ট্রাম্পের অভিযোগে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান: কোন দিকে যাচ্ছে দু'দেশের সম্পর্ক?
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসি তার দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অভিযোগকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তায় কোনো সংকট তৈরি হয়নি। এদিকে, পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রণালয় ইসলামাবাদকে অর্থ সহায়তা বন্ধের মার্কিন হুমকির প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, আমেরিকার এ পদক্ষেপ পাকিস্তানের অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন বছরের শুরুতে প্রথম টুইট বার্তায় উগ্র সন্ত্রাসীদেরকে আশ্রয় দেয়ার জন্য পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করে ইসলামাবাদকে দেয়া অর্থ সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়েছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা নীতি ঘোষণা করেন যাতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করেন। তবে পাকিস্তানের সরকার ও জনগণ ট্রাম্পের এসব অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লুউ বুশের সময় থেকে সন্ত্রাসবাদ এবং আফগানিস্তানে সহযোগিতা বিষয়ে আমেরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছে। ২০০৬ সালে মার্কিন সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের চোরাবালিতে আটকে যাবার পর মার্কিন সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ এবং আফগানিস্তানে উগ্রপন্থীদের মোকাবেলায় ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি গ্রহণের অভিযোগ তোলেন। পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ যদিও ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন হামলায় সহযোগিতা করেছিলেন এবং প্রেসিডেন্ট বুশও পাকিস্তানকে ন্যাটোর বাইরের ঘনিষ্ঠ মিত্রের মর্যাদা দিয়েছিলেন কিন্তু তারপরও সেই ঘনিষ্ঠতা বেশিদিন টিকেনি।
পাকিস্তানের সামরিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ তালাআত মাসুদ বলেছেন, "আমেরিকা আফগানিস্তানে শান্তি চায় না বরং তারা ওই দেশটিতে নিজেদের অবস্থান আরো জোরদার করার চেষ্টা করছে।" পাকিস্তান আশা করেছিল আফগানিস্তানে আমেরিকাকে সহযোগিতার বিনিময়ে আফগানিস্তানের রাজনৈতিক কাঠামোয় তালেবানদেরকে জায়গা করে দিতে পারবে এবং ওই দেশটিতে ভারতের প্রভাবও ঠেকাতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি বরং আমেরিকা দেখিয়ে দিয়েছে, ওই অঞ্চলের রাজনীতিতে তারা ভারতকেই অগ্রাধিকার দিবে যা ইসলামাবাদকে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকা অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতাকে পাকিস্তানের ওপর চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা অর্থনৈতিক সহযোগিতা বন্ধ করে দিলে পাকিস্তানকে আফগানিস্তান বিষয়ে মার্কিন নীতি মেনে নিতে বাধ্য করা যাবে। কিন্তু আফগানিস্তানের জটিল পরিস্থিতি এবং পাকিস্তানের তালেবানের ওপর ইসলামাবাদের প্রভাব প্রভাব থাকার কারণে চলমান দ্বন্দ্বে পরাজিত হয়েছে ওয়াশিংটন।
যাইহোক, পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহল ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে স্বাধীন নীতি গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কারণ আমেরিকার প্রতি পাকিস্তানের নির্ভরশীলতার কারণে দেশটির সামরিক ও অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৪