জার্মানিতে ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করে তুলছে পাক-আফগান অভিবাসীরা
জার্মানিতে অভিবাসী বিশেষ করে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের অভিবাসী আগমনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশটিতে ক্রিকেট খেলার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। পাশাপাশি বাড়ছে ক্রিকেট ক্লাবের সংখ্যাও।
গত বছর দেশটিতে ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৬৪৯জন আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। এর মধ্যে আফগানিস্তানের ৩১ হাজার ৯০২ এবং পাকিস্তানের আট হাজার ৪৭২ জন আবেদন করেছেন। আর এ পরিপ্রেক্ষিতে জার্মান ক্রিকেট ফেডারেশন বা ডিসিবি’তে ক্রিকেট খেলা নিয়ে আবেদনের বন্যা বয়ে গেছে। জার্মানির কোথায় ক্রিকেট খেলা যাবে জানতে চাওয়ার মধ্য দিয়ে এ জাতীয় আবেদন করা হয়।
ডিসিবি’র ওয়েবসাইট ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ ডট ক্রিকেটডট ডিই’তে ক্রিকেট বিষয়ক অনুসন্ধানের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশটিতে নতুন নতুন ক্রিকেট ক্লাব গঠন করতে এবং ক্রিকেট খেলার সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবস্থা ডিসিবি’কে করতে হচ্ছে। পাশাপাশি নবাগত ক্রিকেট উৎসাহীরা স্থানীয় কোন টিমে খেলবেন তারও ব্যবস্থা করতে হচ্ছে ডিসিবিকে।
২০১২ সালে জার্মানিতে ৭০টি টিম এবং এক হাজার পাঁচশ’ নিবন্ধিত ক্রিকেট খেলোয়াড় ছিল। বর্তমানে দেশটিতে চার হাজার নিবন্ধিত খেলোয়াড় এবং ২০৫টি টিম রয়েছে। আর প্রতিদিনই বাড়ছে এ সংখ্যা।
নতুন ক্রিকেট ক্লাব গঠন নিয়ে দিনে গড়ে দৈনিক পাঁচটি করে অনুসন্ধান করা হয় ডিসিবি’তে। বেশির ভাগ সময় এ সব অনুসন্ধান আসে জার্মানির সমাজ কল্যাণ সংস্থাগুলো থেকে। আফগান এবং পাকিস্তানের শরণার্থীরা ভিড় জমানোর আগে তারা ক্রিকেটের নামও শোনে নি। এ সব শরণার্থীদের ভলিবল বা ফুটবল খেলার ব্যবস্থা করে দিলেও তারা মোটেও সন্তুষ্ট হয় না বরং ক্রিকেট খেলতে চায়।
জার্মানির আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ক্রিকেট সরঞ্জামের যোগান দিচ্ছে ব্রিটেনের ক্রিকেট সংক্রান্ত দাতব্য সংস্থা লর্ড’স টেভানর্স। তবে তাদের এ সংক্রান্ত তহবিল শেষ হয়ে গেছে। এ ছাড়া, ডিসিবি’কে ১৫ হাজার ইউরো দিয়েছে আইসিসি।
এদিকে, আশ্রয়প্রার্থীদেরকে জার্মান ভাষা শেখানো কঠিন কাজ বলেই সাধারণ ভাবে মনে করা হয়। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো ক্রিকেট খেলার মধ্য দিয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের জার্মান ভাষা শেখার কাজে অগ্রগতি হচ্ছে বলে দেখতে পেয়েছেন।#
মূসা রেজা/৫