সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর বিষয়ে তীব্র বিরোধিতার মুখে পাকিস্তান সরকার
https://parstoday.ir/bn/news/world-i53361-সৌদি_আরবে_সেনা_পাঠানোর_বিষয়ে_তীব্র_বিরোধিতার_মুখে_পাকিস্তান_সরকার
পাকিস্তানের মজলিশ ওয়াহদাতুল মুসলিমিন দলের মহাসচিব নাসের আব্বাস জাফরি সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে একে সে দেশের নীতি বিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৮ ১৪:৫৮ Asia/Dhaka

পাকিস্তানের মজলিশ ওয়াহদাতুল মুসলিমিন দলের মহাসচিব নাসের আব্বাস জাফরি সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে একে সে দেশের নীতি বিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সৌদি আরবে নতুন করে পাকিস্তানি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তিনি বলেছেন, রিয়াদের উচিত পবিত্র হারামাইন শরীফ রক্ষার চিন্তা বাদ দিয়ে ইয়েমেন সংকটের অবসান ঘটানো। এর আগেও সৌদি সরকার ইয়েমেন যুদ্ধে যোগ দেয়ার জন্য পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের প্রতি অনুরোধ করেছিল। কিন্তু অভ্যন্তরীণ প্রচণ্ড সমালোচনা ও বিরোধিতার কারণে তিনি রিয়াদের ওই আহ্বানে সাড়া দেননি। কিন্তু সৌদি আরবকে সন্তুষ্ট করার জন্য পাক সরকার সৌদি আরবে নতুন করে আরো সেনা পাঠাতে সম্মত হয়েছে। অনেকে মনে করছেন ইয়েমেন যুদ্ধে রিয়াদকে সহযোগিতা করাই সেনা পাঠানোর উদ্দেশ্য।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবকে সামরিক সহযোগিতার ব্যাপারে পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর আগ্রহ কয়েকটি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জন্য সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তা টিকিয়ে রাখা দরকার। এ ছাড়া, পাক সেনাবাহিনী যেহেতু নিজেদেরকে ইসলামপন্থী বলে মনে করে তাই তারা সৌদি আরবের সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখতে আগ্রহী। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ভাই শাহবাজ শরীফকে আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য যে প্রস্তুতি নিচ্ছে তার জন্য সৌদি আরবের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।

পাকিস্তান সরকারের কর্মকর্তারা ও মুসলিম লীগ দলের নেতারা সম্প্রতি রিয়াদ সফরে গিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়ার নামে নতুন করে দুই হাজারের বেশি সেনা পাঠাতে সম্মত হন। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। পাকিস্তানের সামরিক বিশেষজ্ঞ শিরিন মাজারি বলেছেন, "সাম্প্রদায়িক সংঘাতের কারণে পাকিস্তান নিজেই অতিষ্ঠ। এ অবস্থায় আরব দেশগুলোতে যেসব গোত্রীয় ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত চলছে তাতে ইসলামাবাদের হস্তক্ষেপের পরিণতি পাকিস্তানের জন্য ভালো হবে না। পাক সরকারের উচিত ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের নানা ঘটনাবলীতে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করা।"  

পাকিস্তান সেনাবাহিনী

ইয়েমেনে সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যার কারণে সৌদি আরব সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে। এ অবস্থায় পাকিস্তানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহল মনে করেন, পাকিস্তানের উচিত হবে না ইয়েমেনে চলমান গণহত্যায় শরীক হওয়া। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সহযোগিতায় সৌদি আরব ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলেও এখন পর্যন্ত রিয়াদ তার লক্ষ্য অর্জন করতে তো পারেনি বরং বড় ধরণের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। এ অবস্থায় তারা অন্যান্য দেশকেও ইয়েমেন যুদ্ধের চোরাবালিতে শামিল করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।

পাকিস্তানের আহলে সুন্নাতের এক নেতা হায়দার আলাভি রুহানি ইয়েমেনে সৌদি গণহত্যার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, পাকিস্তানের জনগণ আগ্রাসীদের পক্ষে নয় বরং ইয়েমেনের মজলুম জনগণের পাশে রয়েছ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টির পর পাকিস্তানের সরকার ও সেনাবাহিনী এখন সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করার চেষ্টা করছে যাতে এ অঞ্চলে নিজের অবস্থানকে মজবুত করা যায়। কিন্তু এ নীতির বিরোধীরা মনে করেন, মুসলিম বিশ্বে বিভেদ সৃষ্টি এবং আগ্রাসী ও অপরাধীদের সঙ্গে সহযোগিতার বিনিময়ে এ ধরণের সম্পর্কের কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ পাকিস্তানের জনগণ সবসময়ই মজলুমের পাশে রয়েছে।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২১