নাটের গুরু মুসলিম বিদ্বেষী ‘বার্মিজ বিন লাদেন’- দৈনিক ইত্তেফাক
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২০ সেপ্টেম্বর বুধবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম:
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- সু চির কণ্ঠেও সেনা সুর- দৈনিক সমকালের ব্যানার হেডিং
- বৃষ্টি কান্নায় একাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্প- দৈনিক যায়যায়দিন
- রোহিঙ্গা শিশুদের দুর্ভোগের কথা ভেবে ঘুম হয়নি কাদেরের- দৈনিক প্রথম আলো
- এপারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ওপারে বাঙালি শরণার্থী- দৈনিক নয়াদিগন্ত
- নাটের গুরু মুসলিম বিদ্বেষী ‘বার্মিজ বিন লাদেন’- দৈনিক ইত্তেফাক
- ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকল চাল সংকটের হোতারা- দৈনিক যুগান্তর
- নিত্যপণ্যে ভাড়ার প্রভাব-দৈনিক ইনকিলাবের ব্যানার শিরোনাম
- ধর্মঘটে সব ধরনের বই ছাপানো বন্ধ- দৈনিক যায়যায়দিন
ভারতের শিরোনাম:
- সব রোহিঙ্গাকে জঙ্গি ভাবা ঠিক নয়, কেন্দ্র বিরোধী সুর চড়ালেন মমতা- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- রেহাই দেবে কি মেঘ, চিন্তায় পুজো উদ্যোক্তারা- দৈনিক আনন্দবাজার
- আপনার সময়ে কী করেছিলেন, মনমোহনকে প্রশ্ন কাশ্মীরিদের- দৈনিক আজকাল
- প্ররোচনায় পা নয়, উৎসব কাটান শান্তিতেই: মুখ্যমন্ত্রী- দৈনিক বর্তমান
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
সু চির কণ্ঠেও সেনা সুর- দৈনিক সমকালের ব্যানার হেডিং

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নির্যাতনকারী সেনাবাহিনীর সুরেই কথা বললেন দেশটির নেত্রী অং সান সু চি। দাঁড়াতে পারলেন না তার দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গণহত্যা ও নির্যাতনের শিকার অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর সমালোচনার মুখে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সেনা সহিংসতা নিয়ে কোনো কথাই বললেন না তিনি। তাদের থামানোরও কোনো ঘোষণা দেননি। গতকাল মঙ্গলবার ভাষণে সু চি উল্কেল্টা দাবি করলেন, রাখাইনে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে কোনো সেনা অভিযান চলছে না। বাস্তব সত্য হচ্ছে, সেনা নৃশংসতা এখনও চলছে। আর প্রাণ বাঁচাতে প্রতিদিনই বাংলাদেশে স্রোতের মতো অসহায় রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসছে।
এদিকে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ফাঁপা বুলি আওড়াতেও পিছপা হলেন না মানবতা ও গণতন্ত্রের 'আইকন' বলে খ্যাত সু চি। তিনি বললেন, বাংলাদেশের সঙ্গে প্রত্যাবাসন চুক্তির অধীনে 'যাচাই-বাছাইয়ের' মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত মিয়ানমার, যা আসলে খুবই জটিল ও কঠিন একটি প্রক্রিয়া। যাতে শুধু সময়ের অপচয় হয়, কাজ কিছুই হয় না।
বৃষ্টি কান্নায় একাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্প- দৈনিক যায়যায়দিন

মাথার উপর কেবল এক টুকরো পলিথিন। মাটিতে বিছানো চট-কাপড়ের মাদুর। এমন আশ্রয়ে মাথা গুঁজেছে অন্তত চার লাখ সর্বহারা রোহিঙ্গা। আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাদের এই ক্ষুদ্র অবলম্বনটুকুও কেড়ে নিয়েছে বৃষ্টি। দমকা বাতাস উড়িয়ে নিয়েছে ছাউনি। মায়ের কোলে ভিজছে নবজাতক। গা ঘেঁষে ভিজছে শিশুরা। বৃষ্টির পানি আর কাদায় একাকার তাদের অস্থায়ী আবাস। অধিকাংশ ঘর পাহাড় কেটে তৈরি হওয়ায় মেঝেতে কয়েক ইঞ্চি নরম কাদায় মাখামাখি। বসা তো দূরের কথা। দাঁড়ানোর উপায়ও নেই। আবার পাহাড়ি ঢালের কাছে তৈরি অনেক ঘর ডুবেও গেছে। উপচেপড়া পানি ভাসিয়ে নিয়েছে কারো কারো নতুন আশ্রয়। তার উপর ক্ষুধা, তৃষ্ণা, দুশ্চিন্তা, অসুস্থতায় কাতর রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবিরে তৈরি হয়েছে অবর্ণনীয় মানবিক বিপর্যয়।
গত বুধবার রাত ১১টায় কক্সবাজারে বৃষ্টি শুরুর পর এমন করুণ পরিস্থিতির সূচনা। এভাবে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে লাখ লাখ রোহিঙ্গার শেষ আশ্রয়টুকু ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়লে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে দেখা গেছে তাদের। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উখিয়ার শফিউল্লাহ কাটা, বাঘঘোনা, বালুখালি, থ্যাংখালি, ঘুমধুম রাস্তার মাথা ও কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের আগে-পরে গড়ে ওঠা অর্ধডজন অনিবন্ধিত অস্থায়ী ক্যাম্পে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। অসহায় রোহিঙ্গারা বৃষ্টিতে বসে বা শুয়ে আশ্রয় নেয়ার অবস্থানটুকুন হারিয়ে শিশু ও পুরুষরা নিরুদ্দেশ ঘুরাঘুরিতে সময় পার করছে। বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে ভুগছে। মিলছে না চিকিৎসাও।
রোহিঙ্গা শিশুদের দুর্ভোগের কথা ভেবে ঘুম হয়নি কাদেরের- দৈনিক প্রথম আলো

সহিংসতার কারণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা ও রোহিঙ্গা শিশুদের দুর্ভোগের কথা ভেবে সোমবার রাতে স্বাভাবিক ঘুম হয়নি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের। তিনি বলেন, সোমবার সারা রাত বৃষ্টি হয়েছে। শরণার্থীশিবিরগুলোতে রোহিঙ্গারা কী যে কষ্ট পেয়েছে—একমাত্র তারাই জানেন। মঙ্গলবার টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং গ্রামে সড়কের পাশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।
সেতুমন্ত্রী বলেন, কত দিন খায়নি রোহিঙ্গারা। ভিটেবাড়ি সব হারিয়ে নিদারুণ যন্ত্রণা নিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এখন আওয়ামী লীগের আর কোনো কাজ নেই। এখন নেতা-কর্মীদের একটাই কাজ, চরম বিপন্ন রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো। যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য বর্তমান সরকারের সক্ষমতা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এপারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ওপারে বাঙালি শরণার্থী- দৈনিক নয়াদিগন্ত

বাংলাদেশ সীমানায় যারা রোহিঙ্গা শরণার্থী ওপারে মিয়ানমারে তাদেরই কিছু অংশ বাঙালি শরণার্থী হিসেবে বেশ কিছু ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। বিশেষ করে যারা বিভিন্ন সময় বর্মি বাহিনী ও মগদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন তারা মিয়ানমার ফেরার পরই বাঙালি শরণার্থী বলে তাদের অনেককে বিভিন্ন ক্যাম্পে নেয়া হয়। একাধিক রোহিঙ্গা বলেছেন, ২০১৬ সালের অক্টোবরে যারা বাংলাদেশে এসেছিলেন তারা দেশে ফেরত যাওয়ার পরে তাদেরকে বাঙালি শরণার্থী বলে বিভিন্ন ক্যাম্পে নেয়া হয়। ওইসব ক্যাম্পে জাতিসঙ্ঘসহ বিভিন্ন সাহায্য সংস্থার ত্রাণও যেত।
আকিয়াবের জানাজা পাড়ার বাসিন্দা ইদ্রিসের স্ত্রী সেতারা বেগম গতকাল বালুখালী ক্যাম্পে বলেন, তারা ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর বাংলাদেশে এসেছিলেন। তাদের বাবা-মাসহ আত্মীয়স্বজনও ওই সময় বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু সেতারা ও তার স্বামী সন্তানদের নিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে এ দেশে থেকে গেলেও তার বাবা-মাসহ আত্মীয়স্বজনের অনেকেই আকিয়াব চলে যান। কিন্তু আকিয়াব যাওয়ার পর তাদেরকে বাঙালি শরণার্থী হিসেবে সেখানের ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। ওখানে এরূপ অসংখ্য ক্যাম্পে রোহিঙ্গা মুসলমান রয়েছেন। যাদের বাপ-দাদাসহ আদি বাসস্থান ও জন্মস্থান মিয়ানমার হলেও তাদেরকে বাঙালি বলে ওইসব ক্যাম্পে নিয়ে রাখা হয়।
নাটের গুরু মুসলিম বিদ্বেষী ‘বার্মিজ বিন লাদেন’- দৈনিক ইত্তেফাক

মিয়ানমারে জাতিগত দাঙ্গা সৃষ্টির পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছেন বৌদ্ধ ভিক্ষু অশিন উইরাথু। গত কয়েক দশক ধরে তিনি তার বক্তৃতা ও বিবৃতিতে মুসলিম বিদ্বেষী প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি মুসলিম ধর্ম বিদ্বেষী প্রচারণা জোরদার করেছেন। মিয়ানমারের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, অশিন উইরাথু তার প্রচারণায় প্রকারান্তরে সেখানকার মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের নিশ্চিহ্ন? করার কথা বলেছেন। ধর্মীয় গুরু হিসাবে মিয়ানমারসহ সারা বিশ্বে তার কয়েক লক্ষ অনুসারী রয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তাকে বার্মিজ বিন লাদেন বলেও আখ্যায়িত করেছে।
জানা যায়, অশিন উইরাথুর জন্ম ১৯৬৮ সালে তত্কালীন বার্মিজ শহর মান্ডালেতে। ১৪ বছর বয়সে তিনি স্কুল ছেড়ে ভিক্ষু বনে যান। ২০০১ সালে তিনি মুসলিম বিরোধী গ্রুপ ‘৯৬৯’ এ যোগ দিয়ে আলোচনায় আসেন। ইসলাম বিরোধী প্রচারণার জন্য মিয়ানমার সরকার ২০০৩ সালে তাকে ২৫ বছরের জেল দেয়। ২০১০ সালে তিনি অন্যান্য রাজবন্দীদের সঙ্গে ছাড়া পান। এরপর তার ইসলাম বিরোধী প্রচারণা আরো জোরদার হতে থাকে। বিশ্ববিখ্যাত সাময়িকী টাইম’স ২০১৩ সালে ২০ জুন অশিন উইরাথুকে নিয়ে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন ছাপে। সেখানে প্রতিবেদনটির শিরোনাম দেয়া হয় “দ্যা ফেস অব বুদ্ধিস্ট টেরর”।
ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকল চাল সংকটের হোতারা- দৈনিক যুগান্তর

চাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কারসাজি করে চালের বাজার অস্থির করার অভিযোগ তুলেছিল খোদ সরকারই। এমনকি এর হোতাদের গ্রেফতারও করার নির্দেশ এসেছিল। কিন্তু তাদের নিয়েই মঙ্গলবার সচিবালয়ে বৈঠক করলেন সরকারের তিন মন্ত্রী। আর বৈঠকে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিষয়ে জোরাল অবস্থান নেয়া তো দূরের কথা, উল্টো নতজানু হয়ে তাদের তিন দাবি মেনে নিয়েছেন মন্ত্রীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে অবশ্য মিল মালিকরা ঘোষণা দিয়েছেন চালের মূল্য দুই থেকে তিন টাকা কমানোর। তবে ভোক্তা পর্যায়ে এ সুবিধা কতটুকু ও কবে মিলবে, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোক্তাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিন্ডিকেটের সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়া ভালো দৃষ্টান্ত নয়। সরকারের সংশ্লিষ্টরা কখনোই দ্রব্যমূল্য নিয়ে কারসাজির হোতাদের শাস্তির মুখোমুখি করতে পারেনি। কোনো ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেও গুরুদণ্ডের স্থলে দেয়া হয়েছে লঘুদণ্ড। এর ওপর এ সমঝোতা তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও উসকে দেবে।
মঙ্গলবারের এ বৈঠকে মন্ত্রীদের সঙ্গে রীতিমতো তর্কে জড়ান চাল মিল মালিক, ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা। মন্ত্রীদের চাপে ফেলে যে তিন দাবি তারা আদায় করে নিয়েছেন সেগুলো হল- চাল আমদানি ও পরিবহনে পাটের বস্তার পরিবর্তে প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার, স্থলবন্দর দিয়ে চালবাহী ট্রাক দ্রুত পার এবং রেলপথে চাল আনার ব্যবস্থা করার নিশ্চয়তা।
নিত্যপণ্যে ভাড়ার প্রভাব-দৈনিক ইনকিলাবের ব্যানার শিরোনাম

ভাঙাচোরা সড়ক-মহাসড়ক ফেরি পারাপারে সময়ক্ষেপণ যানজটসহ বিভিন্ন অজুহাতে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ভাড়া বাড়িয়েছে ট্রাক মালিকেরা
চাল, ডাল, কাঁচামালসহ নিত্যপণ্য পরিবহনে ভাড়া বেড়েছে। ভাঙাচোরা সড়ক, ফেরী পারাপারে সময়ক্ষেপণ, দীর্ঘ যানজটসহ নানা অজুহাতে পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে মালিকরা। ব্যবসায়ীদের মতে, ঈদের ৩/৪দিন আগে থেকে গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ভাড়া বেশি নিচ্ছেন পণ্যবাহী ট্রাকের মালিকেরা। ঈদের পরও না কমায় এর প্রভাব পড়ছে চালসহ নিত্যপণ্যে। চাল ও কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় পণ্য পরিবহনে ভাড়া আগের চেয়ে ট্রাক প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা বেড়েছে। ঈদের আগে কোরবানির পশু বহনের কারনে সঙ্কট দেখা দিলে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়। ঈদ শেষে বর্ধিত সেই ভাড়া আর কমানো হয়নি।
ধর্মঘটে সব ধরনের বই ছাপানো বন্ধ- দৈনিক যায়যায়দিন

পাঠ্যবই প্রস্তুতকারকদের ধর্মঘটের কারণে বন্ধ আছে সব ধরনের বই ছাপানো ও সরবরাহের কাজ। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) মুদ্রণশিল্পের ওপর নতুন শর্তারোপ করেছে এ অভিযোগ করে তার প্রতিবাদে মুদ্রণশিল্প সমিতি এই ধর্মঘট করছে।মঙ্গলবার সকাল থেকে এই ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। আগের দিন সোমবার মুদ্রণশিল্প সমিতির নেতারা অনির্দিষ্টকালের জন্য এ ধর্মঘটের ডাক দেন। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে মুদ্রণশিল্প সমিতির সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, 'এনসিটিবি নানা ধরনের বেআইনি কাজ করছে। কার্যাদেশের বাইরে নতুন করে শর্ত জুড়ে দিচ্ছে। এসবের প্রতিবাদে আমরা মঙ্গলবার থেকে বইয়ের মুদ্রণসহ সব ধরনের কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।'তবে সংকট সমাধানে মঙ্গলবার সকালে পাঠ্যবই মুদ্রণকারী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে জরুরি সভায় বসেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা।
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবরঃ
সব রোহিঙ্গাকে জঙ্গি ভাবা ঠিক নয়, কেন্দ্র বিরোধী সুর চড়ালেন মমতা- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ফের কেন্দ্রকে একহাত নিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রোহিঙ্গাদের ভারতে আশ্রয় দেওয়ার পক্ষেই মত দিলেন মমতা। বললেন, ‘সব রোহিঙ্গা জঙ্গি নয়। কারও সঙ্গে জঙ্গি যোগ থাকলে কেন্দ্র ব্যবস্থা নিক।’ সাধারণ মানুষের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদীদের তুলনা করলে চলবে না, সোমবার নবান্নে বলেন মমতা।
মমতার এদিনের বক্তব্য কেন্দ্র বিরোধী বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ কেন্দ্র স্পষ্টই জানিয়েছে, পাক ও আইএস জঙ্গিদের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের যোগসাজশের প্রমাণ রয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের হাতে। সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে মোদি সরকার। কেন্দ্রের দাবি, মায়ানমার সীমান্তে ফাঁকফোকর গলে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা ভারতে ঢুকে পড়েছে। হায়দরাবাদ, দিল্লি, জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি নাশকতামূলক কাজকর্মে রোহিঙ্গা যোগের প্রমাণ রয়েছে কেন্দ্রের কাছে। তাই ভারতে কোনও রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে রাজি নয় কেন্দ্র। সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা পেশ করে কেন্দ্র বলেছে, আশ্রয় নয়, বরং মায়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যর্পণের পক্ষে। যদিও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেছেন, ‘তার মানে এই নয় যে কোনও রোহিঙ্গাকে গুলি করে হত্যা করা হবে না সমুদ্রে ভাসিয়ে দেওয়া হবে।’
রেহাই দেবে কি মেঘ, চিন্তায় পুজো উদ্যোক্তারা- দৈনিক আনন্দবাজার

আশ্বিনের আকাশ, নাকি ভরা শ্রাবণ!নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ— শারদীয় আকাশের চেনা ছবি এটাই। কিন্তু কোথায় কী! দু’দিন ধরে কালো শ্রাবণী মেঘে ছেয়ে গিয়েছে আকাশ। আর যখন-তখনই সেই মেঘ ফুঁড়ে নেমে আসছে বৃষ্টি।
সকালটা ভাল হলে সারা দিনটা নাকি ভাল যায়। পুরো শারদোৎসবকে একটা দিন ধরলে মহালয়া তার সকাল। সোমবার রাতে আর মঙ্গল-মহালয়ার দুপুরে বৃষ্টি দেখে পুজোর চার দিনের আবহাওয়া নিয়ে চিন্তিত উদ্যোক্তারা। পুজো কমিটি থেকে প্রশাসনের কর্তা পর্যন্ত সকলেই জানতে চাইছেন, পুজোয় আবহাওয়ার মতিগতি ঠিক কেমন থাকবে?
বর্ষাশেষে শরতের আগমনি অবশ্য বেশ কিছুটা আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল নীল আকাশ আর সাদা মেঘের যুগলবন্দিতে। আশা জেগেছিল, দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গ ভাসিয়ে মহাপুজোয় প্রসন্ন হবে প্রকৃতি। পুজোর উদ্বোধন শুরু হয়েছে সোমবারেই। শনিবারের মধ্যে শহরের অর্ধেক বড় পুজো দর্শনার্থীদের জন্য মণ্ডপ খুলে দেবে। তার মধ্যেই হঠাৎ কালো মেঘের হানাদারি এবং ক্ষণে ক্ষণে বিক্ষিপ্ত বর্ষণ চিন্তা বাড়াচ্ছে।
আপনার সময়ে কী করেছিলেন, মনমোহনকে প্রশ্ন কাশ্মীরিদের- দৈনিক আজকাল

ক্ষমতায় থাকার ১০ বছরে কাশ্মীর সমস্যা মেটাতে কী ব্যবস্থা নিয়েছিলেন? কাশ্মীর সমস্যার সমাধান খুঁজতে কংগ্রেস প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে শ্রীনগর গিয়ে এমন প্রশ্নের মুখে পড়লেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। শুনতে হল, কাশ্মীর সমস্যা মেটাতে ইউপিএ যদি সত্যিই আন্তরিক ছিল, তাহলে তাঁর সরকারের মধ্যস্থতা কমিটির একটি সুপারিশও কার্যকরী হল না কেন? আফজল গুরুকে কেন ফাঁসি দেওয়া হল? সংবিধানের ৩৫ (এ) ধারা সম্বন্ধে কংগ্রেসের অবস্থান কী? জানতে চাইল কাশ্মীরের বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদল।
দু’দিনের শ্রীনগর সফরে ৬১টি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দেখা করেন মনমোহন সিং। সঙ্গে ছিলেন পি চিদম্বরম, অম্বিকা সোনি এবং গুলাম নবি আজাদ। প্রায় ১২০০ জনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে কড়া কথা শুনিয়েছেন প্রাক্তন আমলা মুহম্মদ শফি পণ্ডিত। বলেছেন, নিজের কর্মজীবন এবং তারপরে বিভিন্ন সংস্থার হয়ে কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে তিনি সচেষ্ট থেকেছেন। কিন্তু তাঁদের কোনও পরামর্শই কেন্দ্র সরকার শোনেনি। এমন অবস্থায় কাশ্মীরের মানুষ কেন ভারত সরকারকে বিশ্বাস করবে? স্বাধীনতার পর থেকে কংগ্রেসই সবচেয়ে বেশি সময় কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল। তাই কাশ্মীর সমস্যার দায় কংগ্রেস অস্বীকার করতে পারে না। বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের এমন সমস্ত প্রশ্নের মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন মনমোহন। কোনও প্রশ্নেরই জবাব দেননি।
প্ররোচনায় পা নয়, উৎসব কাটান শান্তিতেই: মুখ্যমন্ত্রী- দৈনিক বর্তমান

উৎসবের বোধন শুরু হয়ে গেল। দেবীর অধিবাসের এখনও সপ্তাহখানেক বাকি। বাঙালির শ্রেষ্ঠ পার্বণ শারদোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়ে গেল মহালয়ার দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। দেবীর চক্ষুদান থেকে প্রতিমার আবরণ উন্মোচন এবং চণ্ডীর স্তোত্রপাঠের মধ্যে দিয়ে নজরুল মঞ্চে তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’র উৎসব সংখ্যা প্রকাশ করলেন মমতা। উৎসবের দিনগুলি শান্তিতে কাটাতে তাঁর পরামর্শ, কোনও রকম কুৎসা বা প্ররোচনার ফাঁদে কেউ যেন পা না দেন। রাজ্য প্রশাসন সজাগ রয়েছে। আমজনতাকে এমন আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
রাজ্যে ধর্মীয় বিভাজনে সক্রিয় একাংশ। একইসঙ্গে দুই সম্প্রদায়ের দুটি পরব পড়ে যাওয়ায় প্রশাসনের কাছে সম্প্রীতি বজায় রাখাটা বড় চ্যালেঞ্জ। ইতিমধ্যেই সংঘ পরিবার বিজয়া দশমীতে অস্ত্রপুজোর উদ্যোগ নেওয়ায় কড়া মনোভাব নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনওভাবেই ধর্মের নামে অশান্তি বা সম্প্রীতির বাতাবরণ নষ্ট করতে দেবেন না, আগেই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন মমতা। এদিন দক্ষিণ কলকাতার হিন্দুস্থান ক্লাবের প্রতিমার আবরণ উন্মোচনের পর মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা আরও নির্দিষ্ট। তিনি বলেন, কোনও কুৎসা বা প্ররোচনায় কেউ পা দেবেন না। উৎসবের দিনগুলি সবাইকে শান্তিতে কাটানোর আবেদন জানান তিনি।
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২০