আফগানিস্তানে রাজনৈতিক সংকটের সুযোগ নিচ্ছে তালেবানরা
https://parstoday.ir/bn/news/world-i17392-আফগানিস্তানে_রাজনৈতিক_সংকটের_সুযোগ_নিচ্ছে_তালেবানরা
আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে রাজধানী কাবুল ও এর আশেপাশে সম্প্রতি তালেবানের হামলা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
আগস্ট ১৬, ২০১৬ ১৫:১৩ Asia/Dhaka
  • আফগানিস্তানে রাজনৈতিক সংকটের সুযোগ নিচ্ছে তালেবানরা

আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে রাজধানী কাবুল ও এর আশেপাশে সম্প্রতি তালেবানের হামলা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।

তালেবান এক বিবৃতিতে কাবুলে মার্কিন দূতাবাসের কাছে বোমা বিস্ফোরণের দায়িত্ব স্বীকার করেছে। বিবৃতিতে তারা আরো দাবি করেছে, পূর্বাঞ্চলীয় নুরেস্তান প্রদেশের একটি উপশহরের সব নিরাপত্তা চৌকি এখন তালেবানের দখলে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নিমরোজ প্রদেশের কর্মকর্তারাও ওই প্রদেশের খাশরুদ উপশহর পতনের আশঙ্কা করেছেনে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তালেবান হামলায় এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে।

তালেবানরা এক সময় কেবল আফগানিস্তানের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছিল। কিন্তু এখন তারা দেশটির পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলেও প্রভাব বিস্তার করছে এবং আফগান সরকার, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। তালেবানরা এমন সময় আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা জোরদার করেছে যখন তাদের নেতা মোল্লা হাইবাতুল্লাকে আফগান জনগণ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ করে এবং আশা করেছিল এই ব্যক্তি সাধারণ মানুষ হত্যা করা থেকে তালেবানদেরকে বিরত রাখবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই গোষ্ঠীটি আফগানিস্তানের রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে হামলা চালিয়ে, গ্রাম শহর ও সামরিক ঘাঁটি দখল করে ও সাধারণ মানুষ হত্যা করে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণের চেষ্টা করছে। তালেবানরা এটা প্রমাণের চেষ্টা করছে যে, আফগান সেনাবাহিনী ও সেখানে মোতায়েন বিদেশী সেনাদের চাইতেও তাদের শক্তি বেশী।

বলা হচ্ছে, তালেবানরা পাকিস্তান থেকে তাদের ঘাঁটি আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশে স্থানান্তরের চেষ্টা করছে। তালেবানের এ উদ্যোগের ব্যাপারে অনেকেই ধারণা করছেন, পাকিস্তান সরকার হয়তো পাশ্চাত্যের চাপে পড়ে ঘাঁটি স্থানান্তরের জন্য তালেবানের ওপর চাপ দিচ্ছে। আফগানিস্তানে উৎপাদিত মাদকের ৯০ শতাংশই আসে হেলমান্দ প্রদেশ থেকে আর এটি রয়েছে তালেবানের নিয়ন্ত্রণে। তালেবানের আয়ের একটি বড় উৎস হচ্ছে মাদক উৎপাদন ও চোরাচালান।

আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তালেবান সৃষ্টিতে পাকিস্তানসহ রাজতন্ত্র শাসিত কয়েকটি আরব দেশ এমনকি আমেরিকারও ভূমিকা ছিল। ওই দেশগুলোর সহায়তায় গড়ে ওঠা তালেবান গোষ্ঠী হেলমান্দ প্রদেশ দখল করে আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থানের বিষয়টি প্রমাণের চেষ্টা করছে।

যদিও আমেরিকা সম্প্রতি তালেবানের অবস্থানের ওপর হামলা চালানোর দাবি করেছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামাও ওই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন কিন্তু আফগান নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি তালেবানের রক্তাক্ত হামলার ঘটনা থেকে বোঝা যায়, আফগানিস্তানের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে এবং এর পেছনে আমেরিকার হাত থাকার বিরাট আশঙ্কা রয়েছে। তাদের মতে, আফগান সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি অনুযায়ী আমেরিকার উচিৎ তালেবানের হামলা বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া।

যাইহোক বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রতি আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি এবং জাতীয় ঐকমত্য সরকারের নির্বাহী প্রধান আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহর মধ্যে মতবিরোধ তীব্র হয়ে ওঠায় তালেবানরা এটাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে এবং এরই মধ্যে তারা বেশ কিছু এলাকা দখল করেছে। এ অবস্থায় আফগানিস্তানে রাজনৈতিক বিরোধ চলতে থাকলে তালেবানরাই লাভবান হবে। #      

পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/১৬