তালেবান অগ্রাভিযান অব্যাহত: তিনটি দেশের সঙ্গে তালেবানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হল
https://parstoday.ir/bn/news/world-i95970-তালেবান_অগ্রাভিযান_অব্যাহত_তিনটি_দেশের_সঙ্গে_তালেবানের_বৈঠক_অনুষ্ঠিত_হল
আফগানিস্তানের সশস্ত্র তালেবানরা দেশটির বিভিন্ন শহর একের পর এক দখল করেই চলেছে। বলা যায় দেশটির বেশিরভাগ এলাকা এখন তাদের দখলে। এ অবস্থায় কাতারের রাজধানী দোহায় রাশিয়া, উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তালেবান প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
আগস্ট ১৫, ২০২১ ১২:০৬ Asia/Dhaka

আফগানিস্তানের সশস্ত্র তালেবানরা দেশটির বিভিন্ন শহর একের পর এক দখল করেই চলেছে। বলা যায় দেশটির বেশিরভাগ এলাকা এখন তাদের দখলে। এ অবস্থায় কাতারের রাজধানী দোহায় রাশিয়া, উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তালেবান প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিরা আফগানিস্তানের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, কাতারে তালেবান নেতা মোল্লা আব্দুল গণি বারাদার, তুর্কমেনিস্তানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াফা খাজা ইয়াফ, আফগানিস্তান বিষয়ক উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি ইসমাতুল্লাহ ইয়েরগাশেফ এবং রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রতিনিধি জামির বাবুলোভ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত আরেকজন তালেবান প্রতিনিধি সোহেল শাহিন বলেছেন, তালেবান প্রতিনিধি দলের নেতা মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার আলাদা বৈঠকে রুশ প্রতিনিধির সঙ্গে আফগানিস্তান পরিস্থিতির ব্যাপারে মতবিনিময় করেছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মধ্যএশিয়ার দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে তালেবানের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, প্রতিবেশীসহ ওই অঞ্চলের দেশগুলোর কাছে আফগানিস্তানের যুদ্ধ পরিস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর। এর আগে তালেবান প্রতিনিধিরা তেহরান সফর করে আফগানিস্তানের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। এসব বৈঠকের উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলোকে এ নিশ্চয়তা দেয়া যে তালেবানরা শান্তি চায় এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তারা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। এদিকে, রাশিয়া, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানের ত্রিদেশীয় সামরিক মহড়া শেষে তাজিকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শির আলী মির্যা বলেছেন, আফগানিস্তানে যাই ঘটুক না কেন তা কেবল শুধু এ অঞ্চলেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে তাই নয় একইসঙ্গে ইউরোএশিয়ো অঞ্চলেও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলবে।

এদিকে, প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আফগান ঘটনাবলীর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি আলোচিত হলেও আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহরে তালেবানের দ্রুত অগ্রাভিযান নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে, আফগানিস্তানে আশরাফ গণি সরকারের দুর্নীতি, বৈষম্য এবং দেশ পরিচালনায় অযোগ্যতার কারণে তালেবানের প্রতি জনগণের আস্থার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া, আশরাফ গণি সরকারের প্রতি মার্কিন সরকারের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে আবারো প্রমাণিত হয়েছে যে, আফগান সরকার কিংবা মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রতি আস্থা রাখা যায় না। 

অথচ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কাবুলের কর্মকর্তাদের অনেক আস্থা ছিল। আফগানিস্তানের অনেক সামরিক ও রাজনৈতিক কর্তাব্যক্তিরা মনে করেন, আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়ে ক্ষমতাসীন সরকারের কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকায় তালেবানরা দ্রুত একের পর এক শহর দখল করে নিতে পারছে এবং গত কয়েক দিনে তারা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কেন্দ্রিয় শহর দখল করে নিয়েছে। আফগান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সাফল্যের কারণে তালেবানদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে এবং অন্যদিকে সরকারি সেনাদের মনোবল ভেঙে গেছে ও তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ কারণে যুদ্ধ ছাড়াই তালেবানরা বহু শহর দখল করে নিতে পেরেছে।

যাইহোক আফগানিস্তানের উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তালেবান প্রতিনিধি দলের সাক্ষাত গুরুত্বপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।#    

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৫