রোহিঙ্গাদের ফেরার জন্য এই মুহূর্তে রাখাইন নিরাপদ নয়: জাতিসংঘ
https://parstoday.ir/bn/news/world-i48859-রোহিঙ্গাদের_ফেরার_জন্য_এই_মুহূর্তে_রাখাইন_নিরাপদ_নয়_জাতিসংঘ
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলেছে, “এই মুহূর্তে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের ফেরার এবং বসবাসের জন্য নিরাপদ নয়। এখনও অনেক মানুষ পালাচ্ছে। বহু মানুষ সহিংসতা আর ধর্ষণের শিকার হয়ে মারাত্মক মানসিক আঘাতের মধ্যে পড়েছে। অনেকে নিজের চোখের সামনে বন্ধু স্বজনদের খুন হতে দেখেছে। বেশিরভাগই তাদের সহায় সম্বল হারিয়েছে, তাদের ঘরবাড়ি, গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।”
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
নভেম্বর ২৪, ২০১৭ ২২:৪৬ Asia/Dhaka
  • এখনও বাংলাদেশে আসছে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা
    এখনও বাংলাদেশে আসছে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলেছে, “এই মুহূর্তে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের ফেরার এবং বসবাসের জন্য নিরাপদ নয়। এখনও অনেক মানুষ পালাচ্ছে। বহু মানুষ সহিংসতা আর ধর্ষণের শিকার হয়ে মারাত্মক মানসিক আঘাতের মধ্যে পড়েছে। অনেকে নিজের চোখের সামনে বন্ধু স্বজনদের খুন হতে দেখেছে। বেশিরভাগই তাদের সহায় সম্বল হারিয়েছে, তাদের ঘরবাড়ি, গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।”

ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র আদ্রিয়ান এডওয়ার্ড শুক্রবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরার পথ তৈরি করতে বৃহস্পতিবার নেপিডোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলরের দপ্তরের মন্ত্রী কিয়া তিন্ত সোয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন করে দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা এবং এজন্য যত দ্রুত সম্ভব একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে সমঝোতা স্মারকে।

তবে, ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র আদ্রিয়ান এডওয়ার্ড জানান, ওই সমঝোতা স্মারকে কী আছে- তা এখনও তারা দেখেননি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সহিংসতার শিকার হওয়া মিয়ানমারের ওই জনগোষ্ঠীর রাখাইনে ফেরার বিষয়টি যেন স্বেচ্ছায় এবং নিরাপদে হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বলেন, “প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অবশ্যই আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে এবং এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত।”  

অং সান সু চি'র সঙ্গে করমর্দন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী

এদিকে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) শরণার্থী অধিকার বিভাগের পরিচালক বিল ফ্রেলিক বলেছেন, অস্ত্র হাতে মিয়ানমার এখন রোহিঙ্গাদের তাদের গ্রামে স্বাগত জানাবে- এটি ‘হাস্যকর’ একটি ভাবনা।  

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রত্যাবাসন হতে দেয়া যাবে না। রোহিঙ্গাদের রাখাইনে নিয়ে ক্যাম্পে রাখার পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে। তারা যাতে তাদের গ্রাম আর জমি ফিরে পায়, সেখানে যাতে নতুন ঘরবাড়ি গড়ে ওঠে- তাও নিশ্চিত করতে হবে।”   

এইচআরডব্লিউ'র শরণার্থী অধিকার বিভাগের পরিচালক বিল ফ্রেলিক

অন্যদিকে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের শরণার্থী ও উদ্বাস্তু অধিকার বিভাগের পরিচালক চার্মেইন মোহাম্মদ বলেছেন, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এড়িয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোনো আলোচনাই অর্থপূর্ণ হবে না।     

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে নতুন করে সেনাবাহিনী দমন অভিযান শুরুর পর সোয়া ছয় লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। এছাড়া, আগে থেকেই চার লাখের মতো রোহিঙ্গা কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে। #

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৫