সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৭ ০৭:৫০ Asia/Dhaka

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৭ সেপ্টেম্বর বুধবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম:

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে ৭ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ-দৈনিক নয়াদিগন্ত অনলাইন
  • বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা: দেশীয় শিল্প ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্র- দৈনিক যুগান্তর
  • বিপর্যস্ত রোহিঙ্গা মানবতা- দৈনিক ইনকিলাব
  • গলায় ছুরি বসানোর পর যেভাবে বেঁচে আসেন রোহিঙ্গা যুবক- দৈনিক মানবজমিন
  • সু চিকে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের রোহিঙ্গাশিবির পরিদর্শনের আহ্বান- দৈনিক সমকাল
  • মিয়ানমারের ওপর অবরোধ আরোপের আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের- দৈনিক যায়যায়দিন
  • সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্ব সোচ্ছার’- দৈনিক ইত্তেফাক
  • রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় টিম- দৈনিক ইত্তেফাক

ভারতের শিরোনাম:

  • নিয়ন্ত্রণরেখায় ‘অপারেশন অর্জুন’ শুরু করল ভারতীয় সেনা- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • ফোনের বন্যা, বলছেন মুকুল: দল ভাঙবে না, আশায় তৃণমূল- দৈনিক আনন্দবাজার
  • চাপে পড়ে বন্‌ধ তুললেন গুরুং- দৈনিক আজকাল
  • পুজো শুরু হতেই পাহাড়ে খুলল অধিকাংশ দোকান- দৈনিক বর্তমান

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে ৭ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ-দৈনিক নয়াদিগন্ত অনলাইন

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে সাত ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। এবার (২০১৭-১৮) ১৩৭টি দেশের মধ্যে ৯৯তম অবস্থানে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। আজ বুধবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৩৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৬।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, এ বছর বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে গত বছরের চেয়ে এক ধাপ পিছিয়েছে ভারত। দেশটির অবস্থান এ বছর ৪০তম। অন্যদিকে এই সূচকে এগিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান ১২২তম অবস্থান থেকে এ বছর ১১৫তম অবস্থানে পৌঁছেছে।  মোট ১২টি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক শিক্ষা খাতে উন্নতি হওয়ায় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ।

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে এ বছর প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র। আর এক ধাপ পেছনে গিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে সিঙ্গাপুর। নেদারল্যান্ডস চতুর্থ স্থানে ও জার্মানি পঞ্চম অবস্থানে ঠাঁই পেয়েছে।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা: দেশীয় শিল্প ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্র- দৈনিক যুগান্তর

গ্যাসের দাম বাড়ানোর মাত্র ৩ মাসের মাথায় এবার বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবকে শিল্প ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, দেশীয় শিল্পকারখানা ধ্বংস করে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান বন্ধের মাধ্যমে দেশকে বড় ধরনের বিপদের দিকে ঠেলে দেয়ার চক্রান্ত চলছে।

অপরদিকে বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, হাজার হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দিয়ে এখন সেই টাকা সমন্বয় করতেই জনগণের পকেট কাটা হচ্ছে। বাড়ানো হচ্ছে ঘন ঘন গ্যাস-বিদ্যুতের দাম। তাদের মতে, সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি চক্র বিপুল অঙ্কের দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্য করে পছন্দের কোম্পানিকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের মধ্যে বড় বড় সফল বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প গড়ে উঠুক, তা চক্রান্তকারীরা চায় না। তারা চায়, বাংলাদেশ যেন গ্যাস-বিদ্যুতে কোনো দিন স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে না পারে। পরনির্ভরশীল করে জিম্মি করে রাখতে চায়। চক্রটি বেশি দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করবে, কিন্তু কম দামে বিদ্যুৎ দিতে পারে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেবে না।

বিপর্যস্ত রোহিঙ্গা মানবতা- দৈনিক ইনকিলাব

পল্লীকবি জসিমউদ্দিন আসমানীদের ঝড়বৃষ্টির দিনের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেছেন। আসমানীরা ঝড়বৃষ্টিতে কষ্ট পেলেও তারা ছিলেন স্বাধীন। ইচ্ছা করলেই এখানে সেখানে যেতে পারতেন। চলাফেরায় কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। কিন্তু মিয়ানমারে গণহত্যা থেকে প্রাণ বাঁচাতে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সে স্বাধীনতা নেই। ঝড়বৃষ্টি যাই আসুন ঘরে বসে থাকতে হবে। নিদৃষ্ট যায়গার বাইরে তাদের যাওয়া নিষিদ্ধ। আদম সন্তান মানুষের শোয়ার ঘর নয়; শরণার্থীরা যেন বসবাস করেন গরু-ছাগলের ঘরে। যে ঘরে প্যাঁক-পানিতে একাকার।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও মগ বর্গীদের নির্যাতন থেকে প্রাণে বেঁচে বাংলাদেশের শরণার্থী ক্যাম্পে ভাগ্যবান রোহিঙ্গারা এসে ঘুপরি ঘরে পশুর মতো বসবাসের আশ্রয় পেলেও হাজারো সমস্যায় জর্জরিত। ভাষা বোঝে না, বাস ট্রাক দেখে পথ চলতে পারে না, পর্যাপ্ত খাবার-পানি নেই, স্যানিটেশন না থাকায় দুর্গন্ধে ক্যাম্পে দু’মিনিট টেকা যায় না। অথচ তাদের থাকতে হচ্ছে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ায় শরীরের ওপর দিয়ে গেছে ভয়ঙ্কর ধকল; তারপরও শিবিরে নিত্যনতুন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

গলায় ছুরি বসানোর পর যেভাবে বেঁচে আসেন রোহিঙ্গা যুবক- দৈনিক মানবজমিন

হাফেজ মোহাম্মদ ইউনুচ। বয়স পঁচিশ। বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইনে বুথেডংয়ের খিয়াম্বু লামারপাড়া গ্রামে। ১৬ই সেপ্টেম্বর সকালে গরু চরাতে বের হয়েছিলেন ইউনুচের পিতা আলী হোসেন। ছোট্ট নদীর ওপারে ছিল সশস্ত্র বর্মী সেনারা। তারা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলী হোসেনকে নিয়ে যান ওপারে। সঙ্গে একই গ্রামের আবুল কালাম (৪০)। এরপর পাশের কিয়াং চত্বরে নিয়ে দু’জনকেই গলা কেটে হত্যা করে ঝিরির পাশে গর্ত খুঁড়ে লাশ মাটি চাপা দেয়। ঘটনাটি তখনও জানতেন না ইউনুচ। জানতো না গ্রামবাসী।

কিছুক্ষণ পর তাদের পাড়ার ইসলামের বাড়িতে আসেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ওচিং। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ওচিং একজন চাক। তাকে সঙ্গে করে মুক্তিপণ দিয়ে পিতাকে ছাড়িয়ে আনার প্রস্তাব নিয়ে যান ইউনুচ। সেনারা তখনই ধরে ফেলে ইউনুচকে। তার উপর চলে অমানুষিক নির্যাতন। এরপর জবাই করতে গলায় ছুরি বসানো হয়। উপুড় করে শোয়ানো ইউনুচ ঘাড় ঘুরিয়ে উপরে দিকে তাকানোর চেষ্টা করেন। তখনই তার মুখে এসে পড়ে প্রচণ্ড লাথি। কিছুটা দূরে ছিটকে পড়েন। ভাগ্যের ফেরে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান ইউনুচ। এরপরই গ্রাম ছাড়েন।

সু চিকে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের রোহিঙ্গাশিবির পরিদর্শনের আহ্বান- দৈনিক সমকাল

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দমন-নিপীড়নের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের দুর্দশা দেখতে দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চিকে কক্সবাজার সফরের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান বিশ্ব সংস্থাটির সাতজন বিশেষজ্ঞ। জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের  এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি একথা জানানো হয়।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বিবৃতিতে মিয়ানমার সরকারকে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। চলমান নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন তাদেরকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলেও এতে বলা হয়।রাখাইনে ৩০টি পুলিশ-সেনা চৌকিতে হামলার জের ধরে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান শুরুর এক মাস পর এ বিবৃতি দেয়া হলো।

মিয়ানমারের ওপর অবরোধ আরোপের আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের- দৈনিক যায়যায়দিন

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতনকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দেশটির ওপর অবরোধ আরোপের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ (এইচআরডব্লিউ)।

নিউইয়র্কভিত্তিক সংস্থাটি সোমবার রাতে তাদের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন সম্পর্কে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে হত্যা, নিপীড়ন, ধর্ষণ, বলপ্রয়োগে উচ্ছেদের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনী যে নিপীড়ন চালিয়েছে- তা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।

‘সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্ব সোচ্ছার’- দৈনিক ইত্তেফাক

আওয়ামী লীগ সরকারের কূটনৈতিক দক্ষতার কারণে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্ব সোচ্ছার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ। 

মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ঘোষিত কর্মসূচি সফল করার লক্ষে আয়োজিত বর্ধিত সভায় তিনি এ কথা বলেন। 

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সারা বিশ্ব আজ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ,চীন, তুরষ্ক এর মত দেশ এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছে। এটি শুধু মাত্র সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের কূটনীতিক দক্ষতার কারণে।

তিনি বলেন, বিএনপির নেত্রী বন্যায় আসেননি, রোহিঙ্গা সমস্যায়ও আসেননি। তিনি লন্ডনে গিয়ে পুত্র-পুত্রবধূকে নিয়ে শপিংএ ব্যস্ত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতে পেলাম  খালেদা জিয়া পাকিস্তানের সশস্ত্র দিবসে লন্ডনের পাকিস্তান দূতাবাসে গিয়েছেন। কিন্তু তিনি বাংলাদেশের অনেক সশস্ত্র দিবসেও যান নাই। ওনার যেহেতু এতো পাকিস্তান প্রীতি উনি পাকিস্তানে চলে যেতে পারেন। বাংলাদেশে রাজনীতির কোনো অধিকার নেই উনার।

রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় টিম- দৈনিক ইত্তেফাক

গণহত্যাসহ বর্বর নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে সাবেক ছাত্র নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত বিএনপির কেন্দ্রীয় একটি টিম।

দলের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার দিনভর উখিয়ার শেষ প্রান্ত গয়ালমারা ও বালুখালীসহ বিভিন্ন ক্যাম্পে দুর্দশাগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, তথ্য সম্পাদক আমিরুজ্জামান শিমুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. দুলাল হোসেন, ওমর ফারুক সাফিন, শেখ মো. শামীম, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মুক্তার আহমেদ সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ জানান, রোহিঙ্গাদের কষ্ট ও দুর্দশা, বিশেষ করে বাবা-মা ছাড়া এতিম ও অনাথ হাজার হাজার শিশু, বৃদ্ধ গর্ভবতী নারীদের অবস্থা দেখে খুব অসহায় বোধ করছি। শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে দলের পক্ষ থেকে প্রথম থেকেই আমাদের ত্রাণ কাজ চলছে। কোনো রাজনৈতিক কারণে  নয়, সম্পূর্ণ মানবিক কারণেই এই বিপর্যয়কে বিএনপি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। আমাদের এই ত্রাণ কাজ অব্যাহত থাকবে।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:

নিয়ন্ত্রণরেখায় ‘অপারেশন অর্জুন’ শুরু করল ভারতীয় সেনা- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

কাশ্মীরে ভারত-পাক সীমান্তে ‘অপারেশন অর্জুন’ শুরু করল ভারতীয় সেনা। নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে পাক সেনাকর্তাদের বাড়ি, ঘাঁটি, দপ্তর গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন ভারতীয় জওয়ানরা। সূত্রের খবর, পাক সেনার ওই দপ্তর বা বাড়ির ছাদে স্নাইপার বসানো হচ্ছে। ওই স্নাইপারদের গুলিতেই গত এক মাসে বেশ কয়েকজন ভারতীয় সেনা শহিদ হয়েছেন। মুখে শান্তি প্রস্তাব দিলেও পাকিস্তান আদতে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে সেনার রক্তক্ষরণ করে চলেছে। এই পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া হবে না। আর তাই শুরু হয়েছে অপারেশন অর্জুন। গতবছর সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর প্রায় তিনমাস ধরে ‘অপারেশন রুস্তম’ চালিয়েছিল সেনা। বিএসএফের গোলাগুলি থামাতে পাক সেনা বাধ্য হয়েছিল সাদা পতাকা তুলে সীমান্তে কার্যত আত্মসমর্পণ করতে।

ফোনের বন্যা, বলছেন মুকুল: দল ভাঙবে না, আশায় তৃণমূল- দৈনিক আনন্দবাজার

তৃণমূল ছেড়ে নতুন উদ্যোগে কতটা সফল হবেন মুকুল রায়? তাঁর দল ছাড়ার ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পরেও রাজ্য রাজনীতিতে এটিই মূল চর্চার বিষয়।

মুকুল শিবিরের দাবি, তৃণমূলের বুথ স্তরের কর্মীদের বড় অংশকে তিনি চেনেন, জানেন। অনেক দলীয় বিধায়ক, সাংসদের এলাকার সংগঠন তৈরিতেও মুকুল এত দিন মূল কারিগর ছিলেন। সেই সৌজন্যেই তাঁদের অনেকেই এখনও মুকুলের সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ রাখছেন।

তবে মুকুল সেই লক্ষ্যে খুব একটা সফল হবেন না বলে তৃণমূল নেতৃত্ব অনেকটাই নিশ্চিত। তাঁরা মনে করেন, তৃণমূলের কোনও নেতা-কর্মীই মুকুলের হাত ধরে এই মুহূর্তে সেই ‘অনিশ্চিত’ রাজনৈতিক জীবনের ঝুঁকি নিতে চাইবেন না। তা ছাড়া, এখনই মুকুল বিজেপিতে যোগ দেবেন কি না, বা বিজেপি তাঁকে দলে নেবে কি না, কোনওটাই স্পষ্ট নয়। তার উপর এ রাজ্যে বিজেপির অবস্থান এখনও যেখানে, তাতে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের কাছে বিকল্প হিসেবে ‘মুকুল-পন্থী’ হয়ে বিজেপির পাশে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৃণমূল নেতৃত্বের মতে ক্ষীণ।

চাপে পড়ে বন্‌ধ তুললেন গুরুং- দৈনিক আজকাল

সোমবার পর্যন্ত ছবিটা ছিল অন্য। রীতিমতো হুমকি দিয়ে পাহাড় বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছিল গুরুং–বাহিনীর তরফে। ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল মোর্চা নেতাদের অবস্থান। প্রবল চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হটলেন বিমল গুরুং। অডিও বার্তায় জানিয়ে দিলেন, বুধবার সকাল ৬টা থেকে পাহাড়ে বন্‌ধ প্রত্যাহার করা হল। মঙ্গলবার শেষবেলাতেই মাইক নিয়ে দার্জিলিং শহরে বেরিয়ে পড়েন যুব মোর্চার দার্জিলিং টাউন কমিটির সম্পাদক তিলক ছেত্রি। শহর জুড়ে ঘোষণা করা হয়, পাহাড়ের সমস্ত দোকান খুলে রাখতে। আচমকা বিমল গুরুং ও যুব মোর্চার এমন নির্দেশ পেয়ে হতচকিত পাহাড়ের ব্যবসায়ীরা। এমনিতে তাঁরা বিনয়–পন্থীদের কথা মেনেই পাহাড় সচল রেখেছিলেন। এদিন গুরুংদের ঘোষণায় দ্বিধাদ্বন্দ্বের অবসান হল। পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ক্রমাগত কোণঠাসা হয়ে পড়েই রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বন্‌ধ তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিমল গুরুং। শুধু তা–ই নয়, মোর্চা নেতা–কর্মীদের এক মোবাইল বার্তায় বিমল গুরুং জানিয়েছেন, দশেরা থেকে দীপাবলির মধ্যে দার্জিলিঙে বড়সড় র‌্যালির আয়োজন করবেন। উল্লেখ্য, কেন্দ্রের আবেদনকে হাতিয়ার করে মোর্চা অস্তিত্ব বাঁচানোর চেষ্টা করছে। ‌

পুজো শুরু হতেই পাহাড়ে খুলল অধিকাংশ দোকান- দৈনিক বর্তমান

আজ থেকে পুরোপুরি বন্‌ধ উঠছে পাহাড়ে। তার আগে মহাষষ্ঠী থেকেই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে পাহাড়। মঙ্গলবার দার্জিলিংয়ের চকবাজারে খুলল দোকানপাট। চলল গাড়িও। গত কয়েকদিন ধরেই ধীরে ধীরে দোকান খুলতে শুরু করেছিল। এদিন সামান্য কয়েকটি দোকান বন্ধ থাকলেও চকবাজারের ৭০ শতাংশ দোকানই খুলে গিয়েছে। ছোট ছোট বাজারগুলিতে পসরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। সমতল থেকে গাড়ি চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। স্বস্তিতে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে প্রশাসন। একশ দিনেরও বেশি সময় পর মঙ্গলবার থেকেই যেন সেই পরিচিত ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে পাহাড়। কয়েকদিন আগেও একদিন দোকানপাট খুলেছিল, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই মোর্চার হুমকিতে ঝাঁপ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন ব্যবসায়ীরা।

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৭