সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ ১২:৪৯ Asia/Dhaka

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম:

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • কাঁধে সন্তানের লাশ, বোবা হয়ে গেলেন রোহিঙ্গা মা- দৈনিক যায়যায়দিন
  • রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করতে হবে: রাষ্ট্রপতি- দৈনিক যুগান্তর
  • নিরাপত্তা পরিষদে এবার চীন, রাশিয়া কী করবে- দৈনিক মানবজমিন
  • চীন-রাশিয়া যাতে ভেটো দিতে না পারে সেই ব্যবস্থা নিন: ফখরুল- দৈনিক সমকাল
  • বিএনপি রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধান চায় না: কাদের- দৈনিক ইত্তেফাক
  • তথ্য অধিকার আইনের ব্যবহারে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে : প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক নয়াদিগন্ত
  • এসএসসি-এইচএসসিতে সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র- দৈনিক প্রথম আলো
  • জনশক্তি রফতানি সঙ্কটে- দৈনিক ইনকিলাব

ভারতের শিরোনাম:

  • রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করল কেন্দ্র- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • মায়ানমার সীমান্তে ভারতের ‘‌সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’‌, নিহত বহু জঙ্গি- দৈনিক আজকাল
  • দ্রুত অর্থনীতির হাল ফেরানো অসম্ভব, তোপ যশবন্তের- দৈনিক আনন্দবাজার

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

কাঁধে সন্তানের লাশ, বোবা হয়ে গেলেন রোহিঙ্গা মা- দৈনিক যায়যায়দিন

ঠিক সন্ধ্যার আগমুহূর্ত। মা তখন রান্নাঘরে। ছোট ছেলেটা গরু আনতে পাশের পাহাড়ে যায়। এমনিতেই এলাকায় মিলিটারি অভিযানের নামে শুধু শুধু মানুষ মারা শুরু করছে। সেজন্য দিনভরও ভয়ে ভয়ে থাকে সবাই। সন্ধ্যে ঘনিয়ে এলে যমদূতগুলো যেন আশপাশে ঘুরতে থাকে। এই ভয়ে-আতঙ্কে থাকা মায়ের কানে হঠাৎ একটা ধড়াস শব্দ বাজে। চারদিক তাকিয়ে দেখলেন। বুকের ভেতর কেমন জানি করে উঠল।

হসেদিকে এগিয়ে গেলেন। কিছুদূর যেতেই চোখে পড়ল, উপুড় হয়ে কেউ একজন শুয়ে আছে। গায়ের পোশাকটা চোখে পড়তেই বুকের ভেতর খুব জোরে একটা মোচড় দিল।

কাছে যেতেই চিৎকারে করে গলা ফাটিয়ে কান্নাকাটি শুরম্ন করলেন। এ যে তারই আঁচলভক্ত ছেলেটা। নিথর পাহাড়ের কোলে পড়ে আছে। গুলি করে মেরে দিয়েছে মিলিটারি। ছেলের দেহটাকে সেখানে রেখেই হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির দিকে ছুটে এলেন। ততক্ষণে দুই মেয়েকে ঘরের ভেতর আটকে দিল মিলিটারি। কয়েকজন ঘরের ভেতর প্রবেশ করল। চারজন দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে।

বাড়িতে ঢোকামাত্রই দুজন মিলিটারি মাকে ধরে ফেলল। ঘরের পাশের একটা গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে তাকে বাঁধল। তার চিৎকার-চেঁচামেচি মিলিটারির হৃদয় গলায় না, বরং আরও পাশবিক করে তোলে। মায়ের গায়েও হাত দেয়। ওদিকে ঘরের ভেতর থেকে দুই মেয়ের গগণবিদারী চিৎকার ছুটে আসে, এদিকে মায়ের। মিলিটারি মাকে গুলি করে। পায়ে গুলি লাগে, মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

কিছুক্ষণ পর বিকট একটা শব্দে ফের জ্ঞান আসে মায়ের। চারদিক তখন নিস্ত্মব্ধ। ঘরের ভেতর থেকেও কোনো শব্দ আসছে না। চার মিয়ানমার সৈন্য ঘরের দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসছে। সৈন্যের পোশাকে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা জানোয়ারগুলো হাসছে। হাসি শেষ হতেই দুই জানোয়ার ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। ধোঁয়ার কুণ্ডলিতে ছেয়ে যায় চারদিক। কিছুই দেখা যায় না।গুলিতে মা মরে গেছেন ভেবে তাকে ওই অবস্থায় রেখে মিলিটারিরা চলে যায়। ঘরে ধর্ষিত মেয়েদের জ্বলতে দেখে মা চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে ফের জ্ঞান হারান।

চলচ্চিত্রের গল্পগুলোও এত বর্বর না হলেও মিয়ানমারের মংডু নাছাইদং এলাকার বাসিন্দা জায়েদা বেগমের জীবনের বাস্ত্মব করুণ গল্প এটি। এই বর্বরতা তাকে বোবা করে দিয়েছে। তিন সন্তান হারানোর শোকে স্ত্মম্ভিত ও গুলিবিদ্ধ জায়েদা সম্প্রতি ছোট ভাইয়ের কাঁধে ভর করে সীমান্ত্ম পার হয়ে বাংলাদেশে আসেন।

রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করতে হবে: রাষ্ট্রপতি- দৈনিক যুগান্তর

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্বের সব দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকেও এগিয়ে আসতে হবে। রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে।

বুধবার রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে শারদীয়া দুর্গাপূজা পরিদর্শনকালে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে মুসলিম রোহিঙ্গাদের সঙ্গে অনেক হিন্দুও বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের প্রতিও আমাদের সহমর্মিতা থাকতে হবে। তাদের দুঃখের দিনে পাশে দাঁড়াতে হবে, সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, বন্যার কারণে হাওরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারছে না। দুর্গোৎসবের আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমাদের সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।

নিরাপত্তা পরিষদে এবার চীন, রাশিয়া কী করবে- দৈনিক মানবজমিন

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে, সেদিকে দৃষ্টি এখন গোটা দুনিয়ার। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো উন্মুখ আজকের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত জানতে। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের প্রভাবশালী স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়ার ভূমিকা কি হবে? সেদিকে দৃষ্টি সবার। অন্যদিকে মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতা ও রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূল চেষ্টা বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদে শক্ত অবস্থান দেখতে চায় ঢাকা। একই সঙ্গে মিয়ানমার নাগরিক বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ৯ লাখ রোহিঙ্গার পূর্ণ নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে নিজের বসতভিটায় ফেরানোর নিশ্চয়তা চায় ঢাকা। ৩ স্থায়ী প্রতিনিধি এবং ৪ অস্থায়ী প্রতিনিধির আহ্বানে আজ কেবল রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঐতিহাসিক এ বৈঠক হচ্ছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের।

চীন-রাশিয়া যাতে ভেটো দিতে না পারে সেই ব্যবস্থা নিন: ফখরুল- দৈনিক সমকাল

রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদে ‘রাশিয়া ও চীন যাতে ভোটো’ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে না পারে সেজন্য সরকারকে কূটনীতিক তৎপরতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে কূটনীতিক প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে। যাতে কোনোভাবেই চীন-রাশিয়া তাদের ভোটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে না পারে  সে ব্যাপারে সোচ্চার পদক্ষেপ নিতে হবে।

বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা যারা এসেছে তাদের এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস নয়, মানবিক কারণে তাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দিতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, অবিলম্বে রোহিঙ্গারা যাতে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে নাগরিকত্ব পায় সে ব্যবস্থা অবশ্যই সরকারকে নিতে হবে। অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

বিএনপি রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধান চায় না: কাদের- দৈনিক ইত্তেফাক

বিএনপি রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধান চায় না অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবিলায় বিএনপি না থাকলেও সমস্যা নেই। কারণ এই ইস্যুতে এখন জাতীয় ঐক্য হয়ে গেছে। রোহিঙ্গা সংকট যতদিন আছে, আওয়ামী লীগ সরকার ততদিন তাদের পাশে থাকবে। আমরা ত্রাণ নিয়ে তামাশা করতে আসি নাই। তামাশা করতে বিএনপি এসেছে।

গতকাল বুধবার দুপুরের দিকে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মেডিক্যাল কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধান চায় না। তারা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তামাশা করতে চায়। ঢাকায় এসি রুমে বসে সরকারের সমালোচনা করা ছাড়া আর তো করার কিছু নেই।

তথ্য অধিকার আইনের ব্যবহারে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে : প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক নয়াদিগন্ত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তথ্য অধিকার আইনের অধিকতর ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে। ‘আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি আজ একথা বলেন।

জনগণের ক্ষমতায়নে তথ্য একটি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের এ অধিকারকে সম্মান দিয়ে নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আমরা নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘তথ্য অধিকার আইন-২০০৯’ পাস করি এবং কমিশন গঠন করি। ফলে জনগণ ও গণমাধ্যমের প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশে গণমাধ্যমের বিকাশ ও অগ্রযাত্রায় সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ মেয়াদে প্রথম দেশে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চালুর অনুমোদন দেয়া হয়। তথ্যের অবাধ প্রবাহকে আরো বিস্তৃত করতে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি ওয়ার্ল্ড এবং সংসদ টেলিভিশনের পাশাপাশি ৪৪টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং ২২টি এফএম বেতারকেন্দ্র এবং ৩২টি কমিউনিটি রেডিও সম্প্রচারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। ফলে তথ্যপ্রকাশ ও প্রচারের ব্যবস্থা সহজতর হয়েছে।

এসএসসি-এইচএসসিতে সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র- দৈনিক প্রথম আলো

আগামী বছর থেকে সবগুলো সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে নেওয়া হবে। বোর্ডগুলোর শিক্ষার্থীদের ফলাফলের তারতম্য দূর করা এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তিতে পরীক্ষার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গত মঙ্গলবার আন্তবোর্ড সমন্বয় উপকমিটির সভাপতি হিসেবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডর চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। চিঠিতে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো বিবেচনায় নিয়ে তা কমানোর ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান গতকাল বুধবার চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিলে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে ভারসাম্য আসবে। ফলে উচ্চশিক্ষায় ভর্তিতে শিক্ষার্থীরা সুফল পাবে।

জনশক্তি রফতানি সঙ্কটে- দৈনিক ইনকিলাব

জনশক্তি রফতানিতে বাড়ছে না গতি। এ খাতের অন্যতম বাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুয়ার এখনো বন্ধ। কুয়েতে চড়া অভিবাসন ব্যয়ে কিছু কিছু কর্মী যাচ্ছে। কুয়েত দূতাবাসের অনুমোদনপ্রাপ্ত বনানীর একটি সংস্থা কুয়েত গমনেচ্ছু কর্মীদের নিবন্ধন ফি ও মেডিকেল পরীক্ষা করতে জনপ্রতি সাড়ে তের হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব বিষয় দেখার যেন কেউ নেই। এতে অভিবাসন ব্যয় হু হু করে বাড়ছে। লিবিয়া ও ইরাকে কর্মী যাওয়া বন্ধ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে ভাটার টান চলছে। ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হলেও জি টু জি প্লাস প্রক্রিয়ায় দশ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধীরগতিতে কর্মী যাচ্ছে। মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীদের অভিবাসন ব্যয়ের টাকা যোগাতে নাভিশ্বাস উঠেছে। ভিটে-মাটি ও গবাদি পশু বিক্রি করে মালয়েশিয়ায় চাকুরির সোনার হরিণ ধরতে কর্মীরা দিশেহারা। চলতি বছর জনশক্তি রফতানিতে দশ লাখ কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অদূরদর্শী কিছু সিদ্ধান্ত নেয়ায় জনশক্তি রফতানির এ লক্ষ্যমাত্রা এবার পূরণ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে খোদ জনশক্তি রফতানিকারকদের মাঝেও চরম হতাশা বিরাজ করছে।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করল কেন্দ্র- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল আগেই। এবার রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সম্প্রতি বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ত্রিপুরায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিলেন চারজন রোহিঙ্গা মুসলিম। তাদের ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে বিএসএফ। বস্তুত, ত্রিপুরায় বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে, এমন ৭৫টি জায়গা বিএসএফ চিহ্নিত করেছে বলেও জানা গিয়েছে।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের এখন উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালতে হলফনামা দিয়ে কেন্দ্র জানিয়েছে, মায়ানমার থেকে উৎখাত হওয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের সঙ্গে জঙ্গিদের যোগাযোগ রয়েছে। তাঁদের এদেশে আশ্রয় দেওয়া হলে, জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। যদিও রোহিঙ্গা ইস্যুতে কেন্দ্রের নীতির বিরোধিতার সরব হয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। এমনকী, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় না দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে রাষ্ট্রসংঘও। তবে নিজেদের অবস্থানে অনড় কেন্দ্রীয় সরকার। গত ১৯ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্তক। চলতি মাসে ১৫ তারিখ বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য পুলিশ ও বিএসএফকে অনুপ্রবেশে চেষ্টা করলে, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয় অসম ও মণিপুর সরকারও।

মায়ানমার সীমান্তে ভারতের ‘‌সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’‌, নিহত বহু জঙ্গি- দৈনিক আজকাল

মায়ানমার সীমান্তে খাপলাং গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালাল ভারতীয় সেনা।সেনার পূর্বাঞ্চলীয় সদর সূত্রের খবর, বুধবার ভোর ৪টে ৪৫ মিনিট নাগাদ ভারত-মায়ানমার সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে নিষিদ্ধ সংগঠনের শিবির লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়। এক বিবৃতি পেশ করে ইস্টার্ন কম্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবারের অভিযানে একাধিক এনএসসিএন(কে) জঙ্গি নিহত হয়েছে। তাদের শিবিরগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে অভিযান চলে।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতীয় ফৌজ মায়ানমার ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি।আধা সামরিক বাহিনীর ৭০ জনের একটি দল এই অভিযানে অংশ নেয়। এর আগে একবার ২০১৫ সালে মায়ানমারে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছিল ভারতীয় সেনা। সেইসময় বেশ কয়েকটি জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা।

দ্রুত অর্থনীতির হাল ফেরানো অসম্ভব, তোপ যশবন্তের- দৈনিক আনন্দবাজার

দেশের অর্থনীতির বেহাল দশা নিয়ে কয়েক দিন আগেই কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছিলেন বিজেপি নেতা ও রাজ্যসভা সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। এ বার দলের অন্দরে থাকা সেই ক্ষোভ আরও উস্কে দিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী জমানার প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিন্‌হা। সুযোগ বুঝে আসরে নামল কংগ্রেসও।

বুধবার একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত লেখায় অর্থনীতির হাল নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকার ও অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন সিন্‌হা। জানান, আর্থিক সংস্কারের পরে জেটলি সব চেয়ে ভাগ্যবান অর্থমন্ত্রী। কিন্তু বিশ্ব বাজারে তেলের কম দামের হাত ধরে যে-সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন, গত ক’বছরে তা কাজে লাগাতে পারেননি। এখন ত্রাণ প্রকল্প ঘোষণা বা আর্থিক উপদেষ্টা পরিষদ তৈরি করেও লোকসভা ভোটের আগে অর্থনীতির হাল ফেরানো অসম্ভব, মত সিন্‌হার।

আর এই বক্তব্যকে ঘিরে কেন্দ্রকে ফের আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। ইউপিএ জমানার প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম আজ জানান, ১৮ মাস ধরেই তাঁরা বলে আসছেন যে, অর্থনীতির হাল খারাপ। বৃদ্ধি কমছে। দিশা দিতে পারছে না কেন্দ্র। কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গাঁধীর দাবি, সব কিছু জেনেও বিজেপি নেতারা মোদীর ভয়ে মুখ খুলছেন না। যদিও এই আক্রমণ উড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের দাবি, সকলেই জানেন যে, ভারতের বৃদ্ধির হার বিশ্বে দ্রুততম।

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৮