নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপি বিলুপ্ত হবে-কাদের, এ বছর বিএনপির-ফখরুল
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৬ জানুয়ারি শনিবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- বিভিন্ন স্থানে বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা ঢাকায় বিক্ষোভ আজ- দৈনিক মানবজমিন
- ‘এ বছর বিএনপির বছর’- দৈনিক প্রথম আলো
- ‘নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপি বিলুপ্ত হয়ে যাবে’- দৈনিক ইত্তেফাক
- আওয়ামী লীগের ‘নির্বাচনী রোডম্যাপ’: শীর্ষ নেতাদের সফর চলতি মাসেই- দৈনিক যুগান্তর
- 'রোহিঙ্গা শিবিরে এ বছর জন্মাবে ৪৮ হাজার শিশু'- দৈনিক সমকাল
- প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন নন-এমপিও শিক্ষকরা- দৈনিক নয়াদিগন্ত
- প্রথম ছুটির দিনেই ক্রেতা-দর্শনার্থীতে জমজমাট বাণিজ্য মেলা- দৈনিক ইনকিলাব
- অধিকাংশ চিকিৎসক ঢাকা ছাড়েননি- দৈনিক যায়যায়দিন
ভারতের শিরোনাম:
- চিটফান্ড কাণ্ডে তদন্তের গতি আরও বাড়বে, লোকসভায় জানালেন অর্থমন্ত্রী জেটলি- দৈনিক বর্তমান
- মমতাকে সমর্থন সুস্মিতার, সোচ্চার বরাক- দৈনিক আজকাল
- কাঁপুনি শহরে, জেলায় শৈত্যপ্রবাহের ভ্রুকুটি- দৈনিক আনন্দবাজার
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন বাছাই করা কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ:
বিভিন্ন স্থানে বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা ঢাকায় বিক্ষোভ আজ- দৈনিক মানবজমিন

৫ই জানুয়ারি দশম জাতীয় নির্বাচনের চতুর্থবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ঘোষিত দেশব্যাপী কালো পতাকা মিছিল পুলিশি বাধার মুখে পড়েছে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়। হামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন নেতাকর্মীরা। কালো পতাকা মিছিলকে কেন্দ্র করে খুলনা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, বান্দরবান ও ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে আহত হয়েছে শতাধিক। এ সময় অন্তত ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কয়েকটি জেলা ও উপজেলা বিএনপি কার্যালয় তালাবদ্ধ ও নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে পণ্ড করা হয়েছে কর্মসূচি।
৫ই জানুয়ারি একতরফা দশম জাতীয় নির্বাচনের চতুর্থবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির সমাবেশ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গতকাল ভোর থেকে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও আশপাশের এলাকায় কঠোর অবস্থান নেয় পুলিশ। বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ছাড়াও বিজয়নগর থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত প্রতিটি গলির মুখে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেই সঙ্গে সাদা পোশাকে বিভিন্ন সংস্থার লোকজনের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতির পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় এপিসি, জলকামান ও প্রিজন ভ্যান। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ৫ই জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নয়াপল্টন এলাকায় পুলিশের কঠোর অবস্থান প্রসঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, সকালে পার্টি অফিসের সামনে পুলিশ সারিবদ্ধ হয়ে এমনভাবে অবস্থান নেয়, যাতে কার্যালয়ে একটা পাখিও ঢুকতে না পারে। এদিকে, প্রতিদিন নয়াপল্টনে দলের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি থাকলেও গতকাল দৃশ্য ছিল ভিন্ন।
‘এ বছর বিএনপির বছর’- দৈনিক প্রথম আলো

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২০১৮ হচ্ছে খালেদা জিয়ার বছর, বিএনপির বছর। ২০১৮ সাল হচ্ছে জনগণের বছর, গণতন্ত্রের বছর।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আজ শুক্রবার এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন। ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে বিএনপি। এ উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আলোচনা সভার আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে গণতান্ত্রিক শক্তির লড়াইটা এত সহজ লড়াই নয়। অনেক ত্যাগস্বীকার করতে হয়, সেই ত্যাগ আমরা করেছি। আমাদের এখন জোট বাঁধতে হবে, আমাদের জেগে উঠতে হবে। মানুষকে জাগিয়ে তুলতে হবে এবং মানুষকে জাগিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে একমাত্র গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে।’
‘নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপি বিলুপ্ত হয়ে যাবে’- দৈনিক ইত্তেফাক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করলে বিরল প্রজাতির প্রাণীর মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে আসতেই হবে। আর নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের জন্য হবে দ্বিতীয় আত্মহত্যা। তাদের পরিণতি মুসলিম লীগের চেয়েও খারাপ হবে।’
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ওবায়দুল কাদের বলেন, সময় ও স্রোতের মত আগামী জাতীয় নির্বাচনও কারো জন্য অপেক্ষা করবে না। এই নির্বাচন মিস করলে বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও মিস হয়ে যাবে।
দেশে গণতন্ত্রের কোন সংকট নেই উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে গণতন্ত্র না থাকলে সংসদীয় গণতন্ত্রের বিশ্বের শীর্ষ দুটি প্রতিষ্ঠান ইন্টার পার্লামেন্টারী ইউনিয়ন (আইপিইউ) ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারী এসোসিয়েশন (সিপিএ) এর সম্মেলন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতো না।তিনি বলেন, বিশ্বের এ শীর্ষ সংস্থা দু’টির সম্মেলনই শুধু এ দেশে অনুষ্ঠিত হয় নি, বর্তমান সংসদের দু’জন সংসদ সদস্য তাঁদের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সম্মেলনে যোগ দেওয়া প্রতিনিধিরা দেশের গণতন্ত্রের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।ওবায়দুল কাদের বলেন, আইপিইউ ও সিপিএ’র সম্মেলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, দেশে গণতন্ত্রের কোন সংকট নেই।
সেতুমন্ত্রী বলেন, পদ্মাসেতু জোড়া-তালী দিয়ে বানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া এ সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত না করার কথা বলেছেন। কিন্তু এত বড় সেতু স্প্যানের সাথে স্প্যানের সংযোগ ছাড়া তো নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তারপরও ফেরির মাধ্যমে তাকে পারাপারের ব্যবস্থা করা যাবে।
আওয়ামী লীগের ‘নির্বাচনী রোডম্যাপ’: শীর্ষ নেতাদের সফর চলতি মাসেই- দৈনিক যুগান্তর

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায়ের নানা কার্যক্রমের প্রাথমিক পরিকল্পনার খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। সেই অনুযায়ী নতুন বছরজুড়ে দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকবে ক্ষমতাসীনরা। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’-এ সমাবেশ ও র্যালির মাধ্যমে রাজপথের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আর খুব শিগগির শুরু হবে ভোট কেন্দ্রভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরি, পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ এবং ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের কাজ। এ ছাড়া চলতি মাস থেকেই শুরু হবে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাংগঠনিক সফর। এসব নেতা বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। পাশাপাশি তৃণমূলকে সংগঠিত করবেন।
সম্প্রতি দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বৈঠক করে এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেটি ‘নির্বাচনী রোডম্যাপ’রই অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন শীর্ষ নীতিনির্ধারক শুক্রবার টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, ২০১৮-জুড়েই নির্বাচনমুখী কর্মকাণ্ড চলবে। দুটি প্রক্রিয়ায় এ কাজ এগিয়ে যাবে। একটি হল পোলিং এজেন্টস প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। যেখানে প্রথমে মাস্টার্স ট্রেইনার্স তৈরি করা হবে, যারা বিভাগে গিয়ে এজেন্ট প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেবেন। এরপর এজেন্ট প্রশিক্ষকরা জেলায় গিয়ে স্থানীয় এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেবেন। এভাবে তৃণমূল পর্যন্ত প্রশিক্ষণ পৌঁছে যাবে। আরেকটি হল দলের ওয়ার্ড থেকে জেলা-মহানগর পর্যন্ত কমিটিগুলোকে গুছিয়ে আনা। যেখানে কমিটি দেয়ার দরকার সেখানে কমিটি দেয়া হবে, যেখানে বিভাজন মেটানো দরকার সেখানে তাই করা হবে।
'রোহিঙ্গা শিবিরে এ বছর জন্মাবে ৪৮ হাজার শিশু'- দৈনিক সমকাল

বাংলাদেশে চলতি বছর রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে অন্তত ৪৮ হাজার শিশু জন্ম নিতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছে আন্তর্জাতিক শিশুবিষয়ক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। অর্থাৎ প্রতিদিন ক্যাম্পগুলোতে জন্ম নেবে অন্তত ১৩০টি শিশু। এসব নবজাতকের অধিকাংশেরই ডিপথেরিয়া, কলেরা, হামসহ নানা রোগ ও পুষ্টিহীনতার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। ফলে অনেক শিশু ৫ বছরের আগেই মারা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি এসব তথ্য জানায়।গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের হিসাব মতে, এসব শরণার্থীর ৬০ ভাগই নারী ও শিশু। স্থানীয় হিসাবে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারীদের ৭০ হাজারই অন্তঃসত্ত্বা।
বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজারে ক্যাম্পগুলোয় কাজ করা সেভ দ্য চিলড্রেনের স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা র্যাচেল কুমিংস বলেন, 'ক্যাম্পগুলোর পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা খুবই নাজুক। এগুলো ডিপথেরিয়া, হাম, কলেরার মতো রোগের উৎসস্থল। আর এর জন্যই নবজাতকরা সেখানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মোট কথা, এটি কোনো শিশু জন্মানোর জন্য উপযুক্ত স্থান নয়।'
প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন নন-এমপিও শিক্ষকরা- দৈনিক নয়াদিগন্ত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিওভুক্তির দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ সাজ্জাদুল হাসান আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশনরত শিক্ষকদের মধ্যে এসে দাবি মেনে নেয়ার কথা জানান শিক্ষকদের। এরপর নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অনশন ভাঙার ঘোষণা দেন।প্রধানমমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান ও শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন শিক্ষক নেতাদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান।
সাজ্জাদুল হাসান আজ বিকেল পৌনে চারটায় অনশনস্থলে আসেন শিক্ষা সচিব মো: সোহরাব হোসাইন এবং ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াকে সাথে নিয়ে।সাজ্জাদুল হাসান প্রধানমন্ত্রীর বার্তা জানিয়ে শিক্ষকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে জানাতে বলেছেন তিনি আপনাদের দাবি মেনে নিয়েছেন। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। তিনি আপনাদের অনশন ভেঙে যার যার বাড়ি ফিরে যাবার অনুরোধ করেছেন।
একটানা ছয়দিন অনশনের পর এ ঘোষণার সাথে সাথে অনশরত কয়েক হাজার শিক্ষকদের মাঝে আনন্দের উল্লাস বয়ে যায়। তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে শ্লোগান দিতে থাকেন। নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারি ফেডারেশনের অধীনে শিক্ষক কর্মচারীরা আমরন অনশন করে আসছিলেন গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঘোষণা আসার পর ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার অনশন ভাঙার ঘোষণা দেন। এরপর বক্তব্য রাখেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায়।সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান প্রধামন্ত্রীর একান্ত সচিব। এরপর শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইনও তাদের পানি পান করান।
প্রথম ছুটির দিনেই ক্রেতা-দর্শনার্থীতে জমজমাট বাণিজ্য মেলা- দৈনিক ইনকিলাব

বছরের প্রথম ছুটির দিন এবং বাণিজ্য মেলার শুরুর পর প্রথম শুক্রবারে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে মেলা প্রাঙ্গন। কনকনে শীত উপেক্ষা করে মেলার পঞ্চম দিনেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ঢলে জমে উঠে বাণিজ্য মেলা। মেলায় পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা মানুষজনের ছিল ঢের উপস্থিতি। বন্ধু-বান্ধবসহ বিভিন্ন দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও কম যায়নি। কারো আকর্ষণ ঘর সাজানো সামগ্রীর ঘিরে, কারো নিজেকে সাজানোর উপকরণের দিকে। অনেককে আবার সেলফি তুলতেও দেখা গেছে। এসব দর্শনার্থী ও ক্রেতার পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ) প্রাঙ্গণ। মেলা ঘুরে গতকাল শুক্রবার এ চিত্র দেখা যায়। এদিকে গতকাল মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়ের সঙ্গে বেড়েছে নানা অব্যবস্থাপনাও। প্রথম কয়েকদিন মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দর্শনার্থীরা সন্তুষ্ট থাকলেও গতকাল থেকে তাদের ক্ষোভ বেড়েছে। বিশেষ করে মেলা প্রাঙ্গণে ভিক্ষুক, হকারদের উৎপাতে তারা বিব্রত।
সরেজিমেন মেলায় দেখা যায়, বেচাবিক্রি ও ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জমে উঠেছে ঢাকা আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য মেলার ২৩তম আসর। সকাল ১০টা থেকে মেলার কার্যক্রম শুরু হলেও বেলা ১১ টার পর থেকে ধীরে ধীরে ভিড় বাড়তে থাকে। আর শেষ বিকালে কানায় কানায় ভরে যায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। গতকাল বেচাবিক্রিও আশানুরুপ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশও উপেক্ষিত: অধিকাংশ চিকিৎসক ঢাকা ছাড়েননি- দৈনিক যায়যায়দিন

রাজধানীর বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০৬ জন চিকিৎসককে (ওএসডি) সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশের বিভিন্ন স্থানে বদলি আদেশ দিলেও তাদের অনেকেই ঢাকা ছাড়েননি। এ ব্যাপারে খোদ প্রধানমন্ত্রী কড়া হুশিয়ারি দিলেও তা উপেক্ষা করে তারা পূর্বের কর্মস্থলে বহালতবিয়তে আছেন।
এ বিষয়ে সরেজমিন গত ২ জানুয়ারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় বদলি আদেশ পাওয়া নাক-কান-গলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও হাসপাতালটির সহকারী পরিচালক ডা. কে এম মামুন মোর্শেদ তার নিজ কক্ষে কাজ করছেন। অথচ তাকে গোপালগঞ্জ জেলার শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজে বদলি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত্মও তিনি ওই মেডিকেল কলেজে যোগদান করেননি বলে যায়যায়দিনকে নিশ্চিত করেছেন ওই কলেজের নবনিযুক্ত প্রিন্সিপাল ডা. আমিনুল হোসেন।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে বদলিকৃত কতজন ডাক্তার এ পর্যন্ত্ম রিলিজ নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে মামুন মোর্শেদ যায়যায়দিনকে বলেন, আদেশপ্রাপ্ত সবাই রিলিজ নিয়ে চলে গেছেন। তবে তাদের নামের তালিকা চাওয়ায় এটি মন্ত্রণালয়ের কাজ, হাসপাতাল কোনো তথ্য দিতে পারবে না বলে জানান। পাশাপাশি তথ্য অধিকার আইনে দরখাস্ত্মের মাধ্যমে তথ্য নিতে বলেন। সে সময় হাসপাতালটির পরিচালক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া দেশের বাইরে অবস্থান করায় ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্ব নিয়ে তাকে বিভিন্ন ফাইলপত্রে স্বাক্ষর করা এবং মন্ত্রণালয়ের মিটিংয়ে যোগ দিতে দেখা যায়। পরে প্রশাসনিক দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৫ জনের বদলি হলেও ২ জানুয়ারি পর্যন্ত্ম মাত্র ১৭ জন চিকিৎসক রিলিজ স্স্নিপ নিয়েছেন।
ডা. কে এম মামুন মোর্শেদ ছাড়াও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা রহিম ও স্যার সলিমুলস্নাহ মেডিকেল কলেজের নেফ্রোলজির সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাসুদ ইকবালকেও গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজে বদলি করা হলেও তারাও সেখানে যোগদান করেননি।
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:
মমতাকে সমর্থন সুস্মিতার, সোচ্চার বরাক- দৈনিক আজকাল

নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে অসমের বাঙালিদের আন্দোলনে সবসময়ে পাশে থাকার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে অনুরোধ জানালেন কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেব। তাঁর বক্তব্য, নাগরিকত্বের প্রশ্নে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সঠিক অবস্থানই নিয়েছেন। এ জন্য তাঁকে ধন্যবাদও জানান তিনি। আজকালকে সুস্মিতা বলেন, নাগরিকত্ব ইস্যুতে সঠিক ভূমিকাই নিয়েছেন মমতা। তাঁর উচিত আমাদের আন্দোলনে শেষ পর্যন্ত পাশে থাকা। মমতার বিরুদ্ধে এফআইআরকেও পাত্তা দিতে নারাজ সারা ভারত মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী তথা প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী সন্তোষমোহন দেবের মেয়ে।
এদিকে, জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণ নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অসমের বরাক উপত্যকার বুদ্ধিজীবীরা। তাঁদের অভিযোগ, ইচ্ছে করেই বাঙালিদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এর পিছনে বিজেপির ইন্ধন রয়েছে। এদিন শিলচর বঙ্গভবনে আয়োজিত এক নাগরিক সম্মেলনে এনআরসির নামে বাঙালি–বিদ্বেষের প্রতিবাদে নাগরিক কনভেনশনের ডাক দিয়েছিল বরাক উপত্যকা বঙ্গসাহিত্য সম্মেলন। সেখানে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্য বলেন, অসম সরকারকে পিছন থেকে চালাচ্ছে আত্মসমর্পণকারী আলফা জঙ্গিরা আর আসু। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বাঙালি–বিদ্বেষী ছাত্র আন্দোলনের এক সময় নেতৃত্বে ছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ নিজেই। প্রসঙ্গত, এনআরসির প্রথম খসড়ায় শিক্ষাবিদ তপোধীর ভট্টাচার্য–সহ অনেকেরই নাম নেই। বরাকের বুদ্ধিজীবীরা প্রায় সকলেই একমত, অ–অসমিয়াদের বাদ দেওয়াদের চেষ্টা চালাচ্ছেন নিয়েছে এনআরসি কর্তারা। এর বিরুদ্ধে বরাকবাসী আন্দোলনে নামবে।
চিটফান্ড কাণ্ডে তদন্তের গতি আরও বাড়বে, লোকসভায় জানালেন অর্থমন্ত্রী জেটলি- দৈনিক বর্তমান

চিটফান্ড কাণ্ডে আগামীদিনে তদন্তের গতি আরও বাড়বে। আজ লোকসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে একথা জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থ এবং কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী অরুণ জেটলি। প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, তদন্তে কোনও ঢিলেমি হচ্ছে না। ঠিক মতোই চলছে। তবে কোন রাজ্যে চিটফান্ড বেড়ে উঠছে বা চলছে, তা প্রধানত রাজ্য সরকারের আইন অনুযায়ী দেখা হয়। কিছুক্ষেত্রে একই কোম্পানি একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে থাকায় কেন্দ্র বিষয়টি দেখে। তবে এটুকু বলতে পারি, সাধারণ মানুষের থেকে টাকা তুলে তা নিয়ে জালিয়াতি করলে কাউকেই ছাড়া হবে না।
কোম্পানি আইনের কিছু নিয়মের (রুল) বলে কোনও প্রাইভেট কোম্পানি তার ডিরেক্টর এবং তার আত্মীয় সহ সদস্যদের টাকা বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু ওইসব প্রাইভেট কোম্পানি পাবলিক বা সাধারণের থেকে টাকা তুলতে পারে না। আজ লোকসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে একথা জানিয়ে দেন। কিন্তু তাঁর উত্তরে খুশি না হয়ে চিটফান্ড কোম্পানির প্রসঙ্গ তোলেন তৃণমূলের সৌগত রায়। তাঁর প্রশ্ন, বেসরকারি বহু কোম্পানি গরিব মানুষের থেকে টাকা তুলছে। এবং তারপর তাদের ঠকাচ্ছে। সরকারের হাতে সেবি, রিজার্ভ ব্যাংক, সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিসের মতো সংস্থা রয়েছে। তা সত্ত্বেও ঠিক মতো কাজ কেন হচ্ছে না।
জবাবে অর্থমন্ত্রী আইন এবং নিয়মের বেশ কিছু ব্যাখ্যা দিয়ে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করলেও উত্তরে সন্তুষ্ট না হয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়ে চেপে ধরেন কংগ্রেসের অধীররঞ্জন চৌধুরি। তিনি বলেন, আইনের ভারী ভারী বিষয় না বলে সোজা জবাব চাই। সরাসরি তৃণমূলের নাম না করেও তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সরকার এবং সরকারি অফিসারদের সামনেই রাজ্যটি ক্রমশ চিটফান্ডের স্বর্গরাজ্য পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ চিটফান্ডে টাকা রেখে ঠকেছে। অনেকে আত্মহত্যাও করেছে। বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বও এর সঙ্গে জড়িত বলে দেখা গিয়েছে। তা সত্ত্বেও তদন্ত ঠিক মতো এগচ্ছে না কেন? এবং গ্রাহকরা কীভাবে টাকা পাবে?
কাঁপুনি শহরে, জেলায় শৈত্যপ্রবাহের ভ্রুকুটি- দৈনিক আনন্দবাজার

যখন ছিল না সে, ছিলই না। এ বার মহাসমারোহে আসর জমিয়ে সমানে তাল ঠুকছে শীত।
দক্ষিণবঙ্গের কাঁপুনি বাড়িয়ে তরতরিয়ে নামছে পারদ। নিত্যদিনই ভেঙে যাচ্ছে শীতলতম মাত্রার রেকর্ড। এতটাই যে, রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত তিনটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা করছেন আবহবিদেরা। শুক্রবার কলকাতার পারদ থিতু হয়েছে ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, দমদমে ৯.৯ ডিগ্রি। দু’টোই স্বাভাবিকের থেকে দু’ডিগ্রি কম। হাওয়া অফিসের খবর, শীত বেশি দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলায়। বীরভূমের শ্রীনিকেতনে এ দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭.৫ ডিগ্রি।
চলতি মরসুমে কলকাতায় সব থেকে বেশি ঠান্ডা ছিল এ দিনই। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আজ, শনিবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা আরও কিছুটা নামতে পারে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা গণেশকুমার দাস বলেন, ‘‘শনিবার তাপমাত্রা আরও কিছুটা নামতে পারে। পুরুলিয়া, বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানে শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।’’
আবহবিদেরা জানান, সাধারণত শীতকালে রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে পাঁচ ডিগ্রি নীচে নামলেই বলা হয়, শৈত্যপ্রবাহ চলছে। বীরভূম, পুরুলিয়া, আসানসোলে রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে কমবেশি তিন ডিগ্রি নীচে রয়েছে। অচিরেই এক ধাক্কায় সেটা আরও দু’ডিগ্রি নেমে যেতে পারে। আচমকা পারদ পতনের ফলে বাতাসের জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে গাঢ় কুয়াশা তৈরি করছে। তার ফলে ব্যাঘাত ঘটছে ট্রেন ও বিমান চলাচলে। রেল সূত্রের খবর, দিল্লি থেকে হাওড়া ও শিয়ালদহে পৌঁছতে রাজধানী এক্সপ্রেসের ২১ ঘণ্টা দেরি হয়েছে।
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! কথাবার্তার আজকের আসর এ পর্যন্তই। এ আসরে আবারো কথা হবে আগামীকাল।
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/৬