লন্ডনে হামলাকারী সৌদি আরবে শিক্ষকতা করেছেন
-
খালিদ মাসুদের মরদেহ ও ফাইল ফটো
ব্রিটেনের পার্লামেন্টের বাইরে সন্ত্রাসী হামলার জড়িত খালিদ মাসুদ সৌদি আরবে ইংরেজি শিক্ষকতা করেছেন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন তিনি।
খালিদ মাসুদের জীবন বৃত্তান্তের ভিত্তিতে এ খবর দিয়েছে ব্রিটেনের দৈনিক সান। ধারাবাহিক অপরাধ তৎপরতা জড়িত থাকার দায়ে ১৯৮৩ সালে ১৯ বছর বয়সে দোষী সাব্যস্ত হয় মাসুদ। ২০০৩ সাল পর্যন্ত নানা অপরাধ তৎপরতায় জড়িত ছিলেন তিনি। এর এক বছর আগে টিইএসওএল সার্টিফিকেট অর্জন করে এবং এর জোরে সৌদি আরবে শিক্ষকতার চাকরি পান। ২০০৫ সালে মাসুদ সৌদি নগরী ইয়ানবুতে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং পরে জেদ্দার সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা জিএসিএ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন।
২০০৯ সালে ব্রিটেনে ফিরে আসেন তিনি। এর পাঁচ মাস পরে সিনিয়র ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে লুটনের টিইএফএল কলেজে যোগ দেন মাসুদ।
লন্ডনের সৌদি দূতাবাস টুইটারে দেয়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, সৌদি আরবে থাকার সময়ে মাসুদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সেখানে থাকার সময় কোনো অপরাধ তৎপরতায়ও জড়িত ছিলেন না।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সহিংস উগ্রবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫ মাসুদের বিরুদ্ধে তদন্তও চালিয়েছে। তবে তাকে হুমকি হিসেবে মনে করে নি এমআই৫। তার ওপর নজরদারিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।
এদিকে এ হামলার দায় স্বীকার করেছে তাকফিরি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী দায়েশ। দায়েশের সংবাদ সংস্থা হিসেবে পরিচিত আমাক নিউজ এজেন্সি বৃহস্পতিবার দায়েশের এ সংক্রান্ত বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে হামলাকারীকে দায়েশের ‘সৈনিক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বুধবার বিকেলে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের অধিবেশন চলাকালে মাসুদ একটি প্রাইভেটকার চালিয়ে ওয়েস্টমিনস্টার সেতুতে পথচারীদের ওপর তুলে দেন। এরপর রেলিংয়ের সঙ্গে গাড়িটির ধাক্কা লাগে। সেখান থেকে নেমে তিনি ওয়েস্টমিনস্টার প্রাসাদের ফটকের ভেতরে চলে যান এবং এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত করেন। এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্য একজন নারীও ছিলেন।#
পার্সটুডে/মূসা রেজা/২৫