সু চি’র মিথ্যাচার ধরিয়ে দিলো অ্যামনেস্টি: এখনো পুড়ছে রোহিঙ্গাদের গ্রাম
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৪ সেপ্টেম্বর রোববারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম:
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- সু চি’র মিথ্যাচার ধরিয়ে দিলো অ্যামনেস্টি: এখনো পুড়ছে রোহিঙ্গাদের গ্রাম- দৈনিক ইনকিলাব
- এবার আকিয়াবে সেনা অভিযান- দৈনিক নয়াদিগন্ত
- নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক ডেকেছে ৭ দেশ- দৈনিক প্রথম আলো
- রোহিঙ্গা ইস্যুতে উস্কানিতে সরকার প্ররোচিত হবে না: সেতুমন্ত্রী- দৈনিক মানবজমিন
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র বানচাল- দৈনিক ইত্তেফাক
- এবারও অনিশ্চয়তায় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন!- দৈনিক যুগান্তর
- 'সুপার ম্যালেরিয়া' আতঙ্ক, সতর্ক বাংলাদেশ- দৈনিক সমকাল
- কথা দিয়েও চালের দাম কমাচ্ছেন না মিল মালিকরা- দৈনিক যায়যায়দিন
ভারতের শিরোনাম:
- রোজ জাতীয় পতাকা তুলতে হবে মাদ্রাসাগুলিতে, নিদান শিক্ষামন্ত্রীর!- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- , ফেসবুকে কুৎসার জবাব দিন: মুখ্যমন্ত্রী- দৈনিক আজকাল
- বার্তা পাঠিয়ে সন্ধি চাইছেন বিমল গুরুঙ্গ- দৈনিক আনন্দবাজার
- খোকা ইলিশ ধরলে বা কিনলে খাটতে হবে জেলের ঘানি- দৈনিক বর্তমান
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
সু চি’র মিথ্যাচার ধরিয়ে দিলো অ্যামনেস্টি: এখনো পুড়ছে রোহিঙ্গাদের গ্রাম- দৈনিক ইনকিলাব

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি ৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে মিয়ানমারে আর কোনও সেনা অভিযান হয়নি বলে যে দাবি করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। রাখাইন রাজ্যের ভেতর থেকে স¤প্রতি ধারণ করা নতুন তিনটি ভিডিও ও স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে অ্যামনেস্টি দেখিয়েছি, শুক্রবারও নতুন করে জ্বলতে দেখা গেছে রাখাইনের গ্রাম। উড়তে দেখা গেছে, ধোঁয়ার কুন্ডলি।
রাখাইন রাজ্যে অবস্থানকারী সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যামনেস্টি আরো দাবি করে, গত শুক্রবার বিকেলে রোহিঙ্গাদের গ্রাম থেকে ধোঁয়া উড়ার ছবি পাওয়া গেছে। গ্রামগুলো পুড়িয়ে দেয় মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। অ্যামনেস্টির সংকট মোকাবিলা তথা ক্রাইসিস রেসপন্স বিভাগের পরিচালক টিরানা হাসান গত শুক্রবার দিবাগত রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, তৃণমূল ও মহাকাশ থেকে গৃহীত মারাত্মক এই প্রমাণ বিশ্বের কাছে অং সান সুচির করা দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। সন্ত্রাসে ভীত হয়ে পালিয়ে যাওয়ার আগে, পালানোর ক্ষণে এবং পরেও রোহিঙ্গাদের বাড়ি ও গ্রাম পোড়ানো অব্যাহত আছে। রোহিঙ্গাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তাদের বাড়িতে ফেরার কোনো সুযোগ দিতে চাচ্ছে না।
এবার আকিয়াবে সেনা অভিযান- দৈনিক নয়াদিগন্ত

আরাকান রাজ্য থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের অস্তিত্ব মুছে দিতে এবার সেখানের বন্দরনগরী আকিয়াবে (বর্তমান নাম সিটওয়ে) পরিকল্পিতভাবে স্থলমাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রোহিঙ্গাদের দায়ী করছে মিয়ানমারের সেনারা। গত বুধবার আকিয়াব জেলার মাম্ব্রা ইউনিয়নের হত্তিপাড়ায় একটি নির্জন জায়গায় তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এরপরও এ ঘটনাকে পুজি করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে সেনাবাহিনী। আরকান রাজ্যের তিন জেলা- মংডু, বুচিডং ও রাচিডং শহরে জ্বালাও-পোড়াও, হত্যা, গুম ও বিতাড়নের কাজ শেষপর্যায়ে এনে এখন আকিয়াবে একই কায়দায় তাণ্ডব শুরু হয়েছে। জীবন বাঁচাতে আকিয়াবের মুসলমানরাও সাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। উল্লেখ্য, আকিয়াবে রোহিঙ্গাদের আধিক্য রয়েছে।
সেনাবাহিনীর এই অভিযানে ইন্ধন দিচ্ছে স্থানীয় রাখাইনদের সংগঠন নাডালা বাহিনী। সীমান্তের স্থলবন্দর ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের সেনারা আরাকানের রোহিঙ্গাদের চলাচলের রাস্তায় যত্রতত্র স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে। এ রকম কিছু মাইন আকিয়াবের হত্তিপাড়ায় বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সমালোচনা তীব্র হচ্ছে: নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক ডেকেছে ৭ দেশ- দৈনিক প্রথম আলো

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে বৈঠক ডাকতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ পরিষদের সাত সদস্য।
বার্তা সংস্থা এএফপি শুক্রবার জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের ওই তিন স্থায়ী সদস্যসহ মিসর, কাজাখস্তান, সেনেগাল ও সুইডেন রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর পরিচালিত অভিযানের বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছ থেকে শুনতে চায়।
রাখাইনে সেনাবাহিনীর ‘শুদ্ধি অভিযান’ শেষ হওয়া নিয়ে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করেছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গত শুক্রবার অ্যামনেস্টি স্যাটেলাইট চিত্র ও ভিডিও চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে, রাখাইন এখনো জ্বলছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে উস্কানিতে সরকার প্ররোচিত হবে না: সেতুমন্ত্রী- দৈনিক মানবজমিন

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বর্তমান সংকট নিয়ে নানামুখী অপতৎপরতার বিষয়ে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনো ধরনের উস্কানিতে সরকার প্ররোচিত হবে না। গতকাল নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার নিজ বাড়িতে অসুস্থ-অসহায় লোকজনের মাঝে এবং মসজিদ-মাদরাসায় অনুদানের চেক হস্তান্তর শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী এ কথা বলেন। মন্ত্রী আরো বলেন, জাতিসংঘের চলমান অধিবেশনে রোহিঙ্গা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যকে বিশ্ব মিডিয়া বলেছে এটা সুস্পষ্ট এবং বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। তবে আমাদের দেশের একটি দলের কাছে এ বক্তব্য পছন্দ হয়নি। কারণ তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ঠিকমতো শুনেননি বা বুঝার ক্ষমতা নেই তাদের। ওই দলকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী আরো বলেন, তাদের হাতে মূলত কোনো ইস্যু নেই। তাই রোহিঙ্গা ইস্যুকে পুঁজি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে তারা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র বানচাল- দৈনিক ইত্তেফাক

চার সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার একটি ষড়যন্ত্র বানচাল করে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুগত এবং জঙ্গি-সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তারা। খবর নিউজ ১৮ (ভারত)। সংবাদমাধ্যমটি ঢাকার দুটি ও আন্তর্জাতিক দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার প্রস্তুতি নিয়েছিল পরিকল্পনাকারীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসএসএফের এক শীর্ষ কর্মকর্তার সূত্র দিয়ে সংবাদমাধ্যমটিতে লেখা হয়েছে, জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এই হামলার পরিকল্পনা সমন্বয় করছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী জেএমবির জিহাদিরা প্রধানমন্ত্রীর অফিসের চারপাশে সিরিজ বোমার বিষ্ফোরণ ঘটাতো। ফলে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর মনোযোগ সেদিকে আকর্ষিত হতো। তখন হত্যাকারীর পালানোর পথ তৈরি হতো। এ পরিকল্পনাটি গ্রহণ করা হয়েছিল ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যার ঘটনা থেকে।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ৬ থেকে ৭ জন বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) সদস্য প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র নিচ্ছিল। এটি হতো একটি ‘ইনসাইড জব’। যার বাইরে থেকে তাদের সমর্থনে থাকতো জেএমবি।
এবারও অনিশ্চয়তায় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন!- দৈনিক যুগান্তর

টানা দ্বিতীয়বারের মতো সার্ক শীর্ষ সম্মেলন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রত্যেক বছরের নভেম্বরে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। গতবারের মতো ভারত এবারও সার্ক সম্মেলন নিয়ে তাদের অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়া সার্কের বিকল্প হিসেবে এরই মধ্যে ভারত নিজেদের বিমসটেকে সক্রিয় করছে। বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালকে নিয়ে বিবিআইএন নামের প্রকল্প দাঁড় করছে দেশটি।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সার্ক দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। সেখানে যোগ দিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন নিয়ে তার দেশের অনাগ্রহের কথা জানিয়ে দেন। মূলত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের উদ্যোগে গঠিত দক্ষিণ এশীয় এ ফোরামের ওপর। সার্ক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে সুষমা সাফ জানিয়ে দেন, সার্ক তার লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। উন্মুক্ত বাণিজ্য কিংবা বাণিজ্য-সংক্রান্ত চুক্তি না থাকায় সংস্থাটি তার কার্যকারিতা হারিয়েছে। তিনি সার্ক শীর্ষ সম্মেলন হবে না এমন প্রসঙ্গ আনেননি।
'সুপার ম্যালেরিয়া' আতঙ্ক, সতর্ক বাংলাদেশ- দৈনিক সমকাল

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ওষুধ প্রতিরোধী 'সুপার ম্যালেরিয়া' বিশ্বব্যাপী ভয়ানক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই সুপার ম্যালেরিয়া হচ্ছে ম্যালেরিয়া জীবাণুুর বিপজ্জনক সংস্করণ, যা ম্যালেরিয়া রোগ সারাতে বর্তমানে প্রচলিত প্রধান ওষুধ আর্টেমিসিনিনে নিরাময়যোগ্য নয়। স্বাস্থ্য বিষয়ক জার্নাল 'দ্যা ল্যানসেট ইনফেকশাস ডিজিস'-এ প্রকাশিত নিবন্ধের বরাত দিয়ে বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম এ খবর দিয়েছে।
এদিকে সুপার ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সতর্কমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিকেবল ডিজিস কন্ট্রোল প্রোগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা।
শনিবার সন্ধ্যায় তিনি সমকালকে বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সুপার ম্যালেরিয়া বিস্তারের খবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে রয়েছে। থাইল্যান্ড, লাওস ও ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলে এই ম্যালেরিয়া ছড়িয়ে পড়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে এর বিস্তার না থাকলেও সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ রোগ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে জন্য রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির-সংশ্লিষ্ট এলাকায় একটি ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে। আক্রান্ত কাউকে পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে ওই নিয়ন্ত্রণ কক্ষে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
কথা দিয়েও চালের দাম কমাচ্ছেন না মিল মালিকরা- দৈনিক যায়যায়দিন

মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সরকারকে পাইকারি বাজারে চালের দাম কমানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন মিল মালিক ব্যবসায়ীরা। গত মঙ্গলবারের ওই বৈঠকের প্রেক্ষিতে কেজিপ্রতি দেশি চালে ২ থেকে ৩ টাকা ও ভারতীয় চালে ৫ টাকা করে দাম কমানোর কথা থাকলেও প্রতিশ্রুতি অনুসারে কমেনি।
বাংলা নিউজ জানায়, শনিবার পুরান ঢাকার বাবুবাজার পাইকারি চালের আড়তে গিয়ে জানা গেছে, দেশি চালে ১ টাকা ও ভারতীয় চালে ২ টাকা করে কমেছে। মিল মালিকরা না কমানোয় বাড়তি দাম নামছে না বলে অভিযোগ পাইকারি ব্যবসায়ীদের। তাদের মতে, সরকারি নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও জবাবদিহিতা ও মনিটরিংয়ের অভাবে ইচ্ছামতো চাল বাজারে ছাড়ছেন মিল মালিকরা।
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:
রোজ জাতীয় পতাকা তুলতে হবে মাদ্রাসাগুলিতে, নিদান শিক্ষামন্ত্রীর!- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

আবার জাতীয় পতাকা নিয়ে আজব নিদান। এবার মধ্যপ্রদেশের শিক্ষামন্ত্রীর পরামর্শ, রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিতে রোজ তুলতে হবে জাতীয় পতাকা। গাইতে হবে জাতীয় সংগীত।
শিক্ষামন্ত্রী বিজয় শাহ ভোপালে রাজ্য মাদ্রাসা বোর্ডের ২০ তম প্রতিষ্ঠা দিবসের এক অনুষ্ঠানে এই পরামর্শ দেন। রাজ্যের মাদ্রাসাগুলির কাছে রোজ জাতীয় পতাকা তোলা ও জাতীয় সংগীত গাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি এও বলেন যে এই নিয়মে কারও কোনও অসুবিধে থাকার কথা নয়। তাঁর বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন অংশে জাতীয় সংগীত গাওয়া নিয়ে বহু বিতর্ক হয়েছে। তাই মাদ্রাসাগুলির কাছে তাঁর আবেদন, জাতীয়তাবাদের পাঠ দিতে হবে এখান থেকেই। শৈশব থেকেই গড়ে তুলতে জাতীয়তাবাদের শিকড়।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত হন মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ ইমাদউদ্দিন। মাদ্রাসা বোর্ড পাঠ্যক্রম বদলানোর ভাবনাচিন্তা করছে বলে জানান তিনি।
টুইট, ফেসবুকে কুৎসার জবাব দিন: মুখ্যমন্ত্রী- দৈনিক আজকাল

টুইট ও ফেসবুকে আমাদের বদনাম করা হচ্ছে। মিথ্যে কথা লেখা হচ্ছে। বসিরহাটের ঘটনা নিয়েও গুজব ছড়ানো হয়েছে। টুইট ফেসবুকে কুৎসার জবাব দিতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। কুৎসাকারীরা আনন্দ সহ্য করতে পারে না। ওদের কাউন্টার করতে হবে। উৎসবের সময় গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করা হলে, আমি ছেড়ে কথা বলব না। এদিন মমতা গিয়েছিলেন সুরুচি সঙ্ঘে অরূপ বিশ্বাসের পুজোয়। উদ্বোধন করে এই মণ্ডপের ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাঁশ, ছোবড়া, দরমা, মাটি দিয়ে গ্রাম–বাংলার আসল চিত্র শিল্পী তুলে ধরেছেন। অনবদ্য। এর কোনও তুলনা নেই। সুরুচির মণ্ডপে আসন্ন বিশ্বকাপের থিম দেখে মমতা অভিভূত হয়ে যান। শিল্পীর শিল্প যে সার্থক, তা তিনি মুক্তকন্ঠে উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, মহালয়ার পর থেকেই মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় হতে শুরু করে। প্রশাসন থেকে খবর পেয়েছি, শুক্রবার রাতেই বহু মানুষ প্রতিমা দর্শনে গিয়েছিলেন। এই শান্ত বাংলাকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে একদল গুডি গুডি লোক। এরা খুব ভয়ঙ্কর। এদের চিহ্নিত করা যায় না। তিনি বলেন, পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। এখন শুধু উৎসব।
বার্তা পাঠিয়ে সন্ধি চাইছেন বিমল গুরুঙ্গ- দৈনিক আনন্দবাজার

দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দার্জিলিং ছাড়া। পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বনে জঙ্গলে। রাশ আলগা হচ্ছে খাসতালুকে। এই অবস্থায় ‘ট্র্যাক টু’ মারফত আলোচনার বার্তা পাঠিয়েছেন বিমল গুরুঙ্গ। তিনি চাইছেন অন্তত রাজ্য সরকারের কোনও প্রতিনিধির সঙ্গে তাঁর পাঠানো প্রতিনিধির কথা শুরু হোক। কিন্তু রাজ্য সরকার এই মৌখিক বার্তাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। লিখিত প্রস্তাব দিক গুরুঙ্গ। তবেই আলোচনা। জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য।
বিনয় তামাঙ্গরা যখন নবান্নে প্রথম বৈঠক করতে আসেন, সে সময়েই আলোচনায় উদ্দেশ্যে রাজ্যকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন গুরঙ্গ। গোর্খা শিবির বলছে, যে কোনও ভাবে আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছেন গুরুঙ্গ। সে ক্ষেত্রে তাঁর ও দলের নেতাদের নামে থাকা ফৌজদারি অভিযোগগুলি তুলে নেওয়ার প্রশ্নে দর কষাকষি করা সহজ হবে।
খোকা ইলিশ ধরলে বা কিনলে খাটতে হবে জেলের ঘানি- দৈনিক বর্তমান

ছোট ইলিশ বা ‘খোকা’ ইলিশ কিনছেন? সাবধান। গ্রেপ্তার হতে পারেন। বাংলাদেশের আদলে এবার এরকমই কড়া আইন প্রণয়ন করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বিধানসভায় শীতকালীন অধিবেশনে এই মর্মে বিল আনা হতে পারে বলে দপ্তর সূত্রের খবর। মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, এবিষয়ে একটি খসড়া নোট তৈরি করা হয়েছে। পুজোর পরই এনিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে। তারপর সেই খসড়া আইন দপ্তরের কাছে পাঠানো হবে।
মৎস্য দপ্তর সূত্রের খবর, ইলিশের বংশবৃদ্ধি ঠিক রাখতে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে জেল, জরিমানার আইন প্রণয়ন করেছে। পশ্চিমবঙ্গে এখনও এরকম কোনও কড়া আইন নেই। মানুষের মধ্যেও সচেতনতার অভাব রয়েছে। এর জেরে ইলিশের বংশবিস্তার ক্রমশই কমছে। প্রতি বছর চাহিদা মতো ইলিশ উৎপাদন হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, ছোট ইলিশ ধরা বন্ধ না করা গেলে, অদূর ভবিষ্যতে অবলুপ্তি ঘটবে ইলিশের। তা সত্ত্বেও মানুষের রসনা মেটাতে দেদারে ধরা হচ্ছে ‘খোকা’ ইলিশ।
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৪