‘হত্যার নির্দেশটি দিয়েছিলেন সৌদি রাজা সালমানের মেয়ে’
https://parstoday.ir/bn/news/world-i21874-হত্যার_নির্দেশটি_দিয়েছিলেন_সৌদি_রাজা_সালমানের_মেয়ে’
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে একজন ডেকোরেটর ও পেইন্টারকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন সৌদি আরবের রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজের একমাত্র কন্যা হাসা। ৪২ বছর বয়সী রাজকন্যা হাসা নিজেই ওই পেইন্টারকে হত্যার জন্য তার দেহরক্ষীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে তদন্তে তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ব্রিটেনের ডেইলি মেইলের বরাত দিয়ে খবরটি দিয়েছে পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। এছাড়া, ব্রিটেনের ডেইলি সান এবং ইন্ডিপেন্ডন্টসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবরটি বের হয়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
অক্টোবর ০৩, ২০১৬ ১৫:২৪ Asia/Dhaka
  • সৌদি আরবের রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ
    সৌদি আরবের রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে একজন ডেকোরেটর ও পেইন্টারকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন সৌদি আরবের রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজের একমাত্র কন্যা হাসা। ৪২ বছর বয়সী রাজকন্যা হাসা নিজেই ওই পেইন্টারকে হত্যার জন্য তার দেহরক্ষীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে তদন্তে তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ব্রিটেনের ডেইলি মেইলের বরাত দিয়ে খবরটি দিয়েছে পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। এছাড়া, ব্রিটেনের ডেইলি সান এবং ইন্ডিপেন্ডন্টসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবরটি বের হয়েছে।

রাজকন্যা হাসা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে কূটনৈতিক দায়মুক্তির জন্য আবেদন করেছেন। ঘটনার পর তিনি ঘটনাস্থল প্যারিস থেকে পালিয়ে যান। কিন্তু তার দেহরক্ষীকে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দু রাত তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখার পর শনিবার বিচারকের সামনে হাজির করা হয়। তবে দেহরক্ষীর নাম এখনো প্রকাশ করা হয় নি।

আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে সহিংসতা, অপহরণ ও অপহরণে সহযোগিতাসহ নানা অভিযোগের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। হাসার দেহরক্ষীকে সম্ভবত ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে কারাদণ্ড দেয়া হবে।

এভিনিউ ফচ সড়ক

শনিবার বিচারকদের প্রশ্নের জবাবে দেহরক্ষী জানায়, ছবি তোলার সময় ফ্রান্সের পেইন্টার রাজকন্যা হাসার হাতে ধরা পড়েন এবং লোকটিকে সংযত করতে ‘ন্যূনতম প্রয়োজনীয়’ কাজটিই সে (দেহরক্ষী) করেছে। এছাড়া, কূটনৈতিক দেহরক্ষী বলে তার কাছে বহনযোগ্য অটোমেটিক পিস্তল ছিল এবং রাজকন্যা হাসাও ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে তার দেহরক্ষী নিশ্চিত করে। হাসা অভিযোগ করেছেন, ফ্রেঞ্চ পেইন্টার গণমাধ্যমের কাছে ছবিগুলো বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। দেহরক্ষীর আইনজীবী এলি হাতেমের বক্তব্য অনুসারে, অ্যাপার্টমেন্টে ২০ জনেরও বেশি লোক ছিল।

এদিকে, সৌদি রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল-সৌদের কন্যা হাসা আদালতে হাজির হন নি এবং তিনি কোনো অন্যায় কাজ করেন নি বা দোষী নন বলে পীড়াপীড়ি করছেন।

অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি মানসিক আঘাত ও তীব্রভাবে ভেঙে পড়ার কারণে এক সপ্তাহ ধরে কাজ বন্ধ রেখেছেন। এ ঘটনায় প্যারিসে সৌদি দূতাবাস কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।

নাম প্রকাশ না করা দেহরক্ষী ফ্রান্সের রাজধানীতে এ বছরের গ্রীষ্মের শুরুতেই পেইন্টারকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফ্রেঞ্চ পেইন্টার আর্ক ডি ট্রায়াম্পের দিকে যাওয়া এভিনিউ ফচ সড়কে গিয়েছিলেন কিছু মৌলিক সাজসজ্জার জন্য। কিন্তু যখন সৌদি রাজকন্যা তাকে তার স্মার্টফোনের ক্যামেরায় ছবি তুলতে দেখেন, তখন পেইন্টারের বিরুদ্ধে ছবিগুলো গণমাধ্যমে বিক্রি করতে চাওয়ার অভিযোগ তোলেন। রাজকন্যা হাসা তখন বলেছেন, “এই কুকুরকে হত্যা কর; এর বেঁচে থাকার অধিকার নেই।” তারপর পেইন্টারকে প্রহার ও বেঁধে ফেলার জন্য তার দেহরক্ষীকে আদেশ দেন এবং লোকটিকে তার পায়ে চুমু দিতে বাধ্য করেন। চারঘণ্টা আটকে রেখে পরে তাকে ফ্ল্যাট থেকে লাথি মেরে বের করে দেয়া হয় এবং ওই এলাকায় আর কখনো না যাওয়ার নির্দেশ দেন রাজকন্যা হাসা।#

পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/৩