ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের আশঙ্কা কতখানি বাস্তবসম্মত?
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর যেকোনো ধরনের আপোষের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মস্কোর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ হবে বোকামির শামিল যার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
নয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বা মস্কোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কমানোর যে ইঙ্গিত দিয়েছেন তার পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন। ট্রাম্প নির্বাচনি প্রচারাভিযানের সময় রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংকট সমাধানে ওয়াশিংটন-মস্কো দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। এমনকি তিনি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার তুলনায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে শক্তিশালী ও মহান নেতা বলেও উল্লেখ করেন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ক্রিমিয়ার ওপর রাশিয়ার মালিকানাকে স্বীকৃতি দেয়া কিংবা সিরিয়া সংকটে রাশিয়ার অবস্থান সমর্থন করার মতো যেসব ঘোষণা ট্রাম্প নির্বাচনি প্রচারাভিযানের সময় দিয়েছিলেন তা মস্কোকে ব্যাপকভাবে খুশি করেছিল। ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর রাশিয়া তাকে অভিনন্দন জানিয়ে সে খুশির বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে ক্রিমিয়া সংকটকে কেন্দ্র করে মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে যে ক্ষত তৈরি হয়েছিল তা সারিয়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর গত একমাসে তার নয়া প্রশাসনের কর্মপরিকল্পনায় দেখা যাচ্ছে, রাশিয়ার প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহে ভাটা পড়েছে। নয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, রাশিয়া ক্রিমিয়া ত্যাগ না করা পর্যন্ত মস্কোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না। অন্যদিকে রাশিয়াও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ক্রিমিয়া রুশ ফেডারেশনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এ ব্যাপারে কারো সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলবে না মস্কো।
এদিকে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে গোপন যোগাযোগের জের ধরে ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদত্যাগ করার পর এখন নয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেশপ্রেম প্রমাণের সময় এসে গেছে। তাই এখন তিনি আর রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে তো পারবেনই না; বরং উল্টো মস্কোর বিরুদ্ধে তাকে আরো কঠোর ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।
স্বাভাবিকভাবেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে বারাক ওবামার শাসনামলে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে মস্কোর সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক আশা করতে পারে না ওয়াশিংটন।
পরিস্থিতি যখন এই, তখন ইউক্রেনের পাশ্চাত্যপন্থি প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে যে সতর্কতা উচ্চারণ করা হয়েছে তাতে প্রমাণিত হয়, পোরোশেঙ্কো এখনো এই আশঙ্কা করছেন যে, ট্রাম্প তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণ করে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে চান। বিশেষ করে নয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্রিমিয়ার ওপর রুশ মালিকানাকে চিরতরে স্বীকৃতি দিয়ে দেন কিনা সেই ভয়ে শঙ্কিত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, চিরশত্রু রাশিয়ার ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসনে যে চিরাচরিত কঠোর অবস্থান রয়েছে তা ডিঙিয়ে মস্কোর সঙ্গে রাতারাতি সম্পর্ক স্বাভাবিক করে ফেলা ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে সম্ভব হবে না।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৮