অক্টোবর ০২, ২০১৭ ০৯:১৯ Asia/Dhaka

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২ অক্টোবর সোমবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শোকাবহ আশুরা উপলক্ষে গতকাল রোববার পত্রিকা অফিসগুলো বন্ধ থাকার কারণে আজ ঢাকা থেকে কোনো দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়নি। অন্যদিকে দুর্গাপুজা উপলক্ষে কোলকাতার বেশিরভাগ পত্রিকাও বন্ধ রয়েছে। তারপরও এসব দৈনিকের অনলাইন সংস্করণ থেকে কিছু খবর নিয়ে আমরা সাজিয়েছি কথাবার্তার আজকের আয়োজন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ অনলাইন শিরোনাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • প্রমাণ হয়েছে, আমরাও পারি: প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক ইনকিলাব
  • রোহিঙ্গাদের জন্য সবকিছুর ব্যবস্থা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক ইত্তেফাক
  • রোহিঙ্গা নবজাতকের নাম রাখা হল শেখ মুজিবুর রহমান- দৈনিক যুগান্তর
  • রোহিঙ্গা সঙ্কট:‘দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় বাংলাদেশ’- দৈনিক মানবজমিন
  • মজুদ আলু নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক: ৫ হাজার কোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা- দৈনিক সমকাল
  • পাট থেকে পলিথিন : বদলে যাবে সোনালী আঁশের ভবিষ্যৎ- দৈনিক নয়াদিগন্ত
  • ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ৩০ বছর চাকরি, এখন ‘অবৈধ বাংলাদেশি’- দৈনিক যুগান্তর

ভারতের শিরোনাম:

  • ডোকলামের জের, ভারতীয় সেনার সঙ্গে বৈঠক বাতিল লালফৌজের- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • মহরম-বিসর্জন বিতর্কে জল ঢেলে সম্প্রীতির ধর্মে আস্থা- দৈনিক আনন্দবাজার
  • গ্রেপ্তার এড়াতে রাজ্যের কাছে আকুতি গুরুংয়ের- দৈনিক বর্তমান

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

প্রমাণ হয়েছে, আমরাও পারি: প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক ইনকিলাব

পিলারে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্যে দিয়ে বহু প্রত্যাশিত পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান হয়ে ওঠার খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এর মধ্যে দিয়ে প্রমাণ হয়েছে, বাংলাদেশ পারে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানিয়েছেন, রোববার ভার্জিনিয়ার রিজ কার্লটন হোটেলে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে এক মত বিনিময় অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন ।

ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রেস সচিব বলেন, গলব্লাডার অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা প্রধানমন্ত্রীকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট থেকে আসা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ‘পদ্মা সেতু দৃশ্যমান’ হয়ে ওঠায় প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রমাণ হয়েছে, আমরাও পারি।’

রোহিঙ্গাদের জন্য সবকিছুর ব্যবস্থা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক ইত্তেফাক

মানবিকতার দায় থেকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সব ধরণের আশ্রয়, খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ করছে বাংলাদেশ প্রশাসন। রবিবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের রিটজ চার্লটন হোটেলে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।   

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ার আগে অবশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সেসময় তিনি চরম মানবিক বিপর্যয়ে থাকা অসহায় রোহিঙ্গা শিশু-নারীদের কাছ থেকে তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর কাহিনী শুনেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে সরিয়ে ‘ভাসান চর’ নামের একটি দ্বীপে স্থানান্তরিত করা হবে। এর মধ্যে, বিপুল সংখ্যক মানুষের দুর্দশা লাঘবে বেসামরিক প্রশাসন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি, পুলিশ এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করছে বলে জানান তিনি।

রোহিঙ্গা নবজাতকের নাম রাখা হল শেখ মুজিবুর রহমান- দৈনিক যুগান্তর

মিয়ানমারের সেনাদের নির্মম নির্যাতন থেকে প্রাণে বাঁচতে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে কয়েক হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্রে সম্প্রতি এক রোহিঙ্গা নবজাতকের জন্ম হয়েছে। ওই নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমান।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্রের ডা. প্রণয় রুদ্র যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওই নবজাতকের মায়ের নাম সেনোয়ারা। নবজাতকটির বাবার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ডা. প্রণয় রুদ্র বলেন, অন্তঃসত্ত্বা সেনোয়ার নৌকা করে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসে। এখানে তার কোনো স্বজন না থাকায় তিনি ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। প্রসব বেদনা ওঠার পর তিনি উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্র আসার পথে শিশুটির জন্ম হয়। মা ও শিশু দুজনেই ভালো আছেন।

রোহিঙ্গা সঙ্কট:‘দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় বাংলাদেশ’- দৈনিক মানবজমিন

রোহিঙ্গা সঙ্কটের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এ কথা বলেছেন। আজ রোববার সকালে রাজধানীতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের প্রস্তুতিমূলক সভায় এ মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মিয়ানমারের হত্যাযজ্ঞ থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণভাবে দ্রুত সমাধান চায়। রোহিঙ্গারা দেশে প্রবেশ করায় নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। 

আগামী ১৪ ও ১৫ই নভেম্বর কানাডার ভ্যাংকুভারে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ওই সম্মেলনকে সামনে রেখে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভা আয়োজন করা হয়। সভায় ২২টি দেশের অন্তত ৬০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।

সভায় নিজ বক্তব্যে মাহমুদ আলী বলেন, মিনানমারে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে পাঁচ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এর আগে থেকে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছিল। এতে বাংলাদেশে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

মজুদ আলু নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক: ৫ হাজার কোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা- দৈনিক সমকাল

নতুন আলু বাজারে আসবে দু'মাস পরই। অথচ গত মৌসুমের ৩০ লাখ টন আলু অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে হিমাগারে। এই আলু নিয়ে কী করবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না কৃষক। যার বর্তমান বাজার দর প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা। বাজারে দাম কম থাকায় লোকসানের আশঙ্কায় হিমাগার থেকে আলু বের করছেন না তারা। আলু ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামী দুই মাসে পাঁচ লাখ টন বিক্রি হতে পারে। বাকি ২৫ লাখ টন অবিক্রীত থাকবে। ফলে পাঁচ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হিমাগার থেকে এখন প্রতি বস্তা আলু ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা বা ৮ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে বস্তাপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা লোকসান হচ্ছে কৃষকের। এর পরও ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছেন না কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় খুচরা বাজারেও দাম কমে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে আলু। হিমাগারে সংরক্ষিত এ আলু বিক্রির বিষয়ে এখনই সরকারি পর্যায়ে কোনো বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া না হলে বছর শেষে ২০ থেকে ২৫ লাখ টন ফেলে দেওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষক ও হিমাগার মালিকরা।

পাট থেকে পলিথিন : বদলে যাবে সোনালী আঁশের ভবিষ্যৎ- দৈনিক নয়াদিগন্ত

বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের সোনালি আঁশ খ্যাত পাটের ভবিষ্যৎ। উন্মোচিত হতে পারে পাট নিয়ে নতুন শিল্প সম্ভাবনার দুয়ার। আর এ পাটের হাত ধরেই চিরতরে বিদায় নিতে পারে পরিবেশ ধ্বংসকারী পলিথিন। সম্প্রতি পাট থেকে পলিথিন উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে নতুন এ সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। এ যুগান্তকারী উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশেরই খ্যাতিমান বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমদ খান। তার উদ্ভাবিত এ পলিথিন দিয়ে বানানো ব্যাগের নাম দেয়া হয়েছে ‘সোনালি ব্যাগ’।

ড. মোবারক বলেন, তার উদ্ভাবিত এ পলিথিন ধ্বংসের মুখে পড়া পাটশিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে দিতে পারে। পাতলা, মসৃণ আর মজবুত এ পলিমার ব্যাগটির সোনালী ব্যাগ নাম দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, অত্যন্ত সহজলভ্য উপকরণ থেকে সাধারণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি এ পলিথিন বিদেশেও বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ এ সোনালী ব্যাগ ক্রয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে দৈনিক তিন টন। সরকারিভাবে এ পলিথিন উৎপাদন হলেও বাণিজ্যিকভাবে এর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। পাটকলগুলোতে সাধারণ উপকরণ থেকেই এ পলিথিন উৎপাদন সম্ভব। এ ছাড়া উৎপাদন ব্যয় কম হওয়ায় যে কেউই ক্ষুদ্র পরিসরে এ কারখানা স্থাপন করতে পারবেন। এ জন্য সরকারি সহযোগিতাও পাওয়া যাচ্ছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ৩০ বছর চাকরি, এখন ‘অবৈধ বাংলাদেশি’- দৈনিক যুগান্তর

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চাকরি করার পর আসাম পুলিশের কাছ থেকে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’  হিসেবে নোটিশ পেয়েছেন গুয়াহাটির বাসিন্দা মহম্মদ আজমল  হক। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ৩০ বছরের কর্মজীবন শেষে গত বছরই জুনিয়র কমিশনড অফিসার হিসেবে অবসর নিয়েছেন মহম্মদ আজমল হক।

দেশের বাড়ি, আসামের রাজধানী গুয়াহাটির কাছে ছায়াগাঁওতে যখন নিশ্চিন্তে বাকি জীবনটা কাটাবেন বলে সবে থিতু হয়েছেন, তখনই তার কাছে আসাম পুলিশের নোটিশ এসেছে- তিনি নাকি অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন।

হক বলেন, আমি ভারতের নাগরিক। ৩০ বছর ধরে দেশের সেবা করেছি। এখন অবসর নেয়ার পর বালবাচ্চা নিয়ে গুয়াহাটিতে নিজের বাড়িতে থাকি। আর আচমকা আমাকে নোটিশ পাঠিয়ে বলা হচ্ছে- আমি নাকি অবৈধ। আমি নাকি ১৯৭১-এর পর আসামে এসেছি!অথচ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ পাওয়ার সময় এই আসাম পুলিশই তাকে ভারতের নাগরিক হিসেবে ভেরিফাই করেছিল; আর এখন তারাই আবার তার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:

ডোকলামের জের, ভারতীয় সেনার সঙ্গে বৈঠক বাতিল লালফৌজের- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

ডোকলামে সমঝোতার পথে হাঁটলেও, ভারতীয় সেনাবাহিনী ও পিএলএ-র মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। দু’পক্ষের কেউই এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ। এমনই পরিস্থিতিতে প্রথা ভেঙে সীমান্তে বার্ষিক ‘বর্ডার পার্সোনাল মিটিং’ বা বিপিএম বৈঠক থেকে বিরত থাকল দু’দেশের  সেনাই।

প্রতিবছর চিনের ‘ন্যাশনাল ডে’ উপলক্ষে ভারতীয় ও চিনা  সেনাবাহিনীর মধ্যে বিপিএম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৪ হাজার কিমি ভারত-চিন সীমান্তের পাঁচটি জায়গায় মিলিত হন দুই সেনার প্রতিনিধিরা। এবছর রবিবার ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রথা ভেঙে এবার বাতিল হল ওই বৈঠক। ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর, এবছর দৌলতবেগ, চুশুল, বুমলা, কিবিথু ও নাথুলায় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে এবার ভারতীয় সেনাকে আমন্ত্রণ জানায়নি লালফৌজ। ফলে ভেস্তে যায় বৈঠক। এছাড়াও, ভারত ও চিনের মধ্যে ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড’ সামরিক মহড়াও বাতিল হতে পারে বলে খবর।

মহরম-বিসর্জন বিতর্কে জল ঢেলে সম্প্রীতির ধর্মে আস্থা- দৈনিক আনন্দবাজার

সম্প্রীতির ঐতিহ্যই বজায় থাকল বাংলায়। মহরম-বিসর্জন বিতর্কে জল ঢেলে রবিবার নিরুপদ্রব বাতাবরণেই পালিত হল দুই সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠান। পুলিশ প্রশাসন তার নিজের ভূমিকা পালন করল সদর্থক ভাবেই। আর সমাজও দেখিয়ে দিল, বাংলার চিরন্তন সংস্কৃতি সম্প্রীতিই।

মেদিনীপুর শহরের গোলকুয়াচকে মহরমের মিছিল বরণ করে নিতে দেখা গেল স্থানীয় দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তাদের। হাতে ফুল দিয়ে মিষ্টিমুখও করানো হয়। রাতে শহরের কুইকোটায় একটি বারোয়ারি পুজোর বিসর্জন-মিছিল বেরোয়। তবে, সেখানেও উদ্যোক্তারা মহরমের তাজিয়া শেষ হওয়ার পরে নিরঞ্জনের শোভাযাত্রা বের করার সিদ্ধান্ত নেন। পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে আবার প্রথা ভেঙে এ দিন মহরমের তাজিয়া বেরিয়েছে অস্ত্র ছাড়াই। লাঠিখেলা বা অন্য কোনও কসরতও হয়নি। উদ্যোক্তারা জানান, তাঁদের অনুষ্ঠান অন্য সম্প্রদায়ের মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্ত করুক, তা তাঁরা চান না। তাই নিরস্ত্র মিছিল। জগদ্দল, ঘাটাল, এগরা, সিউড়িতেও অস্ত্র ছাড়া মহরমের মিছিল হয়। অস্ত্র ছাড়া তাজিয়া দেখা গিয়েছে বসিরহাটের মতো এলাকাতেও। কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের উদ্যোগে মহরমের মিছিল বের হয় হরিণচওড়া থেকে। জলপাইগুড়ির পিলখানা পুজো কমিটির পক্ষ থেকে মহরমের লাঠিখেলার জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার এড়াতে রাজ্যের কাছে আকুতি গুরুংয়ের- দৈনিক বর্তমান

কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা প্রধান বিমল গুরুং। কিন্তু আগ্রহের পথে কাঁটা হয়ে থাকা ইউএপিএ ধারায় মামলা এবং লুকআউট নোটিস এড়িয়ে বৈঠকে যাওয়া যে কার্যত অসম্ভব, তাও বুঝেছেন গুরুং। আর তাই ‘সেফ প্যাসেজের’ কাতর আকুতি জানাতে আসরে নামিয়েছেন পত্নী আশা গুরুংকে। একটি সংবাদ পোর্টালকে বিমলপত্নী জানিয়েছেন— তাঁর স্বামী দিল্লির বৈঠকে যোগ দিতে চান। কিন্তু তাঁর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে রাজ্যকে। বিমল গুরুংকে গ্রেপ্তার না করার আরজি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি অবশ্য কিছুটা হুমকির সুরে নারী মোর্চা প্রধান বলেছেন, তবে বিমল গুরুং গ্রেপ্তার হলে যে ভয়ংকর পরিণতি হবে, তার জন্য দায়ী থাকবে রাজ্য সরকারই। নবান্নের শীর্ষ মহল অবশ্য বিমলের আগ্রহ বা তাঁর স্ত্রীর হুমকি কোনওটাকেই ধর্তব্যের মধ্যে আনছে না।

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২