ইউক্রেনে মার্কিন সমরাস্ত্র পাঠানোর সম্ভাব্য পরিণতি
https://parstoday.ir/bn/news/world-i33750-ইউক্রেনে_মার্কিন_সমরাস্ত্র_পাঠানোর_সম্ভাব্য_পরিণতি
ইউক্রেনে সমরাস্ত্র পাঠানোর মার্কিন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে রাশিয়া। মস্কো বলেছে, ওয়াশিংটন এ কাজ করলে তা পূর্ব ইউরোপে আরেকটি বেদনাদায়ক ঘটনার সূচনা ঘটাতে পারে।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
মার্চ ০১, ২০১৭ ১২:১৮ Asia/Dhaka

ইউক্রেনে সমরাস্ত্র পাঠানোর মার্কিন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে রাশিয়া। মস্কো বলেছে, ওয়াশিংটন এ কাজ করলে তা পূর্ব ইউরোপে আরেকটি বেদনাদায়ক ঘটনার সূচনা ঘটাতে পারে।

রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, মার্কিন কংগ্রেস সম্প্রতি ইউক্রেনে বিধ্বংসী অস্ত্রসস্ত্র পাঠানোর দাবি জানিয়েছে।  তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে হোয়াইট হাউজের জেনে রাখা উচিত, এ কাজ করা হলে এ অঞ্চলের পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে এবং তার পুরো দায় ওয়াশিংটনকে নিতে হবে।

সম্প্রতি মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির সভাপতি জন ম্যাক কেইন এবং প্রতিনিধি পরিষদের একই কমিটির সভাপতি ম্যাক থর্নবেরি ইউক্রেনে সমরাস্ত্র পাঠানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেনে সমরাস্ত্র পাঠানোর বিষয়টি মস্কোর নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে দেশটি এ ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।

২০১৪ সালে আমেরিকা ও ইউরোপের প্রত্যক্ষ মদদে পেত্রো পোরোশেঙ্কোর পাশ্চাত্যপন্থি সরকার ইউক্রেনের ক্ষমতায় আসে। সে সময় মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মস্কোর সম্পর্কে তীব্র টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। রাশিয়াও এক গণভোটের মাধ্যমে ক্রিমিয়া প্রজাতন্ত্রকে নিজ ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত করে ঘোষণা করে, ইউক্রেনে পাশ্চাত্যপন্থি অভ্যুত্থানের জবাবে এ কাজ করা হলো।  

এর প্রতিক্রিয়ায় আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেইসঙ্গে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে ভারী অস্ত্রসস্ত্র ও গোলাবারুদ মোতায়েন করে। মস্কোও পাল্টা ইউরোপের সঙ্গে নিজের সীমান্তবর্তী এলাকায় অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি সামরিক মহড়া চালায়।

এসব ঘটনা প্রমাণ করে, রাশিয়ার সঙ্গে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। রুশ উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, শীতল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক এত খারাপ আর কখনোই হয়নি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, ক্রিমিয়া সংকটকে কেন্দ্র করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে এই উত্তেজনা  শুরু হলেও বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলেও তা অব্যাহত রয়েছে। অথচ ট্রাম্প নির্বাচনি প্রচারণার সময় মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এই মুহূর্তে ইউক্রেন পূর্ব ইউরোপে রাশিয়া ও আমেরিকার শত্রুতা প্রকাশের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে।  মস্কোর দৃষ্টিতে ইউক্রেন হচ্ছে রাশিয়ার রেড লাইন এবং ওয়াশিংটন এই ইউক্রেনকে ব্যবহার করে নিজের পুরনো শত্রু  রাশিয়াকে দুর্বল করে ফেলতে চায়। এ অবস্থায় ইউক্রেনে মার্কিন সমরাস্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে মস্কো যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তা নিয়ে পূর্ব ইউরোপে যদি নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয় তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১