ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন সেনা আহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে
https://parstoday.ir/bn/news/world-i76940-ইরানের_ক্ষেপণাস্ত্র_হামলায়_মার্কিন_সেনা_আহতের_সংখ্যা_ক্রমেই_বাড়ছে
মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের আইআরজিসি'র কুদস ব্রিগেডের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি শহীদ হওয়ার পর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও গত ৮ জানুয়ারি ইরাকের আইন আল আসাদ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদিও সেসময় দাবি করেছিলেন ওই হামলায় তাদের কোনো সেনা হতাহত হয়নি। কিন্তু ওয়াশিংটন এখন ধীরে ধীরে তাদের কতজন সেনা আহত হয়েছে সে তথ্য দেয়া শুরু করেছে।
(last modified 2026-02-27T09:00:49+00:00 )
জানুয়ারি ২৫, ২০২০ ১৮:৪৯ Asia/Dhaka
  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন সেনা আহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে

মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের আইআরজিসি'র কুদস ব্রিগেডের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি শহীদ হওয়ার পর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও গত ৮ জানুয়ারি ইরাকের আইন আল আসাদ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদিও সেসময় দাবি করেছিলেন ওই হামলায় তাদের কোনো সেনা হতাহত হয়নি। কিন্তু ওয়াশিংটন এখন ধীরে ধীরে তাদের কতজন সেনা আহত হয়েছে সে তথ্য দেয়া শুরু করেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এ পর্যন্ত তাদের ৩৪ সেনা আহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে এবং তারা সবাই মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যায় ভুগছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র জনাথন হফম্যান বলেছেন, আহত আট মার্কিন সেনাকে জার্মানির হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল এবং এরপর তাদেরকে আমেরিকায় ফেরত আনা হয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের কেউ আহত হওয়ার কথা অস্বীকার করেছিলেন। ইরানের হামলার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, আমি শুনেছি তাদের আগে থেকেই মাথা ব্যথাসহ অন্যান্য কিছু শারিরিক সমস্যা ছিল। আমি বলতে চাই ইরানের হামলায় তেমন কিছুই হয়নি এবং সেনারাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি। ইরাকের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কিছুদিন পর পেন্টাগন স্বীকার করে তাদের অন্তত ১৬ সেনা আহত হয়েছে। প্রায় একই সময়ে পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনী 'সেন্টকম'র দফতর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল অন্তত ১১ সেনাকে চিকিৎসার জন্য ইরাক থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে।

যাইহোক, পেন্টাগনের দেয়া সর্বশেষ তথ্য থেকে বোঝা যায় এর আগে প্রেসিডেন্টসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা আহতের যে হিসাব দিয়েছিলেন এবারের সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। ট্রাম্প নানাভাবে আহত হওয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটা ছিল মার্কিন ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলা যা ছিল দেশটির জন্য লজ্জাজনক। আরেকটি কারণে তিনি ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিকে হাল্কা করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন আর তা হচ্ছে, তিনি ইরানের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে জড়াতে চান না। কারণ এর ভয়াবহ পরিণতির বিষয়ে তিনি ভালভাবে অবহিত আছেন। তারপরও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেমোক্রেটদের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন। ডেমোক্রেট সিনেটর ক্রিস মারফি মার্কিন সেনা আহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ট্রাম্প প্রথমে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেছেন যাতে নিজেদের দুর্বলতা প্রকাশ না পায়। ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী ও ডেমোক্রেট দলের আরেক সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন আমেরিকার যুদ্ধনীতি অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের দামামা বাজিয়েছেন এবং ইরানের হামলাকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন যা আমাদের জন্য বিপদজনক। #   

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৪