ইমরান খানের রিয়াদ সফর: প্রাধান্য পেয়েছে সৌদি-ইরান সম্পর্ক
-
ইমরান খান
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান রিয়াদে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ সাক্ষাতে তারা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা ঘটনাবলী এবং দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন।
সাক্ষাতে পাক প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আলোচনার মাধ্যমে তেহরান ও রিয়াদের মধ্যকার বৈরিতা অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন। ইমরান খান বলেন, এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা পাকিস্তানের জন্য খুবই জরুরি এবং আমরা আশা করি এ অঞ্চলের প্রভাবশালী দেশগুলো সে বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারবে। তিনি কাশ্মীর সংকটকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরে এ সমস্যা সাধানে সহযোগিতা করার জন্য সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
২০১৮ সালে পাকিস্তানে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের এটা চারদফা সৌদি আরব সফর। বিশেষ করে ভারত সরকার গত আগস্টে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়ে বিতর্কিত ওই এলাকাটিকে ভারতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার পর ওই অঞ্চলে উত্তেজনার মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এরপর থেকে পাকিস্তান সরকার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাশ্মীরি জনগণের প্রতি বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায়ের জন্য ব্যাপক চেষ্টা শুরু করেছে এবং ভারতের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যাতে নয়াদিল্লি কাশ্মীর দখলের চিন্তা থেকে সরে আসে।
প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পাকিস্তানের অন্যান্য কর্মকর্তারা ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মুসলমানদের ওপর চলমান দমনপীড়ন বন্ধ করতে ও তাদের অধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আরব ও অন্যান্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভারত বিরোধী নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব উত্থাপন এবং নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর ইস্যুটি উত্থাপনের প্রতি তাদের সমর্থনকে পাকিস্তান সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে। এ ছাড়া, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ার পর এবং বিশেষ করে ভারত সরকারের গৃহীত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রতিবাদ আন্দোলন হওয়ায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীসহ আরো অনেক দেশের কর্মকর্তা দিল্লী সফর বাতিল করেছেন। ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীও নয়াদিল্লি সফর বাতিল করেছেন।
এ অবস্থায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দু'টি লক্ষ্যে সৌদি আরব সফরে গেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথমত, কাশ্মীর ইস্যুতে রিয়াদের হস্তক্ষেপ এবং এ ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ভারতকে উৎসাহিত করা। দ্বিতীয়ত, তেহরানের সঙ্গে রিয়াদ ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা।
পাক প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক উন্নয়নে তিনি যদি ভূমিকা রাখতে পারেন তাহলে তা হবে তার জন্য বিরাট রাজনৈতিক বিজয়। এসব কারণে ইমরান খানের রিয়াদ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৬