বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলার ও মার্কিন অর্থব্যবস্থার ক্ষমতা কমিয়ে আনা উচিত: রাশিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/world-i63815-বিশ্ব_অর্থনীতিতে_ডলার_ও_মার্কিন_অর্থব্যবস্থার_ক্ষমতা_কমিয়ে_আনা_উচিত_রাশিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া, বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করা এবং শত্রু দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো একতরফা নানা পদক্ষেপ নেয়ায় নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ঠেকানোর জন্য বিভিন্ন দেশ বাণিজ্য ক্ষেত্রে ডলার ব্যবহার থেকে সরে আসার চিন্তাভাবনা করছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
আগস্ট ২৬, ২০১৮ ১৪:০১ Asia/Dhaka

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া, বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করা এবং শত্রু দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো একতরফা নানা পদক্ষেপ নেয়ায় নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ঠেকানোর জন্য বিভিন্ন দেশ বাণিজ্য ক্ষেত্রে ডলার ব্যবহার থেকে সরে আসার চিন্তাভাবনা করছে।

রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, "মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ঠেকানোর জন্য বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের ভূমিকা এবং মার্কিন অর্থ ব্যবস্থার ক্ষমতা কমিয়ে আনা উচিত।" তিনি আরো বলেন, "এ বিষয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় এসেছে এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের বিকল্প চিন্তা করা উচিত।"

আমেরিকা অন্য দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় এবং ডলারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করায় সারা বিশ্বে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে এবং মার্কিন একতরফা নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় সবাই এখন সোচ্চার। মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী এ,উইস মিশেল বলেছেন, "নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে কৌশলগত হাতিয়ার। বর্তমানে আমেরিকা সারা বিশ্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ৪১৯০টি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে এবং এর মধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ৫৮০টি নিষেধাজ্ঞা বলবত রয়েছে।"

আমেরিকার এই একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সারা বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে এবং অবস্থা এমন যে আমেরিকাই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এমনকি আমেরিকার মিত্র দেশগুলোও আমেরিকার কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে ডলারের ব্যবহার কমে যাবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষেত্রে ডলারের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিভিন্ন দেশে ডলারের রিজার্ভের পরিমাণ কমে গেছে এবং চলতি বছর আগামী তিন মাসে ডলার রিজার্ভের পরিমাণ আরো কমে যাবে। এসব দেশ ডলারের পরিবর্তে ইউরো, ইয়ান, পাউন্ড স্টার্লিং রিজার্ভ করার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। অর্থাৎ বিশ্ব বাজারে ডলারের অবস্থান ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিভিন্ন দেশে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের দিক থেকে ডলারের অবস্থান পঞ্চম। গত চার বছরে এটা ডলারের সর্বনিম্ন অবস্থান।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ডলারের এই পতনের পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বেচ্ছাচারী নীতি দায়ী। বহু দেশ এখন এটা উপলব্ধি করতে পারছে যে, মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা উচিত।      

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৬