সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭ ০৮:১১ Asia/Dhaka
  • রাখাইনে জাতিসঙ্ঘ তদন্ত দলকে ঢুকতেই দিলো না মিয়ানমার

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম:

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক- দৈনিক যুগান্তর
  • বিশেষ ত্রাণ কার্ড পাচ্ছে রোহিঙ্গা পরিবার- দৈনিক মানবজমিন
  • 'নোয়াখালীর ভাসানচরে চলছে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া'- দৈনিক ইত্তেফাক
  • রোহিঙ্গাদের মংডু ছাড়তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মাইকিং- দৈনিক যায়যায়দিন
  • রাখাইনে জাতিসঙ্ঘ তদন্ত দলকে ঢুকতেই দিলো না মিয়ানমার- দৈনিক নয়াদিগন্ত
  • পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তেই হচ্ছে: বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর- দৈনিক ইনকিলাব
  • প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপিত: 'শেখ হাসিনা বিপন্ন বিশ্বের মানবতার বাতিঘর'- দৈনিক সমকাল
  • বাজারের চাপে কষ্টে আছে নিম্ন আয়ের মানুষ- দৈনিক প্রথম আলো

ভারতের শিরোনাম:

  • ‘জঙ্গি নাও কুলভূষণ দাও’, পাকিস্তানের কাছে নয়া প্রস্তাব- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • দিল্লি-কাবুল বাণিজ্য মেলা, চাপে পাকিস্তান- দৈনিক আনন্দবাজার
  • যশোবন্তকে পাল্টা তোপ জেটলির- দৈনিক আজকাল

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক- দৈনিক যুগান্তর

কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাব ছাড়াই শেষ হয়েছে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত বিতর্ক। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা পরিষদের এই উন্মুক্ত বিতর্ক শুরু হয়।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী দুই দেশ চীন ও রাশিয়া। সাম্প্রতিক সহিংসতার জন্য দেশ দুটি রোহিঙ্গা 'সন্ত্রাসী'দের দায়ী করেন।

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বেশিরভাগ সদস্য দেশ রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নির্যাতন বন্ধের দাবি জানিয়েছে। তারা দেশছাড়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ারও দাবি জানান। বিতর্কের শুরুতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা সমস্যার সর্বশেষ চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান মিয়ানমার সরকারের প্রতি। উন্মুক্ত বিতর্কে মিয়ানমারও অংশ নেয়। দেশটি জাতিগত নিধনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বাংলাদেশও রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র সদস্য দেশগুলোর নিকট বর্ণনা করে।

বিশেষ ত্রাণ কার্ড পাচ্ছে রোহিঙ্গা পরিবার- দৈনিক মানবজমিন

ত্রাণ বিতরণে আরো শৃঙ্খলা আনতে রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর তালিকা করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তালিকা তৈরির পর   

 প্রত্যেক নতুন আসা রোহিঙ্গা পরিবারকে নিবন্ধিত ক্যাম্পের পরিবারগুলোর মতো বিশেষ কার্ড দেয়া হবে। তখন ত্রাণ না পাওয়ার যেসব অভিযোগ আসছে, সেটা বন্ধ হবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত  জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রশাসনের মুখপাত্র খালেদ মাহমুদ  বলেন, প্রত্যেক রোহিঙ্গা সদস্য যারা এসেছেন তাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের কাজ চলছে। পাশাপাশি আমরা পরিবারের তালিকা তৈরির কাজও শুরু করেছি। সেনাবাহিনী আমাদের তালিকা তৈরির কাজে সহযোগিতা করছেন। রোহিঙ্গাদের আমরা সুশৃঙ্খলভাবে একটা ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে চাইছি। মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার হয়ে এ পর্যন্ত কত  রোহিঙ্গা পরিবার বাংলাদেশে এসেছে তার সঠিক হিসাবের জন্যও এই তালিকা জরুরি বলে মনে করেন কক্সবাজার  জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

'নোয়াখালীর ভাসানচরে চলছে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া'- দৈনিক ইত্তেফাক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছে। এজন্য বাংলাদেশ নেভিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সব কিছুই এখনো পরিকল্পনা পর্যয়ে রয়েছে। শিক্ষা-চিকিৎসা-আবাসনসহ সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে শরণার্থী শিবির গড়ে তোলা হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। রোহিঙ্গাদের ওপর প্রশাসনের শক্ত নজরদারী থাকবে। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের এখানে আনা হবে।'

'এব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী দিক নির্দেশনা রয়েছে' বলে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'এটি একটি মানবতার কাজ কারণ তারা ভিটে-মাটি সহায়-সম্বল ফেলে এদেশে পালিয়ে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ মানবিক কাজের জন্য বিশ্ববাসী এখন তাকে মাদার অব হিউম্যানেটি আখ্যায়িত করেছেন।

মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমান শরণার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য নির্ধারিত নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচর পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বৃহস্পতিবার হেলিকপ্টার যোগে ভাসানচরে আসেন এবং শরণার্থী প্রকল্পের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন।

রোহিঙ্গাদের মংডু ছাড়তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মাইকিং- দৈনিক যায়যায়দিন

রাখাইন রাজ্যের বুচিদং ও রাচিদংয়ের গ্রামের পর গ্রামে হামলা চালিয়ে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর পোড়ানোর পাশাপাশি হত্যা, ধর্ষণ, অত্যাচার-নির্যাতনে রোহিঙ্গারা নিরুপায় হয়ে পড়ে। অনেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে, অনেকে আবার মংডু শহরের আশপাশের গ্রামগুলোতে আশ্রয় নেয়। কারণ, তখনো এই শহরের আশপাশে তেমন নির্যাতন শুরু হয়নি। কিন্তু ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে মাইকিং করে রোহিঙ্গাদের এসব এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এরপরই ছোট ছোট কয়েকটি গ্রামে আগুন দেয় তারা।

বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের মংডু শহরের ফয়েজিপাড়া, সিকদারপাড়া, আশিকাপাড়া, উকিলপাড়া, নাপিতের ডেইল, নুরুলপাড়া ও কাদিরবিল গ্রাম থেকে পালিয়ে আসা বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এসব বাসিন্দার অভিযোগ, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় মগদের দিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে মাইকিং করাচ্ছে। পাশাপাশি আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য কিছু প্রভাবশালী রোহিঙ্গার ঘরে আগুন দেয়।

রাখাইনে জাতিসঙ্ঘ তদন্ত দলকে ঢুকতেই দিলো না মিয়ানমার- দৈনিক নয়াদিগন্ত

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিসঙ্ঘ তদন্ত দলের নির্ধারিত সফর মিয়ানমার সরকার হঠাৎ করেই বাতিল করে দিয়েছে। ইয়াংগনে জাতিসঙ্ঘ মুখপাত্র স্তানিস্লাভ সেলিঙ বিবিসিকে জানান, সরকার এই সফর বাতিল করার পেছনে কোনো কারণ দেখায়নি।

রোহিঙ্গা মুসলমানরা কেন পালাতে বাধ্য হয়েছে সেটা রাখাইনে গিয়ে তদন্ত করার জন্য জাতিসঙ্ঘ মিয়ানমারের ওপর চাপ দিয়ে আসছিল।মাস খানেক আগে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান, বৌদ্ধ এবং হিন্দু ঘরবাড়ি ছেড়ে রাখাইন রাজ্যে ভেতরেই সাময়িক আশ্রয়ে রয়েছে।চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে প্রতিবেশী বাংলাদেশে।

জাতিসঙ্ঘের সংস্থাগুলো বলছে, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের সংখ্যা গত কয়েক দিনে লক্ষণীয় রকমে কমে গেছে।তবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম-এর একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, মিয়ানমার ছেড়ে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসা যে একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে এমন কথা বলার সময় এখনো আসেনি।

পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তেই হচ্ছে: বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর- দৈনিক ইনকিলাব

পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তেই হচ্ছে বিশ্বের অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার দৃষ্টিনন্দন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বর্তমান উন্নত বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১০টি বিমানবন্দরের চেয়েও তুলনামূলক অত্যাধুনিক একটি আকর্ষণীয় বিমানবন্দর হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এ জন্য প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। প্রায় আট হাজার একর জমির নিয়ে অত্যাধুনিক এ বিমানবন্দরটি নির্মাণ বর্তমান সরকারের একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবে ক্ষমতাসীন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিমানবন্দরটি নির্মাণের কাজ প্রাথমিক সকল কাজ সম্পন্ন করেছে। এ বিমান্দবন্দরটি চালু হলে দেশের অর্থনৈতিক ও আকাশপথে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এ বিমানবন্দরটি নির্মাণের জন্য প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হয়েছে জাপানের নিপ্পন ইকো কোম্পানিকে। তাদের বিশেষজ্ঞ দল স্থান নির্ধারণসহ সমীক্ষার সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সমীক্ষা ও প্রতিবেদন তৈরির কাজও প্রায় শেষ হওয়ার পথে।

সিভিল এভিয়েশন বলছে, বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর থেকে আকাশপথে প্রতি চব্বিশ ঘণ্টায় ৪০০ যাত্রীবাহী ফ্লাইট ও ২০০ কার্গোবাহী ফ্লাইট অপারেশন সম্ভব হবে। প্রতি বছর কমপক্ষে এক কোটি ২০ লাখ যাত্রীর চেক ইন ও চেক আউট। বিমানবন্দর থেকে বের হয়েই মাত্র আধা ঘণ্টায় কোনো ধরনের যানজট ছাড়াই জিরো পয়েন্টে পৌঁছার সুবিস্তৃত সড়ক স্থাপনসহ অবকাঠামোগত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় রেখে বিশ্বমানের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিমানবন্দরের সমীক্ষার কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছে সিভিল এভিয়েশন। জাপানের শীর্ষস্থানীয় নির্মাণ সংস্থা নিপ্পনের দুই ডজন বিশেষজ্ঞ দিনরাত কাজ করছেন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ মেগা প্রকল্পের। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বখ্যাত ইনসিওন বিমানবন্দরের আদলে তৈরি করা হবে এ বিমাবন্দরটি।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপিত: 'শেখ হাসিনা বিপন্ন বিশ্বের মানবতার বাতিঘর'- দৈনিক সমকাল

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে।ঢাকায় জন্মদিনের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন যে, তিনি বিপন্ন বিশ্বের মানবতার বাতিঘর।

লাখ লাখ দুর্গত মানুষ দেশে আসার পরিপ্রেক্ষিতে তার জন্মদিনে কেক কেটে উৎসব না করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া নির্দেশের উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, উৎসবের অর্থ রোহিঙ্গাদের সাহায্য করতে পাঠানো হবে।বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শেখ হাসিনার জন্মদিনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত রক্তদান ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বশান্তির অগ্রদূত হিসেবে অভিহিত করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে শেখ হাসিনা নিজেকে 'লাইট হাউস অব ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিটি' প্রমাণ করেছেন। তিনি বলেন, 'একজন রাজনীতিক একটি নির্বাচনের পর আরেকটি নির্বাচন নিয়ে চিন্তা করেন। আর একজন রাষ্ট্রনায়ক পরবর্তী প্রজন্ম নিয়ে চিন্তা করেন। শেখ হাসিনা পরবর্তী প্রজন্ম নিয়ে চিন্তা করেন।' তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে যে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন তা সারাবিশ্বে প্রশংসা পেয়েছে।

বাজারের চাপে কষ্টে আছে নিম্ন আয়ের মানুষ- দৈনিক প্রথম আলো

রাজধানীর বিজয় সরণি থেকে তেজগাঁও যাওয়ার ওভারপাসের নিচের রেললাইনের পাশে নাসরিন বেগমের পিঠার দোকান। মাটির চুলায় কাঠ পুড়িয়ে পিঠা তৈরি করে তিনি বিক্রি করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই চুলায় চলছিল ভাত রান্না।

জানতে চাইলে নাসরিন বেগম বলেন, যে চাল হাঁড়িতে তিনি চড়িয়েছেন, তা সকালে ৬০ টাকা কেজি দরে বাজার থেকে কিনেছেন। বছরখানেক আগে এ চালই তিনি কেজিপ্রতি ৪০ টাকার নিচে কিনতেন। একটি শিশুসহ চার সদস্যের পরিবারে তাঁদের দিনে এক কেজি চাল লাগে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে চালের দাম বাবদ তাঁর পরিবারের মাসিক খরচ বেড়েছে ৬০০ টাকা।

চাল, আটার দাম বেড়ে যাওয়ায় নাসরিন বেগমের মতো রাজধানীর নিম্ন আয়ের মানুষেরা কষ্টে আছে। এর প্রভাবও বহুমাত্রিক। রিকশাচালকেরা এখন বেশি ভাড়া চাইছেন, হোটেলগুলোতে ভাতের দাম বেড়েছে, খণ্ডকালীন গৃহকর্মীরা বেশি বেতন দাবি করছেন, শ্রমিকদের আয়ে পোষাচ্ছে না। সব মিলিয়ে প্রভাব পড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়ে। মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:

‘জঙ্গি নাও কুলভূষণ দাও’, পাকিস্তানের কাছে নয়া প্রস্তাব- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদীর বিনিময়ে কুলভূষণ যাদবকে ফেরত দেওয়ার ‘লোভনীয় প্রস্তাব’ দেওয়া হল পাকিস্তানকে। পাকিস্তানের পেশোয়ারে ২০১৪ সালের ডিসম্বর মাসে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর স্কুলে হামলা চালিয়ে ১৫০ জন শিশু ও কিশোরকে গুলি করে মেরে ফেলেছিল তালিবান। হামলার মূল চক্রী আফগানিস্তানে বসে পুরো ছক কষে। হামলা চালিয়ে কয়েকজন জঙ্গি ফের সীমান্ত পেরিয়ে আফগানিস্তানেই গা ঢাকা দেয়। হামলাকারী তালিবান জঙ্গি নেতা এখনও পাকিস্তানের মোস্ট ওয়ান্টেড। তাকে আজও যে কোনও মূল্যে পেতে চায় ইসলামাবাদ। এবার তাকে পাকিস্তানের হাতে তুলে দিতে তৎপর হয়েছে আফগানিস্তান সরকার। তবে কাবুলের প্রস্তাব হল, গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক ভারতীয় নৌবাহিনীর কমান্ডার ৪৬ বছরের কুলভূষণ যাদবকে আফগানিস্তানের হাতে নিঃশর্তে তুলে দিতে হবে। ওই জঙ্গি নেতার বিনিময়ে কুলভূষণকে ফেরত চায় আফগানিস্তান।

দিল্লি-কাবুল বাণিজ্য মেলা, চাপে পাকিস্তান- দৈনিক আনন্দবাজার

রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সম্মেলনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানকে প্রবল আক্রমণ করেছে ভারত। তার ঠিক পরেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পাকিস্তানকে আরও কোণঠাসা করে আফগানিস্তান নীতিকে পোক্ত করা হয়েছে। বুধবার থেকে আমেরিকার উদ্যোগে নয়াদিল্লিতে শুরু হল ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্যমেলা।

মাসের গোড়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন আফগানিস্তান নীতি ঘোষণা করার পরেই সাউথ ব্লক সবুজ সংকেত পেয়েছে। ওই নীতিতে পাকিস্তানকে একঘরে করে ভারতের ভূমিকাকে আরও বড় করে দেখানো হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনাতেও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, বাণিজ্য এবং কৌশলগত প্রশ্নে কাবুল সহযোগিতায় ভারত বৃহত্তম ভূমিকা পালন করুক। এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ সহযোগিতা আমেরিকা করবে।

সেই লক্ষ্যেই প্রায় ২৫০টি আফগান সংস্থার প্রতিনিধি দিল্লি এসে পৌঁছেছেন। থাকছে ভারতের ৮০০টি বাণিজ্যিক সংস্থাও। গোটা মেলাটির আর্থিক সহযোগিতা করছে আমেরিকা। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির কথায়, ‘‘এই ধরনের ত্রিপাক্ষিক উদ্যোগ যথেষ্ট অভিনব। এর ফলে ভারত এবং আফগানিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা অনেকটা এগিয়ে যাবে।’’

যশোবন্তকে পাল্টা তোপ জেটলির- দৈনিক আজকাল

কংগ্রেস নেতা যশোবন্ত সিনহার সমালোচনার পাল্টা জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। যশোবন্ত সিন্‌হার সমালোচনার প্রেক্ষিতে জেটলি বলেন, যশোবন্তের মতো বিলাসিতা করার সময় তাঁর সরকারের নেই। তিনি যেভাবে অর্থমন্ত্রক ছাড়ার পর লেখক হয়েছেন সেরকম বিলাসিতা করতে পারবেন না জেটলি। যাঁরা দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছিলেন তাঁদের মুখে এধরনেক কথা শোভা পায় না। দেশের অর্থনীতির হাল ফিরছে দেখে সহ্য হচ্ছে না তাঁদের।

এদিন সকালে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিকে তীব্র আক্রমণ করে কংগ্রেসের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী যশোবন্ত সিনহা অভিযোগ করেছিলেন, মোদি সরকারের নীতির জন্যই দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। গত জুলাইয়ে সর্বাধিক হারে নেমেছে দেশের অর্থনীতি। দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি মাত্র ৫.‌৭ শতাংশতে এসে ঠেকেছে। গত তিন বছরে যা দেখা যায়নি। তার প্রেক্ষিতে জেটলি বলেন, মোদি সরকার দুর্নীতি আর কালো টাকা রুখতে যা পদক্ষেপ করেছে তার তুলনা হয় না। অর্থনীতির হাল এখন ধীরে ধীরে ফিরছে। জিএসটি চালুর জন্যই এই হাল হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন যশোবন্ত সিনহা তা এক প্রকার উড়িয়ে দিয়েছেন জেটলি।

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৯