কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে পাকিস্তান সফরে সৌদি যুবরাজ: জনতার বিক্ষোভ
https://parstoday.ir/bn/news/world-i68206-কঠোর_নিরাপত্তা_ব্যবস্থার_মধ্যদিয়ে_পাকিস্তান_সফরে_সৌদি_যুবরাজ_জনতার_বিক্ষোভ
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান গতকাল পাকিস্তান সফরে যান। দেশটির রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তিনি নিজে ড্রাইভ করে যুবরাজকে বিমানবন্দর থেকে গন্তব্যে নিয়ে যান।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৯ ১৩:৫৩ Asia/Dhaka
  • কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে পাকিস্তান সফরে সৌদি যুবরাজ: জনতার বিক্ষোভ

কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান গতকাল পাকিস্তান সফরে যান। দেশটির রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তিনি নিজে ড্রাইভ করে যুবরাজকে বিমানবন্দর থেকে গন্তব্যে নিয়ে যান।

বিমানঘাঁটিতে মোহাম্মদ বিন সালমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সৌদি রাজকীয় বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢোকার পর দেশটির সাতটি যুদ্ধবিমান সেটিকে পাহারা দিয়ে বিমানঘাঁটি পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। সংবাদ সংস্থাগুলো এর আগে জানিয়েছিল, তিনি এশিয়ার কয়েকটি দেশ সফরের অংশ হিসেবে প্রথমে পাকিস্তান সফরে গেলেন। প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তা কর্মী যুবরাজের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে রয়েছে। পাকিস্তান সরকার যুবরাজ সালমানের সম্মানে প্রধান সড়কে ব্যাপক আলোক ও সাজসজ্জার ব্যবস্থা করলেও দেশটির জনগণ তাকে স্বাগত জানায়নি এবং কারো উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।

বিন সালমানের সফরের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে বিক্ষোভ

পাকিস্তানের জনগণ গত কয়েকদিন ধরে সৌদি যুবরাজের সফরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে আসছে এবং মুসলিম জাতিগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অপরাধযজ্ঞের নিন্দা জানিয়েছে।

পাকিস্তানের জনগণের প্রতিবাদ বিক্ষোভের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে যুবরাজ সালমানের সফর একদিন পিছিয়ে দিতে হয়েছিল। তিনি এশিয়ার আরো যে কয়েকটি দেশ সফরে যাবেন সেখানেও একই অবস্থা বিরাজ করছে এবং তার সফরের বিরুদ্ধে জনমনে প্রচণ্ড ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিক্ষোভকারীরা ইয়েমেনে সৌদি গণহত্যা, সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের মদদদান এবং দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে আপোষের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে সৌদি সরকার, ইসরাইল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিয়েছে। পাকিস্তানের জনগণ জানিয়েছে, সেদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে সৌদি সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে পাকিস্তানে নানা সংকট তৈরি হয়েছে।

সৌদি আরবসহ আরো কয়েকটি আরব দেশ নিজেদের লক্ষ্য পূরণের জন্য ইয়েমেন যুদ্ধসহ এ অঞ্চলের নানা সংকটে পাকিস্তানকে আরো বেশি সক্রিয় করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে পাকিস্তানকে শামিল করার চেষ্টা করছে। এর ফলে আর্থ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে পাকিস্তানে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি যুবরাজ সেদেশে ২০ বিলিয়ন ডলার পুঁজি বিনিয়োগ করবে। কিন্তু যুবরাজকে স্বাগত জানাতে গিয়ে যে বিপুল অংকের অর্থ অপচয় হয়েছে তার কোনো ব্যাখ্যা দেননি তারা।

বিন সালমানের সফরের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে বিক্ষোভ

পাকিস্তানের রাজনীতিবিদরা বিভিন্ন মিডিয়ায় দেয়া সাক্ষাতকারে সৌদি যুবরাজকে স্বাগত জানাতে গিয়ে সরকার যে বিপুল অংকের অর্থ খরচ করেছে তার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি কোথায় গেল? এবং কেনইবা সৌদি যুবরাজ পাক সরকারের এ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বিষয়টি আমলে নেননি।

পাকিস্তানের দৈনিক উম্মত এ ব্যাপারে এক প্রতিবেদনে লিখেছে, সরকার সৌদি যুবরাজ ও তার ১১০০ সফরসঙ্গীর পেছনে যে ব্যয় করেছে তার কোনো ব্যাখ্যা দেননি। মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল লিখেছে, সৌদি যুবরাজ এশিয়ার কয়েকটি দেশ  সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোণঠাসা অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন এবং তিনি প্রমাণ করার চেষ্টা করছ্নে বিশ্বে এখনো তার প্রভাব রয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিন সালমান আসলে এসব সফরের মাধ্যমে ও গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে নিজের ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। এর আগে গত নভেম্বরে তিউনিশিয়াসহ আফ্রিকা ও কয়েকটি কয়েকটি দেশ সফরের সময়ও সৌদি যুবরাজ ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভের সম্মুখীন হয়েছিলেন। এশিয়া সফরকালেও তিনি জনরোষের মুখে পড়েছেন। #    

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৮