবিক আলোচনায় ফিরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা দেখায়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি ৩ নভেম্বর ঘোষণা করেন যে ওয়াশিংটনের সাথে বার্তা বিনিময়ের অর্থ আলোচনা পুনরায় শুরু করা নয়। আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী শিক্ষার্থীদের সাথে এক বৈঠকে আরও বলেন যে ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থন বন্ধ করা এবং অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার কিছু বিষয় পর্যালোচনার পথ প্রশস্ত করতে পারে, তবে অদূর ভবিষ্যতে এটি কল্পনা করা যায় না।
পঞ্চম; ক্লাসনের মতে, ইরানি কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে পারমাণবিক কর্মসূচি বা প্রক্সির চেয়ে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তন ইরানের সরাসরি প্রতিরোধের উপর নতুন মনোযোগ প্রতিফলিত করতে পারে। ক্লাসন সুপারিশ করেন যে আমেরিকান বিশ্লেষকদের ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতার দ্রুত পুনর্গঠনের দিকে যতটা মনোযোগ দেওয়া উচিত, পারমাণবিক কর্মসূচির মতোই।
তার প্রবন্ধের উপসংহারে, ক্লাসন জোর দিয়ে বলেন যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরানের কোনো দুর্বলতা তো পরিলক্ষিত হয়ই নি বরং হুমকির মুখে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। তার মতে, এই পদ্ধতি ভবিষ্যতের মার্কিন নীতি নির্ধারণকে প্রভাবিত করতে পারে, কারণ ইরানের সাথে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে এবং তেহরানের কাছ থেকে আরও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ আশা করা উচিত।#
পার্সটুডে/এমবিএ/৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।