বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করলেন পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/world-i48959-বিক্ষোভের_মুখে_অবশেষে_পদত্যাগ_করলেন_পাকিস্তানের_আইনমন্ত্রী
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ইসলামাবাদে তীব্র বিক্ষোভে মুখে আজ (সোমবার) পদত্যাগ করেছেন পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী জাহিদ হামিদ। গতকাল (রোববার) রাতভর সরকার ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দীর্ঘ এক বৈঠকের পর পদত্যাগের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে পাকিস্তানের পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পিটিভির খবরে বলা হয়েছে।
(last modified 2026-06-27T09:59:16+00:00 )
নভেম্বর ২৭, ২০১৭ ০৮:৫২ Asia/Dhaka
  • পাকিস্তানের পদত্যাগী আইনমন্ত্রী জাহিদ হামিদ
    পাকিস্তানের পদত্যাগী আইনমন্ত্রী জাহিদ হামিদ

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ইসলামাবাদে তীব্র বিক্ষোভে মুখে আজ (সোমবার) পদত্যাগ করেছেন পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী জাহিদ হামিদ। গতকাল (রোববার) রাতভর সরকার ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দীর্ঘ এক বৈঠকের পর পদত্যাগের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে পাকিস্তানের পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পিটিভির খবরে বলা হয়েছে।

পিটিভির বরাত দিয়ে পাকিস্তানের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ডন জানিয়েছে, জাহিদ হামিদ প্রধানমন্ত্রী শহীদ খাকান আব্বাসীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁর এই পদত্যাগ শিগগিরই অনুমোদন করা হবে বলে সরকারি সূত্রগুলো বলছে।

সরকারী সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে পিটিভি জানিয়েছে, রাজ্যকে ‘চলতি সংকট’ থেকে রক্ষা করতে নিজ ইচ্ছাতেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছেন জাহিদ হামিদ।

‘তেহরিকে লাব্বাইক ইয়া রাসুলুল্লাহ’ সংগঠনের বিক্ষোভ

প্রসঙ্গত, হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে ‘খতমে নবুয়ত’ বা শেষ নবী ও রাসূল হিসেবে বিশ্বাসের বিষয়ে পাকিস্তানের নির্বাচনি আইন অনুযায়ী অঙ্গীকার করতে হয়। কিন্তু সম্প্রতি সংশোধিত ‘নির্বাচনি আইন-২০১৭’ থেকে এ বিষয়টি বাদ দেয়া হয়। এ নিয়ে পাকিস্তানের সংসদসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে খতমে নবুয়তের বিষয়টি ভুলক্রমে বাদ পড়েছে জানিয়ে এটি পুনর্বহাল করে পার্লামেন্ট।

কিন্তু আইনমন্ত্রী জাহিদ হামিদকে এই ভুলের জন্য দায়ী করে তার পদত্যাগ ও বিচারের দাবিতে ইসলামাবাদের ফয়জাবাদ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে ‘তেহরিকে লাব্বাইক ইয়া রাসুলুল্লাহ’।

মুখোমুখি অবস্থানে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীরা

প্রায় তিন সপ্তাহের অবস্থান ধর্মঘটে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ও অন্যতম শহর রাওয়ালপিন্ডি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তাদের সরাতে নিরাপত্তা বাহিনী পদক্ষেপ নিলে গত শনিবার সংঘর্ষ বাধে। এতে ছয়জন নিহত হন। আহত হন ২০০ জন। দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এরপরও সরে যাননি ধর্মীয় দলগুলোর সমর্থকেরা। বরং বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে করাচি, লাহোর ও পেশোয়ারে।

এ পরিস্থিতিতে শনিবার রাতেই সেনাবাহিনী তলব করা হয়। কিন্তু সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া বলেছেন, “দেশের জনগণের বিরুদ্ধে শক্তি ব্যবহার করা সরকারের উচিত হবে না।”

পাক সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া (বামে) ও প্রধানমন্ত্রী শাহীদ খাকান আব্বাসি

রোববার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে জেনারেল বাজওয়া এ কথা বলেছেন। তবে তিনি বলেন, সরকার সংবিধানের ২৪৫ অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে সেনা মোতায়েন করতে চায় এবং তাতে তিনি সম্মতি দিচ্ছেন। তবে সেনারা রাষ্ট্রীয় ভবন ও স্থাপনা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে; ধর্মঘটকারীদের উচ্ছেদের জন্য শক্তি প্রয়োগ করবে না। বরং রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা করা হবে। এরই অংশ হিসেবে আজ আইনমন্ত্রী জাহিদ হামিদ পদত্যাগ করলেন।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৭