নতুন মধ্যপ্রাচ্য গড়াই সিরিয়া যুদ্ধের লক্ষ্য: ইসরাইল
ইহুদিবাদী ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রী এভিগডোর লিবারম্যান সম্প্রতি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র, বিশেষ করে সিরিয়া ও ইরাকের সীমানা অবশ্যই বদলাতে হবে।
তিনি দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ মানচিত্র বর্তমান মানচিত্রের চেয়ে পুরোপুরি ভিন্ন ধরনের হবে।
লিবারম্যান বলেছেন, 'পাশ্চাত্য বহু আরব দেশের সীমান্ত ১০০ বছর আগে নির্ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর নানা যুদ্ধ থেকে বোঝা যায় এইসব সীমান্তের অনেক অংশেরই পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠেছে।'
ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রী আরও বলেছেন, 'মিশর আগের মতই টিকে থাকবে। কারণ, দেশটি একটি ঐতিহাসিক ও অপরিবর্তনীয় দেশ। কিন্তু লিবিয়ার বিষয়টি ভিন্ন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরিণতিতে পাশ্চাত্যের হাতে লিবিয়ার জন্ম হয়েছে। ইরাক ও সিরিয়ার অবস্থাও লিবিয়ার মতই। এই দেশগুলো, সেগুলোর সরকার ও জাতি হল কৃত্রিম এবং বর্তমানে এই দেশগুলোতে পশ্চিমা ধারণাগুলো ধসে পড়তে বাধ্য।'
মুসলমানদের প্রথম কিবলার দখলদার ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রী বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে পরিবর্তন আসার বিষয়ে সন্দেহ করবেন না, আসলে মধ্যপ্রাচ্যের সীমানাগুলো এরিমধ্যে বদলে গেছে।'
ইহুদিবাদী ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রী এমন সময় এ দাবি করলেন যখন এখন থেকে ১৬ বছর আগে মার্কিন সরকার ও দখলদার ইসরাইল এ অঞ্চলের মানচিত্রে পরিবর্তন আনার ব্যাপক ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছে। ইরাক ও আফগানিস্তানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে মার্কিন সরকার এবং লেবানন ও সিরিয়া সীমান্তে আগ্রাসন চালিয়ে বর্ণবাদী ইসরাইল এ অঞ্চলের মানচিত্রকে এলোমেলো করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সাম্প্রতিক সময়ে তারা সিরিয়া ও ইরাকে এবং উত্তর লেবানন ও ইয়েমেনে প্রক্সি যুদ্ধ শুরু করেছে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন ।
তারা আরও মনে করেন মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার জন্যই পাশ্চাত্য গড়ে তুলেছে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল এবং আইএসআইএল বা দায়েশসহ তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী কিছু গোষ্ঠী। আর এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই পাশ্চাত্য সিরিয়ার আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে বিদ্রোহী নানা গোষ্ঠী। #
পার্সটুডে/মু.আ.হুসাইন/৩১