ডিসেম্বর ০৫, ২০২২ ১৪:০২ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: রেডিও তেহরানের প্রাত্যহিক আয়োজন কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আজ ৫ ডিসেম্বর সোমবারের কথাবার্তার আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • বিএনপির সমাবেশ নিয়ে মানুষ আতঙ্কে রয়েছে: ওবায়দুল কাদের-ইত্তেফাক
  • সোহরাওয়ার্দী-তুরাগ ছাড়া অন্য ভেন্যুর প্রস্তাব এলে ভাববে বিএনপি- যুগান্তর 
  • রাজধানীতে হঠাৎ ধরপাকড়- মানবজমিন
  • রিজার্ভ নিয়ে গুজবে কান দেবেন না : প্রধানমন্ত্রী -কালের কণ্ঠ
  • রাস্তায় সমাবেশ করার অনুমতি পাবে না বিএনপি : ডিএমপি কমিশনার-বাংলাদেশ প্রতিদিন 

ভারতের শিরোনাম:

  • ২১ হাজার পদের নিয়োগে দুর্নীতি! সিবিআইয়ের দাবিতে বিচারপতি বললেন, ‘কাউকে ছাড়া হবে না’-আনন্দবাজার পত্রিকা
  • ‘মানি, গুনস অ্যান্ড গানস ফর বিজেপি’, জলপাইগুড়িতে বিপুল টাকা উদ্ধারে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর-সংবাদ প্রতিদিন
  • স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের প্রতিবাদ করে খুন স্ত্রী-আজকাল

এবারে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিস্তারিত

রিজার্ভ নিয়ে গুজবে কান দেবেন না: প্রধানমন্ত্রী-কালের কণ্ঠের এ শিরোনামের খবরে লেখা হয়েছে, দেশের অর্থনীতি এখনো স্থিতিশীল আছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দেশবাসীকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং ব্যাংকে তারল্য নিয়ে কোনো গুজবে কান না দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।অনেক উন্নত দেশ অর্থনৈতিকভাবে বিপদে এবং সমস্যার সম্মুখীন, তাদের রিজার্ভ কমছে। সে অবস্থায় আমরা বলতে পারি যে বাংলাদেশকে স্থিতিশীল অবস্থায় রাখতে পেরেছি। ’

কর্তৃত্ববাদী শাসনে জনগণের অধিকার সংকুচিত করতে আইন করা হয়: শাহদীন মালিক-প্রথম আলো

প্রথম আলোর পক্ষ থেকে বিশিষ্ট এ আইনজীবী এবং আইনের শিক্ষাকের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন মনজুরুল ইসলাম। বিষয় ছিল-আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গায়েবি মামলা ইত্যাদি। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, যেকোনো দেশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আইনের শাসন। সরকারের পক্ষ থেকে সব সময় দাবি করা হয়, যা করা হচ্ছে, আইন মেনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশে কি আইনের শাসন ঠিকমতো চলছে?   এর জবাবে তিনি বলেন, সরকার যখন আইন ভঙ্গ করে কোনো কিছু করে, সেটা যে আইনের শাসন নয়, তা সহজেই বোঝা যায়। কিন্তু অনেক সময় আইন অনুযায়ী চললেও আইনের শাসন হয় না। আইনগুলো যৌক্তিক কি না, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। বর্তমান সরকার অনেক ক্ষেত্রেই অযৌক্তিক বা উদ্ভট আইন করেছে এবং সেই আইন অনুযায়ী শাসন করছে। এ ধরনের শাসনকে আইনের শাসন না বলে উদ্ভট আইনের শাসন বলা যায়।

রাজনীতির খবর- মানবজমিন লিখেছে, রাজধানীতে হঠাৎ করেই ধরপাকড় শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ অভিযানের নামে এই ধরপাকড়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের। গত ৫ দিনে প্রায় এক হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে দলটির তরফে। এ সম্পর্কে প্রথম আলোর সম্পাদকীয়র শিরোনাম করা হয়েছে এরকম, পুলিশের বিশেষ অভিযান-উদ্দেশ্য অপরাধী ধরা, না ১০ ডিসেম্বর? সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো অপরাধ দমন। সেই বিবেচনায় তারা অপরাধী ধরতে যেকোনো সময় অভিযান চালাতে পারে। কিন্তু সেই অভিযান যদি বিরোধী দলের পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ সামনে রেখে হয়ে থাকে, তখন প্রশ্ন ওঠে। অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে সংশয় ও সন্দেহ দেখা দেয়।

দৈনিক যুগান্তরের শিরোনাম-সোহরাওয়ার্দী-তুরাগ ছাড়া অন্য ভেন্যুর প্রস্তাব এলে ভাববে বিএনপি। বিস্তারিত খবরে লেখা হয়েছে, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও তুরাগ ছাড়া অন্য কোনো জায়গা যদি ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশস্থল হিসেবে প্রস্তাব করা হয় সেটি ভেবে দেখবে বিএনপি। দলের পক্ষে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এদিকে, তাদের বাড়ি ঘেরাওয়ের দাবি করেছেন মির্জা আব্বাস ও তার স্ত্রী। তবে  পুলিশ বলছে ‘না।’ প্রথম আলোর খবরে লেখা হয়েছে, খালেদা জিয়ার বাড়ির ফটকে থাকা নিরাপত্তাকর্মী ‘কেউ বাড়ির ভেতরে গেলে বা বাইরে বের হলে পুলিশ তল্লাশি করছে।’

এদিকে বাংলাদেশ প্রতিদিনের খবরে লেখা হয়েছে, বিএনপি রাস্তায় সমাবেশ করার অনুমতি পাবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক।

সোমবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নাকি নয়াপল্টন, বিএনপিকে কোথায় সমাবেশ করতে দেওয়া হবে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

প্রথম আলোর খবরে লেখা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশ নিয়ে মানুষ আতঙ্কে আছে। সমাবেশের নামে বিএনপি বিশৃঙ্খলা-বাড়াবাড়ি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।

এবার ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিস্তারিত: 

‘মানি, গুনস অ্যান্ড গানস ফর বিজেপি’, জলপাইগুড়িতে বিপুল টাকা উদ্ধারে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর-সংবাদ প্রতিদিনের এ খবরে লেখা হয়েছে, জলপাইগুড়িতে গাড়ির অতিরিক্ত টায়ার থেকে উদ্ধার নগদ ৯৪ লক্ষ টাকা। রাজ্যে বিপুল টাকা উদ্ধারের ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, “মানি, গুনস অ্যান্ড গানস ফর বিজেপি।” সোমবার সকালে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে দমদম বিমানবন্দরের ঢোকার পথে বিজেপির বিরুদ্ধে একহাত নেন তিনি। ইস্যু গাড়ির অতিরিক্ত টায়ার থেকে বিপুল নগদ টাকা উদ্ধার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হাওয়ালার টাকা। বিজেপি রাজ্যে আনছিল। মানি, গুনস অ্যান্ড গানস ফর বিজেপি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় টাকা পাচার করা হচ্ছিল।”রাজ্যে বিপুল টাকা উদ্ধার এই প্রথম নয়।

২১ হাজার পদের নিয়োগে দুর্নীতি! সিবিআইয়ের দাবিতে বিচারপতি বললেন, ‘কাউকে ছাড়া হবে না’আনন্দবাজার পত্রিকার এ খবরে লেখা হয়েছে, মূল প্যানেল থেকে ওয়েটিং লিস্ট, নিয়োগের সর্বত্র দুর্নীতি হয়েছে! নিয়োগ এসএসসি দুর্নীতি মামলার শুনানি চলাকালীন আদালতে এমনটাই দাবি করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। আর সেই দাবি শুনে বিচারপতি জানিয়ে দিলেন, অপরাধে যুক্ত কাউকে রেয়াত করা হবে না। গ্রুপ-ডি কর্মী নিয়োগে দুর্নীতি সংক্রান্ত এক মামলায় সিবিআইয়ের সিটের নবনিযুক্ত প্রধান অশ্বিন শেনভিকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। সেই শুনানিতে উপস্থিত হয়ে অশ্বিন জানান, এখনও পর্যন্ত প্রায় ২১ হাজার পদের নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই ২১ হাজারের মধ্যে ৯ হাজারের বেশি উত্তরপত্র (ওএমআর শিট) বিকৃত করা হয়েছে।

আদালতে সিবিআইয়ের সিট প্রধান আরও জানান, উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ থেকে উদ্ধার হওয়া এসএসসি-র হার্ড ডিস্কই এই তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার তরফে জানানো হয়, প্রথমে ভাবা হয়েছিল মেধাতালিকায় গোলমাল রয়েছে। কিন্তু পরে দেখা যায় দুর্নীতি অনেক বড়! এই সব নথি এসএসসি-কে দেখানো হয়েছে বলেও সিবিআইয়ের তরফে দাবি করা হয়।

কংগ্রেস ছেড়ে শরদ পাওয়ারের দলে শশী থারুর?-সংবাদ প্রতিদিন

এনসিপির (NCP) আকাশে শশী দেখা দেবে? না, এখনও পর্যন্ত দল ছাড়ার কথা বলেননি তিরুবন্তপুরমের কংগ্রেস সাংসদ। তবে তাঁর ও কেরলের এনসিপি প্রেসিডেন্ট পিসি চাকোর (PC Chako) কথায় বিরাট জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। চাকো তো কেরল (Kerala) এনসিপিতে শশী থারুরকে (Shashi Tharoor) স্বাগতও জানিয়ে ফেলেছেন। গোটা ঘটনায় অস্বস্তিতে কংগ্রেস (Congress)। কানপুরে সাংবাদিক সম্মেলনে এনসিপি নেতা চাকো ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করেন। বলেন, “কংগ্রেস প্রত্যাখ্যান করলেও থারুর তিরুবন্তপুরমের সংসদই থাকবেন।”#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৫