ফ্রান্সে চলছে গণ আন্দোলন
ফ্রান্সের হৃদয়ে সংকট; দারিদ্র্য ও গৃহহীনতায় রেকর্ড
পার্সটুডে- নতুন এক গবেষণার ফলাফলে ফ্রান্সে দারিদ্র্যের রেকর্ডের তথ্য উঠে এসেছে। দেশটির বহু নাগরিক খাদ্য ও বাসস্থানের মতো মৌলিক জীবনযাপন-সংক্রান্ত প্রয়োজন মেটাতেও গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। গণ আন্দোলন চলার একই সময়ে গবেষণার এই তথ্য প্রকাশ পেল।
পার্সটুডে জানিয়েছে, নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্রান্সে চরম দারিদ্র্য নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাঁচ অর্থনীতিবিদ পরিচালিত এই গবেষণাটি ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় খাদ্য সহায়তা প্রদানকারী দাতব্য সংস্থা রেস্তো দ্যু কোর-এর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এতে ফ্রান্সের সমাজের একটি বড় অংশের জীবনযাত্রার সংকট এবং মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর কঠিন বাস্তবতার নতুন চিত্র উঠে এসেছে।
গত ৫ অক্টোবর সোমবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ‘চরম দারিদ্র্য’-এর কারণগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের বহু মানুষ শুধু বাসস্থানের সংকটেই ভুগছেন না, বরং সাধারণ খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতেও গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
আবাসন সংকট; দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি
জ্যাক বাগ নামের একজন ব্যক্তি গত ছয় বছর ধরে একটি দাতব্য কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন। তার মতে, চরম দারিদ্র্য বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে মানুষ খাবার ও বাসস্থানের মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে অক্ষম হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, তাঁদের সহায়তা নিতে আসা অনেক মানুষ জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র, সামাজিক আবাসন এমনকি রাস্তায় বসবাস করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের পর থেকে গৃহহীনতা ও আবাসন-অনিরাপত্তার সংকট দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ওই স্বেচ্ছাসেবকের মতে, প্যারিসে ভাড়া অত্যন্ত বেশি হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীও নিজেদের থাকার জায়গার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমনকি খাবারের জন্যও তাদের দাতব্য সংস্থাগুলোর দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।
দারিদ্র্যের দুষ্টুচক্র
প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়েছে, চরম দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসা এখন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। সহায়তা নিতে আসা অনেকেই নারী, যারা আইনি বা অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কাজ করার সুযোগ পান না। অথচ একই সময়ে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্বও বহন করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি এমন এক সতর্কবার্তা দিচ্ছে যে, বর্তমান দারিদ্র্য ও বঞ্চনার প্রভাব পরবর্তী প্রজন্মের ওপরও পড়তে পারে।#
পার্সটুডে/পার্সটুডে/৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।