ভারতের অমৃতসরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অদ্ভুত ধরণের: সারতাজ আজিজ
-
সারতাজ আজিজ
ভারতের অমৃতসরে ‘হার্ট অব এশিয়া’ সম্মেলনে যোগ দিয়ে দেশে ফেরার পর ভারতের বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ।
তিনি বলেন, অমৃতসরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অদ্ভুত ধরণের। তিনি যে হোটেলে ছিলেন সেখানে পাক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে বাধা দেয়া হয়। তিনি অন্য হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের পরিকল্পনা করলেও তাতেও বাধা দেয়া হয়।
আজিজ বলেন, তিনি যখন ভারতে পৌঁছেছিলেন তখনও অমৃতসর বিমানবন্দরে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তাকে স্বর্ণ মন্দিরেও যেতে দেয়া হয়নি।
সারতাজ আজিজ বলেন, আবহাওয়া খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় এক দিন আগেই তিনি ভারতে পৌঁছেছিলেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং উপস্থিত মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কিন্তু কোনো বিষয়ভিত্তিক কোনো আলোচনা হয়নি। তার মতে, ভারতে যতদিন বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচন শেষ না হবে ততদিন দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এভাবেই চলবে।
পাক গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ভারতে নিযুক্ত পাক হাই কমিশনার আব্দুল বাসিতকেও পাকিস্তানি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে বাধা দেয়া হয়েছে। এ সময় বাসিত আলাদাভাবে বলেন, কাশ্মির সমস্যার সমাধান ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি আসতে পারে না। কাশ্মিরিদের ইচ্ছানুসারে কাশ্মির ইস্যু নিষ্পত্তি করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে প্রকাশ, ‘হার্ট অব এশিয়া’ সম্মেলন চলাকালীন কিছু পাক সাংবাদিক হাই কমিশনার আব্দুল বাসিতের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন। এ সময় নিরাপত্তার প্রটোকল অনুসারে নিরাপত্তা কর্মীরা তাতে আপত্তি জানান। পাক সাংবাদিকরা বলেন, তারা বাসিতের সঙ্গে দেখা করে স্রেফ দোয়া-সালাম জানাবেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অবশ্য অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তাদের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন। ওই ঘটনার পরেই ক্ষুব্ধ হন আব্দুল বাসিত।
তিনি বলেন, ‘কেউ আমাকে পাকিস্তানি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে বাধা দিতে পারে না, এটা সম্পূর্ণ স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এরা আমাদের লোক, আমি যেকোনো সময়ে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারি।’ বাসিতের অসন্তুষ্টি দেখে অবশেষে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অনুমতি দেন।
অন্যদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে সারতাজ আজিজের স্বর্ণ মন্দিরে যেতে সমস্যা প্রসঙ্গে সাফাই দিয়ে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের স্বর্ণ মন্দিরে যাওয়ার অনুরোধ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু কম সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা সম্ভব ছিল না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে প্রকাশ, ‘হার্ট অব এশিয়া’য় অংশ নেয়া বিশিষ্টদের জন্য রোববার স্বর্ণ মন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু এ দিন গুরু তেগ বাহাদুরের শহীদ দিবসও ছিল। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সমস্যা ছাড়াও এদের যাওয়ার ফলে পুণ্যার্থীরাও অসুবিধায় পড়তেন। সেজন্য দুই দফায় বিশিষ্ট অতিথিদের শনিবারই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৫