সংকট ইউক্রেনে; টানাপড়েন মস্কো এবং ওয়াশিংটনে
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইউক্রেনের যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে মিনস্কে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি মেনে চলার জন্য ইউক্রেন সরকার ও দেশটির পূর্বাঞ্চলে তৎপর সশস্ত্র বিদ্রোহীদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। শুক্রবার পূর্ব ইউক্রেনে মোতায়েন ইউরোপের পর্যবেক্ষক দলের ওপর হামলার পর এ আহ্বান জানানো হলো।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই বিবৃতিতে ইউক্রেন সংকটের ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন নয়া মার্কিন প্রশাসনের নীতি-অবস্থান আবারো স্পষ্ট হয়েছে। এর আগে চলতি মাসের গোড়ার দিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি ক্রিমিয়া প্রজাতন্ত্র থেকে সরে যাওয়ার জন্য রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, মস্কো যতদিন ক্রিমিয়াকে ‘দখল’ করে রাখবে ততদিন এই সংকটকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নীতিই অনুসরণ করছে। কিন্তু ট্রাম্প নির্বাচনি প্রচারণায় রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের আশ্বাস দেয়ার কারণে মস্কোয় এ ব্যাপারে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে তা মিইয়ে যেতে শুরু করেছে। রাশিয়া এ ব্যাপারে পাল্টা কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। রুশ পার্লামেন্টের সিনিয়র সিনেটর অ্যালেক্সি পুশকভ বলেছেন, ক্রিমিয়ার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন না হয়ে নিকি হ্যালির বরং উচিত ইরাকে দায়েশ সন্ত্রাসীদের অপরাধযজ্ঞের দিকে মনোনিবেশ করা। পুশকভ এ বক্তব্যের মাধ্যমে দায়েশের প্রতি আমেরিকার প্রকাশ্য ও গোপন সহযোগিতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
যাই হোক, ইউক্রেনের ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি-অবস্থান প্রমাণ করছে ওয়াশিংটন আগের মতোই কিয়েভের পাশ্চাত্যপন্থি সরকারকে সমর্থন দিয়ে যেতে চায়। গত কয়েক বছরে মার্কিন সরকার ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ও সামরিক সাহায্য দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলেও এ সাহায্য অব্যাহত থাকবে বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা।
কিন্তু তারপরও ইউক্রেন সরকার এখনো আশঙ্কা করছে, মার্কিন সরকারের সমর্থন যেকোনো সময় কিয়েভের কাছ থেকে সরে মস্কোর কাছে চলে যেতে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো গত সপ্তাহে রাশিয়ার সঙ্গে যেকোনো আপোষের ব্যাপারে পাশ্চাত্যকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, মস্কোর প্রতি সুর নরম করা হবে বোকামি যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
ওয়াশিংটন মস্কোর বিরুদ্ধে যত ব্যবস্থাই নিক না কেন পোরোশেঙ্কো আসলে রাশিয়ার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কিছু বক্তব্যে শঙ্কিত হয়ে রয়েছেন। ট্রাম্প নির্বাচনি প্রচারণায় বলেছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে ক্রিমিয়ার ওপর রুশ মালিকানাকে স্বীকৃতি দিতে পারেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্য কিয়েভকে উদ্বিগ্ন এবং মস্কোকে খুশি করেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প ইউক্রেন সংকটের ব্যাপারে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন তাতে এই ইস্যুতে তার প্রশাসনের আচরণে অনেকাংশে ভারসাম্য এসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে ট্রাম্প যাই বলুন না কেন ক্ষমতা গ্রহণ করে তিনি বাস্তবতা বুঝতে পেরেছেন এবং কোথায় কি করতে বা বলতে হবে তা শিখেছেন। এর ফলে নয়া মার্কিন প্রশাসনের ব্যাপারে মস্কোর আশাবাদে যেমন ভাটা পড়েছে তেমনি এ ব্যাপারে ওয়াশিংটনের যুদ্ধবাজ নেতাদের উদ্বেগও অনেকাংশে কেটে গেছে।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৭