৯/১১ ছিল আফগানিস্তান দখলে মার্কিন সরকারের অজুহাত: পাক রাষ্ট্রদূত
https://parstoday.ir/bn/news/world-i19894-৯_১১_ছিল_আফগানিস্তান_দখলে_মার্কিন_সরকারের_অজুহাত_পাক_রাষ্ট্রদূত
আমেরিকা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করা ছাড়া কথিত সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে নিজের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে নি। ৯/১১’র হামলা ও আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের ১৫ বছর পূর্তিতে আফগানিস্তানে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত রুস্তম শাহ মোহমান্দ তার এই বিশ্বাসের কথা বলেছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৬ ১৪:৪১ Asia/Dhaka
  • আফগানিস্তানে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত রুস্তম শাহ মোহমান্দ
    আফগানিস্তানে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত রুস্তম শাহ মোহমান্দ

আমেরিকা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করা ছাড়া কথিত সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে নিজের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে নি। ৯/১১’র হামলা ও আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের ১৫ বছর পূর্তিতে আফগানিস্তানে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত রুস্তম শাহ মোহমান্দ তার এই বিশ্বাসের কথা বলেছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আসলে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল কিংবা ওসামা বিন লাদেনকে লক্ষ্য করে আমেরিকা আফগানিস্তানে যুদ্ধ শুরু করে নি বরং তারা আফগানিস্তান দখল করে এই অঞ্চলে তাদের আধিপত্যবাদী উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চেয়েছিল।

রুস্তম শাহ বলেন, “চীন এবং আরো কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের ওপর তারা নজর রাখতে চেয়েছিল। পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচির ওপরও কড়া নজর রাখতে চেয়েছিল তারা। তবে এসব লক্ষ্য অর্জন করা সহজ নয়; তারা শুধু আফগানিস্তানকে ধ্বংস করে ফেলেছে।”

 

আফগান বিষয়ক এই বিশেষজ্ঞ আরো জানান, ৯/১১’র পর পুরো এলাকা অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে এবং আফগানিস্তান এখন বিধ্বস্ত। এই যুদ্ধ পাকিস্তানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

রুস্তম শাহ বলেন, “এ অঞ্চলে মেরুকরণ ঘটে গেছে। আফগানিস্তানের লোকজন এখন মনে করে দেশটির ভবিষ্যৎ আর তাদের হাতে নেই এবং তারা দেশ ত্যাগ করছে। আফগানিস্তানে দরিদ্রতা আছে, সংঘাত আছে। আফগানরা বিভক্ত এবং তাদের ভবিষ্যৎ আসলেই খারাপ মনে হচ্ছে।”

পাকিস্তানের এই বিশেষজ্ঞ জানান, আগের বছরগুলোর তুলনায় আফগানিস্তানে পপি উৎপাদন বেড়েছে। মার্কিনিরা আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতার প্রতি আগ্রহী নয়, যদি আগ্রহী থাকত তাহলে পপি চাষ বন্ধে তারা কিছু না কিছু করত। তার মতে, আফগানিস্তানে মানুষ আর নিরাপদ নেই। যদিও আফগানিস্তান এখনো ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান পাচ্ছে কিন্তু দেশটির আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য তা ব্যয় হচ্ছে না বরং এর সিংহভাগই ব্যয় করা হচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীর পেছনে। আফগানিস্তান এখন কোনো টেকসই রাষ্ট্র নয় বরং এখানে রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটেছে।

রুস্তম শাহ উল্লেখ করেন, “আফগানিস্তানে মার্কিন হামলা কেবল দেশটিকে ধ্বংসই করে নি, সেইসঙ্গে পাকিস্তানে অস্থিশীলতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে আফগান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের উপজাতি অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি করেছে।”

আফগানিস্তানে বিদেশী শক্তির উপস্থিতি যতদিন থাকবে ততদিন পাকিস্তানে শান্তি পুনরুদ্ধার করা যাবে না বলে উল্লেখ করেন পাকিস্তানের সাবেক এই রাষ্ট্রদূত।#

পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/১১