শাহাদাত ও বিজয় সম্পর্কে ইমামের সেই অমর চিঠি!
https://parstoday.ir/bn/news/world-i22399-শাহাদাত_ও_বিজয়_সম্পর্কে_ইমামের_সেই_অমর_চিঠি!
১৩৭৭ চন্দ্র-বছর আগে এ দিনে তথা ৬১ হিজরির ৬ মহররম ইমাম হুসাইন (আ) তাঁর অন্যতম সৎভাই মুহাম্মাদ আল হানাফিয়্যা ও মদিনায় বিশ্বনবীর (সা) আহলে বাইতের অনুরাগীদের কাছে একটি সংক্ষিপ্ত চিঠি পাঠান।
(last modified 2026-04-22T13:03:21+00:00 )
অক্টোবর ০৮, ২০১৬ ২১:৫৪ Asia/Dhaka
  • শাহাদাত ও বিজয় সম্পর্কে ইমামের সেই অমর চিঠি!

১৩৭৭ চন্দ্র-বছর আগে এ দিনে তথা ৬১ হিজরির ৬ মহররম ইমাম হুসাইন (আ) তাঁর অন্যতম সৎভাই মুহাম্মাদ আল হানাফিয়্যা ও মদিনায় বিশ্বনবীর (সা) আহলে বাইতের অনুরাগীদের কাছে একটি সংক্ষিপ্ত চিঠি পাঠান।

ওই চিঠিতে তিনি জোর দিয়ে লিখেছেন যে, ‘যারা আমার সঙ্গে যোগ দেবেন (কারবালায়) তারা অবশ্যই শহীদ হবেন, আর যারা যোগ দেবে না, তারা বিজয়ী হবে না।’

এ চিঠি থেকে বোঝা যায় ইমাম জানতেন যে, ইয়াজিদি-শাসনের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবস্থান নেয়ার কারণে তিনি ও তাঁর অনুগত সঙ্গীরা শহীদ হবেন। এ চিঠির দ্বিতীয় বার্তা হল যাদের ঈমান দুর্বল বা নড়বড়ে এবং যারা আমার সঙ্গী হয়েছে দুনিয়ার কিছু পাওয়ার আশায়- তারা এখনই আমার শিবির ছেড়ে চলে যাও। ইমাম এ জন্যই  মক্কা থেকে কুফার উদ্দেশে সফর শুরু করার পর থেকে নানা সময়ে নিজ কাফেলার সঙ্গীদেরকে বলেছেন যে আমি তোমাদের কাছ থেকে পাওয়া আনুগত্যের প্রতিজ্ঞা বা বাইয়াতের বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে নিচ্ছি, তোমরা স্বাধীন, ইচ্ছে করলেই কোনো দ্বিধা ছাড়াই আমাকে ত্যাগ করতে পার।

মদিনা থেকে মক্কা হয়ে ইরাক অভিমুখে ইমাম হুসাইন (আ)'র সফরের শুরুর দিকে কয়েক হাজার মুসলমান ইমামের কাফেলার সঙ্গী হয়েছিল। কিন্তু যখন এটা স্পষ্ট হয় যে, ইমামের এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে পার্থিব কোনো স্বার্থ হাসিল করা যাবে না তখন দলে দলে বহু মুসলমান ইমামকে ছেড়ে চলে যায়।

এ চিঠির তৃতীয় বার্তা হল, যারা ইমামকে শহীদ করবে ও তাঁর সন্তানদের এবং পরিবারের নারীদের বন্দি করবে তারা যত বিজয়-উল্লাস বা উৎসবই করুক না কেন তাদের ভাগ্যে বিজয় নেই। যেমনটি ইতিহাসে দেখা গেছে নবী-পরিবারের সদস্য এবং তাঁদের পক্ষের বীর যোদ্ধাদের প্রায় প্রত্যেক ঘাতকই খুবই শিগগিরই কঠোর ও অপমানজনক শাস্তি পেয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। যেমন, ইয়াজিদ বাহিনীর অন্যতম কমান্ডার ওমর সা’দ, শিমার ও কুফার গভর্নর ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ ও দামেস্কের তথাকথিত খলিফা ইয়াজিদ ইহকালেই কঠোর শাস্তি পেয়েছিল।

এ চিঠির চতুর্থ বার্তা এটাও হতে পারে যে, কারবালার শহীদদের নিষ্পাপ রক্তের বদলা নেয়ার জন্য  বিশ্বনবীর (সা) আহলে বাইতের অনুরাগীরা বার বার যেসব গণ-জাগরণ ঘটিয়েছেন তাতে সাফল্যের মাত্রা একই ধরনের ছিল না এবং সেসব কেবল অস্ত্র বা তরবারির জোরেই সংঘটিত হয়নি। অর্থাৎ কেবল অস্ত্র বা তরবারি দিয়ে পূর্ণ বিজয় অর্জন সম্ভব নয়।

এ চিঠির অন্যতম অন্যতম তাৎপর্য এটাও হতে পারে যে, যুগে যুগে যারা ইমাম হুসাইনের (আ) মতই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন তারা হয় শহীদ বা গাজি তথা বিজয়ী হবেন, অন্যদিকে যারা রুখে দাঁড়াবেন না বা আপোষ করবেন তারা হবেন লাঞ্ছিত ও অপমানিত এবং জালিম শক্তিগুলো কখনও প্রকৃত বিজয় অর্জন করতে পারবে না। #

পার্সটুডে/মু.আ.হুসাইন/৮