সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭ ০৮:০০ Asia/Dhaka

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৫ সেপ্টেম্বর সোমবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম:

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • সেনাদের হাত থেকে পালিয়ে এসে সেনাদের হাতেই স্বস্তি- দৈনিক যুগান্তর
  • সন্তানদের সামনেই শামিলাকে ধর্ষণ করে বার্মিজ সেনারা- দৈনিক মানবজমিন
  • সুন্দরী রোহিঙ্গা তরুণীদের নতুন বিপদ- দৈনিক নয়াদিগন্ত
  • রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে: জাতিসংঘ- দৈনিক ইত্তেফাক
  • সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ মানববন্ধন মিছিল ও বিবৃতি অব্যাহত- দৈনিক ইনকিলাব
  • বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিয়ানমার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে: অর্থমন্ত্রী- দৈনিক সমকাল
  • যুক্তরাষ্ট্র বসে প্রধানমন্ত্রী ফাইলে স্বাক্ষর করছেন- দৈনিক প্রথম আলো
  • নতুন শিক্ষা আইনেও কোচিংবাণিজ্যের ফাঁদ- দৈনিক যায়যায়দিন
  • ভয়েস অব আমেরিকাকে প্রধানমন্ত্রী: আগামী নির্বাচন হবে অবাধ ও নিরপেক্ষ- দৈনিক যুগান্তর

ভারতের শিরোনাম:

  • নকল ছবি, ভারতকে হেয় করার চেষ্টা পাকিস্তানের- দৈনিক আজকাল
  • চিন-পাকিস্তানকে চাপে রাখতে অত্যাধুনিক ড্রোন কিনছে ভারত
  • হুমকিতেই রইল বন্‌ধ- দৈনিক আনন্দবাজার
  • চতুর্থীতেই মণ্ডপে জনতার ঢল, ব্যাপক যানজট শহরে- দৈনিক বর্তমান

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

সেনাদের হাত থেকে পালিয়ে এসে সেনাদের হাতেই স্বস্তি- দৈনিক যুগান্তর

রোহিঙ্গারা তাদের দেশ মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে আসছেন কেন? তারা আসছেন; কারণ নিজ দেশের সেনাবাহিনী তাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নিঃশেষ করে দিতে চায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা রাষ্ট্রীয় কিছু স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। তাতে মারা যায় ১২ জন পুলিশ সদস্য। এই ছুতোয় রাখাইন রাজ্যজুড়ে নিধন অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। হত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ার অভিযান। জাতিসংঘের তথ্য মতে, গত এক মাসে দুই শতাধিক গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গারা বাস করতেন যেসব এলাকায় তার প্রায় ৪০ শতাংশ এখন মানবশূন্য।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই নিধন অভিযানের মুখে প্রাণ নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন সোয়া চার লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর তথ্য এটি।

নিজ দেশের সেনাদের হাত থেকে পালিয়ে আসা এসব মানুষ এখন কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। শরণার্থীদের এই বিশাল বহরকে নিয়ন্ত্রণ, তাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, ত্রাণের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাসহ মাঠের যাবতীয় বিষয় তত্ত্বাবধানের জন্য বাংলাদেশ সরকার সেনাবাহিনীকে নিয়োগ করেছে।

সন্তানদের সামনেই শামিলাকে ধর্ষণ করে বার্মিজ সেনারা- দৈনিক মানবজমিন

মিয়ানমারের সেনারা অকস্মাৎ হামলে পড়ে শামিলার (২৫) ঘরে। তার সন্তানদের সামনে খুলে নেয় তার কাপড়। শুরু করে ধর্ষণ। একের পর এক সেনাসদস্য তার ওপর নরপিশাচের মতো হামলে পড়ে। রক্তাক্ত করে শামিলাকে (আসল নাম নয়)। সন্তানের আর্তনাদ, শামিলার চিৎকারে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। কিন্তু নরপিশাচদের মনকে টলাতে পারেনি তা। সন্তানদের সামনে রক্তাক্ত শামিলাকে ফেলে এক পর্যায়ে চলে যায় হায়েনার দল। এ অবস্থায় শামিলা পালানোর সিদ্ধান্ত নেন।

তার শরীর থেকে তখনও ঝরছে রক্ত। সন্তানদের সামনে মুখ দেখাতে পারছেন না। কখনো মনে হয় আত্মহত্যা করতে। কিন্তু পারেন না ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশে চলে আসবেন। রক্তাক্ত শামিলা হাঁটা শুরু করেন। তিন দিন হাঁটেন। তারপর পৌঁছেন বাংলাদেশে। শামিলার এমন নির্মমতা তুলে ধরেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে তিনি বর্ণনা দিয়েছেন তার ওপর চালানো মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সদস্য নামধারী কিছু নরপিশাচের অত্যাচারের কথা। এমন অত্যাচারের শিকার হয়েছে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নারীদের অনেকে। তারা পালিয়ে বাংলাদেশে এলেও আতঙ্ক তাদের পিছু ছাড়ছে না।

সুন্দরী রোহিঙ্গা তরুণীদের নতুন বিপদ- দৈনিক নয়াদিগন্ত

ইতিহাসের ঘৃণ্যতম নির্যাতনের শিকার রাখাইন-রোহিঙ্গারা। অত্যাচার থেকে বাঁচতে দলে দলে রোহিঙ্গা শরণার্থী পালিয়ে এসেছে বাংলাদেশে। এদের মধ্যে নারী-শিশুই বেশি। এখানে এত মানুষের একসাথে বসবাসের জন্য রয়েছে নানা সঙ্কট। কিন্তু তার চেয়ে বেশি বিব্রত করছে রোহিঙ্গা তরুণীদের নিরাপত্তার সঙ্কট। এখানেও কিছু খারাপ মানুষ তাদের নানাভাবে হয়রানি করছে।

মিয়ানমারের বুচিডং টমবাজার থেকে পালিয়ে এসে কুতুপালং অস্থায়ী রোহিঙ্গা বস্তিতে ঠাঁই নিয়েছেন তরুণী হামিদা। তার বাবাকে মিয়ানমারের সেনারা গুলি করে হত্যা করেছে। মা ও এক ছোট বোনের সাথে চার দিন আগে তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে এসেও স্বস্তিতে নেই হামিদা ও মা আলেয়া খাতুন। সুন্দরী হওয়ায় কিছু লম্পট তাকে ঘিরে রয়েছে। একই সাথে দালালও তাদের আশেপাশে ঘুরঘুর করছে। তিন দিন ধরে নানাভাবে হামিদা ও তার মাকে ফুঁসলাচ্ছে লম্পট ও দালালেরা। নানাভাবে লোভও দেখাচ্ছে। তারা হামিদাকে কুপ্রস্তাবও দিয়েছে। বিনিময়ে টাকা দেবে বলে প্রলোভন দেখাচ্ছে। শুধু লম্পট যুবকেরা নয়, কয়েকজন দালালও হামিদার মাকে টাকার প্রস্তাব দিয়েছে। তরুণী হামিদাকে তারা হোটেলে রাখবে। বিনিময়ে অনেক টাকা দেবে। হামিদা বলেন, ‘বাবাকে চোখের সামনে মরতে দেখেছি। নিজের প্রাণ বাঁচাতে চরম আতঙ্ক নিয়ে পালিয়ে এসেছি। কিন্তু এখানে এসেও শান্তি নেই। প্রতিনিয়ত লম্পটদের কালো হাত তাড়া করছে। এই আতঙ্কের কারণে একটুও শান্তি পাচ্ছি না।

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে: জাতিসংঘ- দৈনিক ইত্তেফাক

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেছেন, মিয়ানমার থেকে সমপ্রতি যে  ৪ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে তাদের খাওয়াতে এবং আশ্রয় দিতে বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উপচেপড়া ভিড় প্রত্যক্ষ করে গতকাল রবিবার তিনি বলেন, আমাদের সামনে বিরাট  চ্যালেঞ্জ। তাদের বিশাল চাহিদার মাত্রা আমাকে স্তব্ধ করেছে। তাদের সবকিছুই প্রয়োজন। খাবার, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয় এবং উপযুক্ত স্বাস্থ্য সুবিধা।

গ্র্যান্ডি বলেন, যেখানে পৃথিবীর সবখানে শরণার্থীদের ব্যাপারে শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব দেখানো হয়, সেখানে ভীতসন্ত্রস্ত রোহিঙ্গাদের প্রবেশে সীমান্ত খোলা রাখায় বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তবে তাত্ক্ষণিক ভোগান্তি দূর হওয়া সত্ত্বেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। রোহিঙ্গাপ্রবাহ সৃষ্টির কারণ যেহেতু মিয়ানমারে, স্পষ্টত এর সমাধান মিয়ানমারের কাছেই।

সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ মানববন্ধন মিছিল ও বিবৃতি অব্যাহত- দৈনিক ইনকিলাব

মিয়ানমারে গণহত্যার চেয়ে ভয়ঙ্কর জাতিগত নিধন বন্ধ এবং বাংলাদেশে আগত রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিকত্ব দিয়ে আরাকানে তাদের ভিটেমাটিতে স্থায়ীভাবে নিরাপত্তার সাথে বসবাসের নিশ্চয়তা দিয়ে ফিরিয়ে নেবার দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকালও বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন ও মিছিল হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন এ নৃশংসতার তীব্র নিন্দা করে বিবৃতিদান অব্যাহত রেখেছে। বিভিন্ন কর্মসূচি ও বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আরকান জান্তাকে বাধ্য করতে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের মানবিক বিপর্যয় রোধ ও ত্রাণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালন এবং নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের ত্রাণপ্রাপ্তি নিশ্চিতে পর্যাপ্ত সেনা মোতায়েন জরুরী। নেতৃবৃন্দ বান্দরবানসহ যেসব এলাকায় এখনো ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না সেসব স্থানে আশ্রিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের মাঝে জরুরী ভিত্তিতে ত্রাণ তৎপরতা শুরু করার দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিয়ানমার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে: অর্থমন্ত্রী- দৈনিক সমকাল

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে মিয়ানমার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এক প্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা চলছে। ৪ লাখের  বেশি রোহিঙ্গা এদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে দোলা দিয়েছে। তবে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেছি। আমরা মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে আশ্রয় নিয়েছি। রোহিঙ্গাদেরও মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছি।

 রোববার টঙ্গীর বাদাম এলাকায় স্থাপিত শতভাগ  রফতানিমুখী বিকাশমান শিল্পকারখানা অ্যাননটেক্স গ্রুপের স্বাস্থ্য ক্যাম্প উদ্বোধন  শেষে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্র বসে প্রধানমন্ত্রী ফাইলে স্বাক্ষর করছেন- দৈনিক প্রথম আলো

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র থেকে জরুরি ফাইলপত্রে ডিজিটালি স্বাক্ষর করছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন বাসসকে এ কথা জানিয়েছেন। জাতিসংঘের ৭২ তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান শেষে প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে ওয়াশিংটনে রয়েছেন।

আশরাফুল আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায় জরুরি সব ইলেকট্রনিক ফাইল (ই-ফাইল) পাঠানে জন্য তাঁর কার্যালয়কে নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটন থেকে বেশ কিছু জরুরি গুরুত্বপূর্ণ ই-ফাইল আজ ডিজিটালি নিষ্পত্তি করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ই-মেইলের মাধ্যমে জরুরি ই-ফাইলগুলো ওয়াশিংটনে পাঠাচ্ছেন।

নতুন শিক্ষা আইনেও কোচিংবাণিজ্যের ফাঁদ- দৈনিক যায়যায়দিন

কয়েক দফা সংশোধন ও পেছানোর পর নতুন করে আবারও শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হলেও এতে কোচিংবাণিজ্যের ফাঁক রয়েই গেছে। তাই এই খসড়া চূড়ান্ত হলে এ অপতৎপরতার ফাঁদ স্থায়ীভাবে বৈধতা পাবে বলে শিক্ষাবিদরা জোরালো আশঙ্কা করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন আইনের খসড়ায় 'শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিংবাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২' এর বিতর্কিত ২নং ধারাটি হুবহু রাখা হয়েছে। যা কৌশলে শিক্ষকদের বৈধভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরেই কোচিং করানোর সুযোগ করে দেবে।

নতুন আইনের খসড়া পাস হলে গাইড বই ও শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলা বন্ধের মতো ইতিবাচক দিক থাকলেও তা শিক্ষকদের কোচিং বা টিউশনি করানো থেকে বিরত রাখতে পারবে না। বরং ভিন্ন সঙ্গায়নের আলোকে বৈধভাবেই কোচিং করানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে; থাকবে টিউশনিরও সুযোগ।

প্রস্তাবিত এই আইনে একটি তফসিলসহ ৫১টি ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৩ পৃষ্ঠার এ আইনের খসড়ার ২৪নং ধারার ৩নং উপধারায় বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের লিখিত সম্মতি নিয়ে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে পারবে। যা ২০১২ সালে প্রণীত 'শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিংবাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২' এর বিতর্কিত ২ ধারারই অংশ।

ভয়েস অব আমেরিকাকে প্রধানমন্ত্রী: আগামী নির্বাচন হবে অবাধ ও নিরপেক্ষ- দৈনিক যুগান্তর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতার হত্যার পর নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছেন, তারাই নির্বাচন প্রক্রিয়াটাকে ধ্বংস করেন।

আমরা দিনের পর দিন আন্দোলন-সংগ্রাম করে গণতান্ত্রিক ধারাটা আবার ফিরিয়ে এনেছি। আজ নির্বাচন যত সুষ্ঠু হচ্ছে, মানুষ ভোট দিতে পারছে- এটা আমাদের অবদান। মানুষ তার পছন্দমতো লোককেই নির্বাচন করবে। আমরা সেটাই চাই। নির্বাচন প্রক্রিয়া আমরাই উন্নতি করেছি। ভয়েস অব আমেরিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আগামী নির্বাচন সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যে কাজ করেছি, তাতে যদি জনগণ খুশি হয় ভোট দেবে, না হলে দেবে না। যা দেবে তাই আমরা মেনে নেব। নির্বাচন কমিশন এখন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। নির্বাচন অবশ্যই অবাধ নিরপেক্ষ হবে। নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবে নির্বাচন কমিশন। তারাই সব করবে।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:

‌নকল ছবি, ভারতকে হেয় করার চেষ্টা পাকিস্তানের- দৈনিক আজকাল

রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় ফের পাকিস্তানকে অপদস্ত হতে হল। জম্মু–কাশ্মীরে ‘‌পেলেট গান’‌–এ ক্ষত বিক্ষত যে কিশোরীর মুখের ছবি দেখিয়ে কাশ্মীরে অত্যাচার চালাচ্ছে ভারত বলে শনিবার দাবি করেছিল পাকিস্তান, তা আসলে গাজায় ইজরায়েলি আক্রমণে আহত এক কিশোরীর ছবি। পুরস্কারপ্রাপ্ত এই ছবিটি তুলেছিলেন চিত্রসাংবাদিক হেইদি লিভাইন। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিনিধি মালিয়া লোধি এই ছবিটি দেখিয়ে বেজায় অস্বস্তিতে পড়ে যান।

১৭ বছরের ওই কিশোরীর নাম রয়া আবু জোমা। ইসরায়েলি বিমানহানায় আহত কিশোরীর ফটো তোলেন ২০১৪ সালে গাজায় যু্দ্ধের খবর করতে যাওয়া চিত্রসাংবাদিক হেইদি লিভাইন। ফটোটি বহু জায়গায় প্রশংসা লাভ করে। সেই ফটোটি দেখিয়ে পাকিস্তান আবারও ভারতের গায়ে কালি ছেটাতে চেয়েছিল। কিন্তু মুখ পুড়ল শেষে পাকিস্তানের। বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বারবার রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে পাকিস্তানকে আক্রমণ করায়, পাক প্রতিনিধি ওই কিশোরীর ফটো দেখিয়ে জানান, ‘‌নিষ্ঠুর’‌। সুষমা স্বরাজ কাশ্মীরের এই সমস্যাকে ইচ্ছাকৃতভাবে অদেখা করছে। কাশ্মীরারা দিনের পর দিন অত্যাচারিত ভারতের কাছে। মালিয়া লোধির এই মন্তব্য শোনার পর ভারত সঙ্গে সঙ্গে কোনও উত্তর না দিলেও, শনিবার সন্ধ্যাতেই মোক্ষম জবাব দেয় পাকিস্তানকে।

চিন-পাকিস্তানকে চাপে রাখতে অত্যাধুনিক ড্রোন কিনছে ভারত

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জেমস ম্যাটিসের নয়াদিল্লি সফরের মূল লক্ষ্যই হতে চলেছে ভারত-মার্কিন সামরিক সমঝোতাকে আরও দৃঢ় করে তোলা। আমেরিকার কাছ থেকে ২২টি আন আর্মড হাই টেক মাল্টি মিশন প্রিডেটর ড্রোন কিনতে চায় ভারত। সামুদ্রিক নজরদারির কাজে এই অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহৃত হবে৷ ভারত মহাসাগরের উপর অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থাকবে এই ড্রোনগুলি৷ এরকম অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ভারতীয় সেনাভাণ্ডারে যুক্ত হলে নৌবাহিনী যে আরও কয়েকগুণ শক্তিশালী হবে, সে কথা মানছেন সমর-বিশেষজ্ঞরা৷

হোয়াইট হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে বৈঠক করেন৷ মোদির মার্কিন সফরের আগে ভারতীয় নৌবাহিনী মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরকে চিঠি লিখে ২২টি প্রিডেটর ড্রোন কিনতে আগ্রহ দেখায়৷ মার্কিন প্রশাসন এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও সূত্রের খবর, ভারতের দাবি মেনে ড্রোনগুলি নয়াদিল্লির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও ফেলেছে ওয়াশিংটন৷ ড্রোনগুলি বিক্রির বিষয়টি ব্যক্তিগত স্তরে দেখভাল করছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব। নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হওয়া এই গার্ডিয়ান ড্রোনগুলি তৈরি করে জেনারেল অ্যাটোমিক্স৷

হুমকিতেই রইল বন্‌ধ- দৈনিক আনন্দবাজার

পাহাড়ের ব্যবসায়ীরা মিলে শনিবার সিদ্ধান্ত নেন, রবিবার থেকে দার্জিলিঙের দোকানপাট খুলে দেওয়া হবে। তা আটকাতে মরিয়া কট্টরপন্থীরা এ দিন গাড়ি পুড়িয়ে, ভাঙচুর করে, এমনকী প্রাণে মারার হুমকি-পোস্টারে ‘বাঁচিয়ে রাখলেন’ বন্‌ধকে। নাম না করে অনেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, বহু জায়গায় বিমল গুরুঙ্গের নাম বলে টেলিফোনে হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ফলে ১০১ দিন পেরিয়ে এগিয়ে চলল অনির্দিষ্টকালের বন্‌ধ।

অথচ সকালটা ছিল অন্যরকম। এ দিন দার্জিলিঙের বিখ্যাত গ্লেনারিজ থেকে ম্যাল চৌরাস্তা, চকবাজার, জজবাজার এলাকায় দোকান খুলতে শুরু করে। গাড়ি সমতলে নামার প্রস্তুতি নেয়। কালিম্পং, মিরিক এবং কাশির্য়াঙেও খুলে যায় কিছু দোকানপাট। সর্বত্র শুরু হয় পুলিশ ও সিআরপিএফের টহল। বন্‌ধের ফতোয়া উপেক্ষা করে পাহাড় স্বাভাবিক হতে থাকায় রাস্তায় নেমে আসেন বাসিন্দারা।

বিমল গুরুঙ্গ বারবার বন্‌ধ চালানোর কথা বললেও যে এ ভাবে জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করবে, ভাবতে পারেননি কট্টরপন্থীরা। পরিস্থিতি ‘হাতের বাইরে’ চলে যাচ্ছে বুঝে তাঁরাও নেমে পড়েন রাস্তায়।

চতুর্থীতেই মণ্ডপে জনতার ঢল, ব্যাপক যানজট শহরে- দৈনিক বর্তমান

একডালিয়া এভারগ্রিনে এবার ৭৫ বছর উদযাপন। ইতিমধ্যেই সেই পুজোর উদ্বোধন করে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গড়িয়াহাটের নামজাদা পুজোটির ভিড়ের নামডাকও কম নয়। ভিড় এড়াতে তাই চতুর্থীর দুপুরেই হাজির হয়েছিল বহু মানুষ। কিন্তু কপাল খুলল কই? বিরাট পরদায় ঢাকা ছিল দুর্গা প্রতিমা। বেশ হতাশ হয়েই মানুষ সরে যাচ্ছিলেন সেখান থেকে। শুধু কি দক্ষিণ? উত্তরেও তো এখনও রেডি হয়নি বাগবাজার সর্বজনীন। সন্ধ্যা নামল। তবু জগজ্জননীর সাজ শেষ হল না। তাঁর জরি-সলমার ঝলমলে উপস্থিতিকে ম্লান করে দিল দড়ি বাঁধা বাঁশের খাঁচা। মণ্ডপের চূড়া সাদা কাপড়ে মোড়ার কাজ শেষ হল না। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ বয়ে কুচকাওয়াজের ঢঙে লরি-ম্যাটাডোরে চেপে সার দিয়ে মণ্ডপে চলতে থাকলেন দুর্গা। ঝাড়বাতির শেষ ধুলোটুকু কেউ কেউ মুছে যাচ্ছিলেন মণ্ডপে। তবু এত অগোছালো আয়োজনের ধার ধারল না জনতা। পুজোর জন্য অন্তহীন অপেক্ষার পর আর যেন তর সইল না। রোদে, ঘামে, ক্লান্তিতে, ফোসকায় উদযাপন হল চতুর্থীর। বোধনের অনেক আগেই জমকালো হয়ে উঠল শহর। ঝলমলে হয়ে উঠল উৎসব।

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৫