জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে "সবার আগে আমেরিকা" শ্লোগান তুলে ধরলেন ট্রাম্প
-
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা লাভের পর থেকেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে একতরফা নীতি গ্রহণ করে আসছেন। 'আমেরিকা ফার্স্ট' বা সবার আগে আমেরিকা নামক শ্লোগান দিয়ে মূলত তিনি সারা বিশ্বকে অবজ্ঞা করে চলেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল(মঙ্গলবার) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে চরম জাতীয়তাবাদী মনোভাবের পরিচয় দিয়ে আমেরিকার মিত্র ও বিরোধী সব দেশের সমালোচনা করে সবাইকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। বিশেষ করে তিনি তার বক্তব্যে ইরান ও চীনকে উদ্দেশ্য করে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ভাষণে 'আমেরিকা ফার্স্ট' বা সবার আগে আমেরিকা নামক শ্লোগান তুলে ধরে বলেছেন, "যারা বৈশ্বয়িক চিন্তাভাবনায় বিশ্বাসী অর্থাৎ সবাইকে নিয়ে যারা চলতে চায় আগামী বিশ্ব তাদের জন্য নয় বরং যারা জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেমিক আগামী বিশ্ব তাদের জন্য। আগামী বিশ্ব তাদের জন্য, যারা স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি হিসেবে কেবল নিজের নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি নিয়ে ভাববে। এ কারণে আমরা জাতীয়তাবাদের উত্থান কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। "
মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বিশ্বের জাতিগুলোর মোকাবেলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উগ্র জাতীয়তাবাদী মনোভাবের কথা উল্লেখ করে লিখেছে, এ নীতির আলোকে তিনি আন্তর্জাতিক সমাজের স্বার্থকে উপেক্ষা করে কেবল মার্কিন জনগণের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টিতে দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে কেবল মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করাই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সবচেয়ে শক্তিধর দেশ হওয়ার কারণে আমেরিকা চায় অন্য দেশ ওয়াশিংটনের অনুগত হয়ে চলুক এবং আমেরিকা যা বলবে, যা চাইবে অন্যরা তা মেনে নিতে বাধ্য থাকবে। প্রকৃতপক্ষে, অন্য দেশের চাওয়া পাওয়ার বিষয়টি আমেরিকার কাছে মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়। এমনকি আমেরিকার মিত্র দেশগুলোও চরম অবমাননার শিকার হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করেন, শত্রু মিত্র সবাই আমেরিকার অনুগত হয়ে চলবে।
তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের এ নীতির তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। ট্রাম্প তার ভাষণে মিত্রদের রক্ষার ব্যয়ভার ওই দেশগুলোকেও বহন করার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার পাশাপাশি বিশ্বের বর্তমান বাণিজ্য নীতিতে পরিবর্তন আনার ওপরও জোর দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, "যেসব দেশকে আমি সামরিক প্রতিরক্ষা দিচ্ছি তাদেরকে অবশ্যই এর জন্য খরচ দিতে হবে।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জাতীয়তাবাদী চেতনাকে উজ্জীবিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিতে পরিবর্তন আনার যে কথা বলছেন তার মাধ্যমে তিনি মূলত সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন। তার এ নীতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও রাশিয়া এমনকি ওয়াশিংটনের মিত্র দেশগুলোও বিরোধিতা করেছে। এ ছাড়া জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাও ট্রাম্পের নীতিকে অত্যন্ত বিপদজনক অভিহিত করে এর ভয়াবহ পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে। চীন মার্কিন-বাণিজ্য যুদ্ধ ওই মার্কিন নীতিরই ফল বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৪