ব্রিটিশ পত্রিকা: ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্র বিহীন ন্যাটো নিয়ে ভাবছে
https://parstoday.ir/bn/news/world-i156218-ব্রিটিশ_পত্রিকা_ইউরোপ_যুক্তরাষ্ট্র_বিহীন_ন্যাটো_নিয়ে_ভাবছে
পার্সটুডে- ব্রিটেনের সাময়িকী অবজারভার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ রেখে ন্যাটো সামরিক জোটের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়টি ইউরোপে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
(last modified 2026-01-19T12:05:03+00:00 )
জানুয়ারি ১৯, ২০২৬ ১১:২১ Asia/Dhaka
  • আমেরিকা বিহীন ন্যাটোর ভাবনা
    আমেরিকা বিহীন ন্যাটোর ভাবনা

পার্সটুডে- ব্রিটেনের সাময়িকী অবজারভার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ রেখে ন্যাটো সামরিক জোটের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়টি ইউরোপে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে ইউরোপীয় সরকারগুলো রাজনৈতিক চাপ, মৌখিক অপমান-অপদস্থ এবং অর্থনৈতিক শুল্কের মতো নানা বিষয়ের সম্মুখীন হলেও সমালোচনা এড়িয়ে সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে ন্যাটো জোটকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করেছে যে, এসব প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি।

পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন 'জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নথি'-তে চরম ডানপন্থী প্রবণতাকে সমর্থন জানিয়ে ইউরোপকে “সভ্যতার অবক্ষয়”-এর সম্মুখীন বলে বর্ণনা করা হয়েছে।  সেই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের দখলে নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইউরোপীয় নেতাদের জন্য মারাত্মক সতর্ক সংকেত হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন- ইউরোপীয়দের সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে।

এছাড়া, এই অবস্থানের বিরোধিতা করায় যুক্তরাজ্য এবং আরও সাতটি ইউরোপীয় দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা প্রমাণ করেছে যে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আর টেকসই নয় এবং ইউরোপীয় নেতাদের প্রকাশ্যে এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপ আগেই এমন এক বিশ্বের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আর এই মহাদেশের প্রধান নিরাপত্তা রক্ষাকারীর ভূমিকা পালন করবে না। তবে এখন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ন্যাটোর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচ্যসূচিতে এসেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা কমিশনার আন্দ্রিয়ুস কুবিলিয়ুস বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখল মানেই কার্যত ন্যাটোর সমাপ্তি। তিনি ইউরোপে অবস্থানরত প্রায় এক লক্ষ মার্কিন সেনার বিকল্প নিয়েও আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে ন্যাটোর সাবেক রাজনৈতিক পরিকল্পনা পরিচালক ফাব্রিস পুতিয়ে বলেন, ইউরোপকে বাধ্য হয়েই যুক্তরাষ্ট্র বিহীন ন্যাটোর কথা ভাবতে হবে এবং স্বাধীন প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এসব কাঠামো ওয়াশিংটনের সামরিক সক্ষমতার সমপর্যায়ে না হলেও অন্তত এই মহাদেশের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হওয়া উচিত।#

পার্সটুডে/এসএ/১৯