রোহিঙ্গা সংকট: সমঝোতার পরদিন এল আরও ১৩২০ রোহিঙ্গা
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৫ নভেম্বর শনিবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। মিশরের একটি মসজিদে জুমার নামাজে বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলায় ২৩৫ মুসল্লির মৃত্যুর খবরটি আজ ঢাকার প্রায় সব দৈনিক গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া, দৈনিকগুলোতে আরো যেসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- রোহিঙ্গা সংকট: সমঝোতার পরদিন এল আরও ১৩২০ রোহিঙ্গা- দৈনিক প্রথম আলো
- বিদ্যুতের খুচরা মূল্য বৃদ্ধিতে গ্রাহকের ব্যয় বাড়বে ১৭শ’ কোটি টাকা- দৈনিক ইত্তেফাক
- দল গোছাচ্ছে বিএনপি: সব পর্যায়ের নেতাদের সাথে বৈঠক করছেন বেগম জিয়া- দৈনিক ইনকিলাব
- হরতাল নিয়ে বিএনপির নতুন উপলব্ধি- দৈনিক যায়যায়দিন
- নির্বাচনে না এলে বিএনপির অস্তিত্ব থাকবে না: তোফায়েল- দৈনিক সমকাল
- তারেক রহমান দেশে ফিরলে নতুন ধারা প্রবাহিত হবে : ড. এমাজউদ্দীন- দৈনিক নয়াদিগন্ত
- বিশেষজ্ঞদের অভিমত: দেশের ব্যাংকিং খাতে অশনিসংকেত- দৈনিক যুগান্তর
- প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সমুদ্র মহড়া হচ্ছে বাংলাদেশে- দৈনিক মানবজমিন
ভারতের শিরোনাম:
- অযোধ্যায় মন্দিরই হবে, অন্য কিছু নয়: হুঙ্কার ভাগবতের- দৈনিক আনন্দবাজার
- পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন আটকে দিচ্ছে মোদি সরকার: মমতা- দৈনিক বর্তমান
- যমুনাকে দূষিত করার অপরাধে বেকারি মালিকের ২ বছরের সাজা- দৈনিক আজকাল
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
রোহিঙ্গা সংকট: সমঝোতার পরদিন এল আরও ১৩২০ রোহিঙ্গা- দৈনিক প্রথম আলো

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরদিন গতকাল শুক্রবার নাফ নদী পেরিয়ে টেকনাফে ঢুকেছে আরও ১ হাজার ৩২০ জন। গত এক সপ্তাহের মধ্যে টেকনাফে সর্বোচ্চসংখ্যক রোহিঙ্গা প্রবেশের ঘটনা এটি। এদিকে টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন শিবিরের রোহিঙ্গা নেতারা মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হওয়া নিয়ে খুশি হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে তাঁরা তেমন আশাবাদী নন। মিয়ানমারকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা বোকামি হবে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।
গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর বৈঠক হয়। এরপরই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। সমঝোতা অনুযায়ী আগামী দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সমঝোতা সই হওয়ার দিনও ভেলা ও নৌকায় করে নাফ নদী পেরিয়ে টেকনাফে এসেছিল ১ হাজার ১১২ রোহিঙ্গা।
বিদ্যুতের খুচরা মূল্য বৃদ্ধিতে গ্রাহকের ব্যয় বাড়বে ১৭শ’ কোটি টাকা- দৈনিক ইত্তেফাক

ভোক্তা পর্যায়ের পাশাপাশি বিতরণকারী সংস্থা-কোম্পানি পর্যায়েও বিদ্যুতের পাইকারি দাম বেড়েছে। যদিও বিদ্যুতের খুচরা দাম বাড়ানো হলেও পাইকারি দাম বাড়েনি বলে গত বুধবার ঘোষনা দিয়েছিল এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিইআরসির জারিকৃত বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষনেই এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে সব শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ায় জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মতামত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা অধিকার আন্দোলনের কর্মীরা।
তারা বলছেন, গত আট বছরে বিদ্যুতের দাম আট বার বাড়লেও নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্পন্ন বিদ্যুত্ পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হলেও সরকার বেশি দামে উৎপাদনের সুযোগগুলো গ্রহণ করছে। এরপর ঘনঘন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের মতই বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হচ্ছে। নিম্নআয় এবং মধ্যবিত্তের খরচ বাড়বে। শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে দামবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। ক্ষুদ্রশিল্প, বাণিজ্যিক ও শিল্প বিদ্যুতের দাম বাড়ায় পণ্য উৎপাদন খরচ বাড়বে। ফলে একদিকে বাণিজ্যিক খরচ বাড়বে অন্যদিকে বিভিন্ন ধরণের পণ্যের দামবৃদ্ধিও ঘটবে।
দল গোছাচ্ছে বিএনপি: সব পর্যায়ের নেতাদের সাথে বৈঠক করছেন বেগম জিয়া- দৈনিক ইনকিলাব

২০১৪ সালের নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপির সাংগঠনিক দূর্বলতা চোখে পড়েছে সবার। অধিকাংশ জেলা, উপজেলা থেকে শুরু করে ইউনিট কমিটিগুলোতে নিজস্ব লোককে প্রাধান্য দেওয়া এবং বিরোধ থাকায় কাজে আসেনি কিছুই। দলের নেতাকর্মী হওয়ার পরিবর্তে কথিত ভাইয়ের নেতাকর্মী হওয়ায় মাঠের আন্দোলন-সংগ্রামে ব্যর্থ হয়েছে বৃহত্তম এই রাজনৈতিক দল। আর তাই গত এক বছর ধরেই দলকে পুনর্গঠনের কাজ করছেন শীর্ষ নেতারা।
লন্ডনে দীর্ঘ তিন মাস চিকিৎসা শেষে গত ১৮ অক্টোবর দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দলের পক্ষ থেকে তার এই সফরকে কেবল চিকিৎসার জন্য বলা হলেও রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ ছিল তা বলে আসছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। হয়েছেও তাই। তিনি দেশে ফেরার পর থেকেই বদলে গেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। বিশেষ করে বিএনপি। দীর্ঘদিন ধরে মামলা-হামলা, হত্যা, গুমের কারণে ঝিমিয়ে পড়েছিলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তবে লন্ডন থেকে ফেরার দিনে বিমানবন্দর এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়ে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানালে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে নেতাকর্মীরা। এরপরই কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে যান বেগম জিয়া। যাত্রাপথে মানুষের ঢল নামতে দেখে দলের চেয়ারপারসনসহ নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাসের পালে নতুন হাওয়া লাগে।
হরতাল নিয়ে বিএনপির নতুন উপলব্ধি- দৈনিক যায়যায়দিন

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যেই বিএনপি টানা তিন মাস হরতাল-অবরোধ দিয়ে দেশে সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছিল সেই দলটি বলছে, বিদু্যতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে হরতাল 'জনসম্পৃক্ত' কর্মসূচি নয়।
খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বাম দলগুলোর হরতাল ডাকার পর শুক্রবার ঢাকার নয়াপল্টনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলের এ অবস্থান তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, 'বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আমরা অবশ্যই কর্মসূচি দেব। আমাদের একটা ধারণা আছে হরতাল দেয়া মানে জনগণের সম্পৃক্ততা, এটা সব সময় সঠিক নয়।''জনগণের সম্পৃক্ততা নিয়েই আমরা আমাদের পক্ষে যেটা সম্ভব হবে সেই কর্মসূচি দেব। আমরা জনগণের সঙ্গে আছি।' তবে ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই দামবৃদ্ধির বিষয়ে কখন কর্মসূচি দেবেন তা বলেননি বিএনপির মহাসচিব।
এর আগে রামপালে বিদু্যৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদে বামদলগুলোর ডাকা একটিসহ একাধিক ইসু্যতে ডাকা হরতালে বিএনপির পক্ষ থেকে সমর্থন দেয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার গণশুনানি করে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গ্রাহকের পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদু্যতের দাম গড়ে ৩৫ পয়সা বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এর প্রতিবাদে ৩০ নভেম্বর সারাদেশে আধা বেলা হরতাল ডেকেছে সিপিবি, বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা।
নির্বাচনে না এলে বিএনপির অস্তিত্ব থাকবে না: তোফায়েল- দৈনিক সমকাল

বিএনপিকে বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচনে আসতে হবে— এমন মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, 'যদি নির্বাচনে না আসে তা হলে বিএনপির অস্তিত্ব থাকবে না। বিএনপির নেতারা বলেন, অভ্যুত্থান ঘটাবেন। আবার সেই জ্বালাও-পোড়াও করে দেশে অশান্তির সৃষ্টি করবেন। যদি সাহস থাকে সেই চেষ্টা করুন।'
শুক্রবার দুপুরে লালমোহন উপজেলার ধলিগৌরনগর আব্দুল ওয়াহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ভোলাস্থ ঢাকা সমিতি কর্তৃক আয়োজিত আলহাজ আব্দুল হান্নান হাওলাদার শিক্ষাবৃত্তি ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আাগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসবে— এমন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, 'এই দেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে ঐক্য করে বিএনপি ভোটের মাঠে যাবে কী করে— আমি ভাবতে পারি না। এই বিএনপি জ্বালাও-পোড়াও করেছে। আগুন দিয়ে সাধারণ মানুষকে মেরেছে। ২৪ জন পুলিশকে হত্যা করেছে। ৮ বছরের শিশুকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। বাংলার মানুষ এসব ভোলেনি।
তারেক রহমান দেশে ফিরলে নতুন ধারা প্রবাহিত হবে : ড. এমাজউদ্দীন- দৈনিক নয়াদিগন্ত

তিনটি শর্তে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরলে নতুন ধারা প্রবাহিত হবে।শুক্রবার এক সভায় তিনি বলেন, সংসদ ভাঙা, বিরোধী দলের নেতাদের দেয়া মামলা প্রত্যাহার বা স্থগিত এবং বিরোধী দলের প্রধানদের কিছু নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্তে আসতে হবে। এই তিন শর্ত পূরণ করলেই আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হবে বলে মন্তব্য করেন ড. এমাজউদ্দীন আহমদ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন।বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দল। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমাজউদ্দীন আহমদ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তিনটি শর্তের কথা বলেন।
প্রথমত, বর্তমান সংসদ ভেঙে দিতে হবে। এ সংসদ রেখে নির্বাচন করাকে বাতুলতা করা হবে বলে তিনি মনে করেন। দ্বিতীয়ত, ভোটপ্রার্থীদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা আছে, তা তুলে দিয়ে বা স্থগিত করে তাদের নির্বাচনের সুযোগ করে দিতে হবে। তৃতীয়ত, বর্তমান নির্বাচন কমিশন আলোচনার মাধ্যমে যেভাবে গঠিত হয়েছে, সেভাবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নিরপেক্ষ সরকার গঠনে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত: দেশের ব্যাংকিং খাতে অশনিসংকেত- দৈনিক যুগান্তর

দেশের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকে বেজে উঠেছে ‘অশনিসংকেত’। অর্থনীতির চালিকাশক্তির মূল নিয়ামক এই ব্যাংকিং খাতে অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে খেলাপি ঋণ। খেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ার কারণেই মূলত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের। তাদের মতে, ঋণের নামে গ্রাহকদের হাজার হাজার কোটি টাকার আমানত লুটে নিচ্ছে খেলাপিরা। এ ক্ষেত্রে আইনের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের পক্ষে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কারণ ‘অবলোপন’-এর দোহাই দিয়ে ঋণের তালিকা থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে খেলাপিদের নাম।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, গ্রাহকের টাকা আমানত হিসেবে রেখে ব্যাংকগুলো ব্যবসা করছে। অথচ এ আমানতের টাকায় ভুয়া এলসি খুলে এবং বিভিন্ন কৌশলে বিদেশে অর্থ পাচার করছে একটি চক্র। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া বিদেশে বিনিয়োগ ও হুন্ডির মাধ্যমেও অর্থ পাচার করা হচ্ছে। ফলে আমানতকারীর অর্থ একদিকে খেলাপিরা লুটপাট করছে, অন্যদিকে হচ্ছে বিদেশে পাচার।
বিশেষজ্ঞদের আরও অভিমত, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রভিশন (খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি) ও মূলধন ঘাটতির মুখে পড়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো। এতে অনেক ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে লোকসান গুনছে। আবার আগ্রাসী ব্যাংকিংয়ের কারণে তারল্য সংকটে ভুগছে কয়েকটি ব্যাংক। এ ছাড়া নতুন করে যোগ হতে যাচ্ছে সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন (প্রস্তাবিত)। এটি কার্যকর হলে, সুশাসন ও জবাবদিহিতা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে পরিবারতন্ত্র কায়েম হবে বলেও মন্তব্য তাদের।
প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সমুদ্র মহড়া হচ্ছে বাংলাদেশে- দৈনিক মানবজমিন

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহের নৌবাহিনীর অংশগ্রহণে বঙ্গোপসাগরে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সমুদ্র মহড়া ইয়নস মাল্টিলেচারাল মেরিটাইম সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এক্সারসাইজ (আইএমএমএসএআরইএক্স-২০১৭)। আগামী ২৮ ও ২৯শে নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে সম্মিলিত মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। এতে ৩২টি দেশের মধ্যে ২৩টি সদস্য ও ৯টি পর্যবেক্ষক দেশসমূহের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং নৌ প্রধান, ঊর্ধ্বতন নৌ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের মেরিটাইম বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করবেন। নৌবাহিনী জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহের নৌবাহিনীর মধ্যকার আঞ্চলিক সম্প্রীতি ও সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে এই আন্তর্জাতিক সমুদ্র মহড়ার আয়োজন করছে। প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ কক্সবাজারের ইনানী বিচ সংলগ্ন হোটেল রয়েল টিউলিপে সোমবার এ মহড়ার উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া হেলিকপ্টারে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী যুদ্ধজাহাজসমূহের ফ্লিট রিভিউ পরিদর্শন করবেন। পরে তিনি বিচ কার্নিভালের উদ্বোধন করবেন।
আইওএনএস এর ২৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, কেনিয়া, মালদ্বীপ, মরিশাস, মোজাম্বিক, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সিসিলি, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, তাঞ্জানিয়া, থাইল্যান্ড, তিমুর লেসেথ, সংযুক্ত আরব অমিরাত এবং যুক্তরাজ্য। অন্যদিকে ৯টি পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে রয়েছে চীন, জার্মানি, ইতালি, জাপান, মাদাগাস্কার, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, রাশিয়া এবং স্পেন।
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:
অযোধ্যায় মন্দিরই হবে, অন্য কিছু নয়: হুঙ্কার ভাগবতের- দৈনিক আনন্দবাজার

শুধুমাত্র রাম মন্দির। আর কিচ্ছু নয়। অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রাম মন্দির ছাড়া অন্য কিছুই তৈরি করতে দেওয়া হবে না। বললেন সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ আয়োজিত এক কর্মসূচিতে ভাষণ দিতে গিয়ে শুক্রবার এ কথা বলেছেন আরএসএস প্রধান। অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরি হতে আর খুব বেশি দেরি নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
কর্নাটকের উদুপিতে ‘ধর্ম সংসদ’ আয়োজন করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। গোটা ভারত থেকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতারা যোগ দিয়েছেন সেই কর্মসূচিতে। যোগ দিয়েছেন হাজার দুয়েক সাধু-সন্ত এবং মঠাধ্যক্ষ। এ দিন সেই জমায়েতেই ভাষণ দিয়েছেন সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। বিতর্কিত কাঠামোয় যে পাথর রয়েছে, সেই পাথর দিয়েই রাম মন্দির গড়ে তোলা হবে বলে ভাগবত মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘ওখানে (বিতর্কিত জমিতে) মন্দির আমাদের বানাতেই হবে, ওই পাথর দিয়েই বানাতে হবে। সেই দিন দূরে নয়, যখন মন্দিরটার মাথার উপর একটা গৈরিক পতাকা উড়বে।’’
যেমন মন্দির আগে ছিল, ঠিক তেমন মন্দিরই অযোধ্যায় গড়া হবে, মন্তব্য ভাগবতের। দীর্ঘ প্রচেষ্টা এবং বহু বলিদানের মূল্যে আজ এমন একটা দিন এসেছে, যখন মনে হচ্ছে অযোধ্যায় রাম মন্দির গড়া সম্ভব— এ দিন এমনই বলেছেন মোহন ভাগবত। বিতর্কিত ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ কী, তা যে এখনও আদালতে বিচারাধীন, সে কথা ভাগবত নিজের ভাষণে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও বলেছেন, ‘‘আমরা মন্দির গড়বই। এটা কোনও জনমোহিনী কথা নয়। এটা আমাদের বিশ্বাস এবং তা বদলাবে না।’’
পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন আটকে দিচ্ছে মোদি সরকার: মমতা- দৈনিক বর্তমান

পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে শিল্পোদ্যোগীদের কেন্দ্রীয় সরকার বারণ করছে বলে সরাসরি অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, রাজ্যের উন্নয়ন থমকে দেওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্র। যা কিছু সবই হচ্ছে গুজরাতে। মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের ভাষণের প্রায় পুরোটা জুড়ে ছিল কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপি-র কড়া সমালোচনা। তবে বঞ্চনা করা হলেও রাজ্যকে যে দমিয়ে রাখা যাবে না, সেটা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশকে নেতৃত্ব দেবে বাংলা।
বিজেপি এই রাজ্যে কিছুই করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার কথায়, বিজেপি এখানে শুধু সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় রয়েছে। ওরা শুধু চিৎকার করে। এখানে কখনওই জিততে পারবে না। বিজেপি এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘চ্যালেঞ্জার’ হতে পারবে না। বাংলা কখনও বিজেপি-র বিভেদের রাজনীতি (ডিভাইড অ্যান্ড রুল পলিটিকস) গ্রহণ করবে না। বিজেপি শুধু দাঙ্গা ও হিংসা করতে জানে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এখন প্রধান বিরোধী দল হয়ে ওঠার জন্য উঠেপড়ে নেমে পড়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যে বিজেপিকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এহেন মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন সভা-অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য হয়েছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার ও বিজেপি। এদিনের ভাষণেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান বিজেপি সরকারের শাসনে দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়ে পড়েছে। দেশে এখন ‘সুপার ইমার্জেন্সি’ চলছে। দুই দশক ধরে আমি এমপি ছিলাম। কিন্তু কখনও এমন অবস্থা দেখিনি। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বিরোধী দলগুলিকে বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
যমুনাকে দূষিত করার অপরাধে বেকারি মালিকের ২ বছরের সাজা- দৈনিক আজকাল

যমুনা নদীকে দূষিত করার অপরাধে এক বেকারি মালিককে দু’বছরের কারাবাসের সাজা শোনাল আদালত। বিশেষ আদালত শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেকারির বর্জ্য পদার্থ গিয়ে পড়ত যমুনায়। যার জেরে ছড়িয়েছে দূষণ। ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বেকারি মালিককে। শুধু তাই নয়, ক্ষতিপূরণ বাবদ আড়াই লাখ টাকা দিতে হবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে।
আদালতের মতে, জনগণের এই ধরণের আচরণের জন্যই সমাজ দূষিত হচ্ছে। যার ফলে যমুনার মতো পবিত্র নদীও দূষণের শিকার। আদালতের মতে, বর্তমান সমাজ যমুনাকে রক্ষা করতে অক্ষম। দিল্লিতে দূষণের মাত্রা এমনিতেই অত্যধিক। এরপর যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ সমাজকে দূষিত করে, তাহলে আর কী করার আছে। সেজন্যই বেকারি মালিককে শাস্তি দিয়ে আদালত বুঝিয়ে দিল, এই ধরণের কাজ করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! কথাবার্তার আজকের আসর এ পর্যন্তই। আবারো কথা হবে আগামী আসরে।
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৫