জুলাই ০৯, ২০১৬ ১৩:৪২ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক! আমাদের নিয়মিত অনুষ্ঠান কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি । আজ ৯ জুলাই শনিবারের কথাবার্তার আসরের শুরুতেই বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। এরপর বাছাইকৃত কিছু খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ঢাকার দৈনিকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম:

ঈদের ছুটি শেষে রাজধানী ফিরছে মানুষ-ইত্তেফাক

গুলশানের সেই আটক ব্যক্তি কোথায়?-প্রথম আলো

কাল ঢাকা আসছেন নিশা দেসাই বিসওয়াল-মানবজমিন

বগুড়ায় নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানকে ঘুম থেকে তুলে গুলি -নয়া দিগন্ত

হালদায় নৌকাডুবি: ৪ মৃতদেহ উদ্ধার-সমকাল

মাগুরায় আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা-বাংলাদেশ প্রতিদিন

পরিস্থিতি ঘোলাটে করছেন খালেদা: নাসিম- যুগান্তর

কোলকাতার দৈনিকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম:

হত হিজবুল নেতা, স্থগিত অমরনাথ যাত্রা-আজকাল

পদ বা দল কোনওটাই ছাড়বেন না, বিদ্রোহ মানসের-বর্তমান

আইনজীবীর স্ত্রীকেই ধর্ষণ বিচারকের-সংবাদ প্রতিদিন

পদ কবুল করে সঙ্কট বাড়ালেন মানস-আনন্দবাজার

থমথমে কাশ্মির-এইসময়

পাঠক! শিরোনামের পর এবার বাংলাদেশ ও ভারতের সবচেয়ে আলোচিত কয়েকটি খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ঈদের দিনে শোলাকিয়ার ঘটনার ফলোআপ খবরে ইত্তেফাক, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ প্রায় সব দৈনিকের শিরোনাম:

গুলশান ও শোলাকিয়া হামলায় জেএমবি জড়িত: আইজিপি

রাজধানীর গুলশানে ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় একই গোষ্ঠী জড়িত বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক।

শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শনকালে তিনি একথা জানান।

আইজিপি বলেন, 'দুটি হামলায় একই গ্রুপের কাজ। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য। তাদের মূল টার্গেট ছিল শোলাকিয়ার জামাতের মুসল্লিদের উপর হামলা।'

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে আগে থেকেই তথ্য ছিল, যে দেশের যেকোনো জায়গায় বড় ধরনের হামলা হতে পারে। আর সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল।

শহীদুল হক জানান, হামলাকারীরা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। পুলিশ সাহসিকতার সঙ্গে সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করেছে। যেসব পুলিশ সদস্য দেশের জন্য জীবন দিয়েছে সরকার ও পুলিশ বাহিনী তাদের পরিবারের পাশে থাকবে।

হামলাকারীদের সঙ্গে আইএসের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে আইজিপি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোনো হামলার ঘটনা ঘটলেই আইএস দায় স্বীকার করে। মূলত এরা জঙ্গি।

গুলশান ট্রাজেডির ফলোআপ খবরে প্রথম আলোর শিরোনাম: সেই আটক ব্যক্তি কোথায়?

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর হৃদয়বিদারক হত্যাযজ্ঞের ঘটনার পরদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চার লেন উদ্বোধনের পর ঘোষণা দিয়েছিলেন, একজন ‘ধরা’ পড়েছে। একই দিনে আইএসপিআরের মুখপাত্র নির্দিষ্টভাবে বলেছেন, ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। এরপর আইজিপি বলেছেন, গোয়েন্দা হেফাজতে দুজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি আছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ‘ঘটনাস্থল থেকে আটক’ ব্যক্তি সম্পর্কে পরে আর কোনো ঘোষণা আসেনি। তিনি কোথায়?

দেশের সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী ঘটনায় জড়িতদের নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে মানবজমিনে।শিরোনামটি এরকম

নামী বিশ্ববিদ্যলয়ের ছাত্ররা যেভাবে জঙ্গীবাদে দীক্ষা নিচ্ছে

গুলশান হামলায় জড়িতদের পরিচয় যখন প্রথম প্রকাশ পেল, তখন তা স্তম্ভিত করেছিল বাংলাদেশকে।

পাঁচ হামলাকারীর তিনজনই ঢাকার উচ্চবিত্ত বা উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ঢাকার নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

বাংলাদেশিদের জন্য দ্বিতীয় ধাক্কাটি এলো কয়েকদিন পর ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া তিন জঙ্গীর এক ভিডিও দেখে। এদের একজনের চেহারা ঢাকার টেলিভিশনের জনপ্রিয় এক অনুষ্ঠানে অনেকেই দেখেছেন। গান পাগল তরুণটি কিভাবে জঙ্গীতে পরিণত হলেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছিলেন গ্রামীণ ফোনে তারই এক সাবেক সহকর্মী।

শোলাকিয়ার ঈদের জামায়াতে হামলাকারীদের একজনের পরিচয় প্রকাশ করেছে পুলিশ। হামলার সময় নিহত এই তরুণ ছিল ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

মাদ্রাসাগুলোই ইসলামী জঙ্গীদের আখড়া বলে যারা ধরে নিয়েছিলেন, তাদের জন্য আবারও একটা বড় ধাক্কা।“বাংলাদেশে প্রচলিত ধারণা হচ্ছে মাদ্রাসার ছাত্ররাই বুঝি শুধু জঙ্গী তৎপরতায় জড়িত হয়। কিন্তু এখন আমরা দেখছি উল্টো চিত্র। সমাজের উঁচু স্তরের পরিবারের সন্তান বা নামী-দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের মধ্যেই এ ধরণের উগ্র মতবাদের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে”, বলছিলেন বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব পীস এন্ড সিকিউরিটিজ স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামান।

বাংলাদেশে যে ব্লগারকে হত্যার মধ্য দিয়ে ২০১৩ সালে জঙ্গীরা নতুন শক্তিতে এবং নতুন মাত্রায় তাদের কার্যক্রম শুরু করে, সেই আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যাকান্ডে জড়িতদের কয়েকজন ছিল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র।

এরপর আরও কিছু সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনাতেও এরকম নামী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রদের যুক্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যাত্রা শুরু হয়েছিল ঢাকার বিত্তবান এবং ক্ষমতাবান পরিবারের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে। সচেতনভাবে এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা ছিল শুরু থেকে। কিন্তু সেখানে পড়তে আসা সমাজের সুবিধাভোগী শ্রেনীর তরুণরাই কেন ঝুঁকে পড়ছে সন্ত্রাসবাদের দিকে?

জেনারেল মুনীরুজ্জামান মনে করেন, এর অনেক কারণ রয়েছে। এজন্যে প্রথমত তিনি দায়ী করছেন বাংলাদেশের সমাজে বিদ্যমান অস্থিরতাকে।

সমাজে এক ধরণের অনিশ্চয়তা আছে। বাংলাদেশ এখন এক রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যেখানে তরুণরা কোন রোল মডেল খুঁজে পাচ্ছে না তাদের জীবনের জন্য। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে এখন মুক্তভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতার পথও আস্তে আস্তে সংকুচিত হয়ে আসছে।”কিন্তু যে তরুণরা উগ্রবাদী কাজে জড়িত হওয়ার জন্য ঘর ছেড়েছে, তারা যে সমাজ-রাজনীতি নিয়ে সিরিয়াস চিন্তা-ভাবনা করতেন, সেরকমটি তাদের পরিচিতজনদের কেউ বলছেন না। দু-একজন বাদে এদের বেশিরভাগের আগের জীবনের যে আভাস তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার টাইমলাইনে দেখা গেছে, তাকে এক ধরণের আমুদে এবং ভোগ-বিলাসী জীবনে অভ্যস্ত বলেই মনে হচ্ছে।

প্রথম আলোর মতামত বিভাগের একটি লেখার শিরোনাম এরকম যে,

শোলাকিয়ার হামলা জঙ্গিবাদের নতুন মাত্রা

গুলশানে জঙ্গিদের নৃশংসতম বর্বরতার ধাক্কা ও শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই শোলাকিয়ায় আঘাত হানার যে দুঃসাহস জঙ্গিরা দেখাল, তাতে বিস্মিত না হয়ে পারা যায় না। গুলশান হামলার পর স্বভাবতই ধারণা করা যায়, নিরাপত্তা বাহিনী দেশব্যাপী বাড়তি সতর্কতায় জাগ্রত থাকবে। সুতরাং, শোকে ম্রিয়মাণ হলেও উৎসবের দিন আতঙ্ককে পরাস্ত করার একটা চেষ্টা সবার মধ্যেই ছিল। শোলাকিয়ায় জমায়েত হয়েছিল কয়েক লাখ মানুষ। কিন্তু সেই আশাবাদ আবারও ধাক্কা খেয়েছে। এখন তাই যেসব প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি হচ্ছে এই হামলার মোটিভ বা উদ্দেশ্য অনুধাবন করা। দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতকে লক্ষ্য করে জঙ্গিদের হামলার পরিকল্পনা কি শুধু তাদের ঔদ্ধত্যের বহিঃপ্রকাশ, নাকি বাস্তবে তারা এখন এতটাই সংগঠিত যে এই হামলার মাধ্যমে তারা সন্ত্রাস ছড়ানোর এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল?

ঈদের ছুটি শেষে রাজধানী ফিরছে মানুষ- ইত্তেফাক

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করে রাজধানী ফিরছে কর্মব্যস্ত মানুষ। শনিবার সকাল থেকেই দূর দূরান্তের মানুষ বাস ট্রেন লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন।

সকালে রাজধানীর সদরঘাট, ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন, গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদে বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন এলাকায় ঢাকায় ফেরার দৃশ্য দেখা গেছে।

দেশের সড়কের অবস্থা সম্পর্কিত খবরে কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে,সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘রাস্তার মান নিয়ে আমি খুশি নই। দুই বছর আগে চন্দ্রা-নবীনগর ফোরলেনের কাজ সম্পন্ন হলেও এ রাস্তায় একটু বৃষ্টি হলেই গর্ত হয়ে যায়। মেরামতের জন্য বলা হলেও এখনো মেরামত করা হয়নি। আমি গেলেই আমার সামনে একটি গাড়ি নিয়ে চুলা জ্বালিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তার পরে আর কোনো কাজ হয়না, যা দুর্ভাগ্যজনক।’

পাঠক! ভারতের বাংলা দৈনিকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ খবরের অংশ বিশেষ তুলে ধরছি।

নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও কেন দেখা যায় জাকির নায়েকের চ্যানেল?-সংবাদ প্রতিদিন

অন্তত এক যুগ আগে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক বিতর্কিত ইসলাম প্রচারক জাকির নায়েকের টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করে৷ কিন্তু এ দেশের বহু মানুষের ড্রয়িং রুমে এখনও পিস টিভির সম্প্রচার অব্যাহত রয়েছে৷ কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেন পিস টিভি ‘ব্যান’ করা যায়নি জানেন?

এর জন্য দায়ী কয়েকজন স্বার্থলোভী কয়েকজন কেবল অপারেটর৷ কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পিস টিভি, হাম টিভি, কিউ টিভি, মাদানি চ্যানেলের মতো ‘নিষিদ্ধ’চ্যানেল দেখানো বন্ধ করেননি তাঁরা৷

হত হিজবুল নেতা, স্থগিত অমরনাথ যাত্রা-আজকাল

শুক্রবার পুলিসের হানায় খতম হয়েছে কাশ্মীরের সাড়া–ফেলে–দেওয়া হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানি ও তার ২ সঙ্গী। তার জেরে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ার উপক্রম দেখা দিতেই শ্রীনগর সহ দক্ষিণ কাশ্মীরে জারি হয়েছে কার্ফু। সাময়িকভাবে স্থগিত হল অমরনাথ যাত্রা। জম্মুর বানিহাল থেকে বারামুল্লা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল, শ্রীনগর–জম্মু জাতীয় সড়ক বন্ধ।

আইনজীবীর স্ত্রীকেই ধর্ষণ বিচারকের-সংবাদ প্রতিদিন

আইনজীবীর স্ত্রীকে ধর্ষণ করলেন মহকুমা বিচারক পান্না আহমেদ৷ চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে ত্রিপুরায়৷ জানা গিয়েছে, আগরতলায় নিজের বাড়িতে ডেকে এনে ওই মুসলিম মহিলাকে ধর্ষণ করেন পান্না৷ তবে ঘটনার পরই পালিয়ে গিয়েছেন ওই বিচারক৷ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে রেড কর্নার নোটিস জারি করেছে ত্রিপুরা সরকার৷ মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের নির্দেশে ইতিমধ্যেই ওই বিচারককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে৷ ঘটনার জেরে রাজ্যের বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে৷

 

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৯