আগস্ট ০৭, ২০১৯ ১১:২১ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ৭ আগস্ট বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম

  • শ্রমিক সংগঠনের নামে গরুর ট্রাকে চাঁদাবাজি-দৈনিক যুগান্তর
  • দায় মেটানো ওষুধ ছিটানোর প্রয়োজন নেই: ওবায়দুল কাদের-দৈনিক ইত্তেফাক
  • কাশ্মীর সংকট হিন্দু জাতীয়তাবাদের ফল-দৈনিক প্রথম আলো
  • ডেঙ্গু বাস্তবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে-ওবায়দুল কাদের-দৈনিক মানবজমিন
  • একদিনে ৯ জনের মৃত্যু-কেন বাড়ছে প্রাণহানি?-দৈনিক মানবজমিনহয়তো কিছু এডিস মশা বিমানের ভেতরে চলে
  • এসেছে : এলজিআরডি মন্ত্রী -দৈনিক নয়া দিগন্ত

ভারতের শিরোনাম:    

  • মোদী সরকারের নজরে এ বার পাক অধিকৃত কাশ্মীর, প্রাণ দিতেও প্রস্তুত, বললেন শাহ-দৈনিক আনন্দবাজার
  • বাঁধ মানল না আবেগ, সুষমাকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে চোখে জল মোদি-আডবানীর-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • ৩৭০ অবলুপ্তির ফলে আরেকটা পুলওয়ামা হবে, বললেন ইমরান খান-দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। 

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

কথাবার্তার প্রশ্ন (৭ আগস্ট)

১. ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কী বলবেন তার এই স্বীকারোক্তি নিয়ে?

২. কাশ্মির ইস্যু নিয়ে আজও দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। এ অবস্থায় ভারত ও পাকিস্তানকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। কীভাবে দেখছেন ইরানের আহ্বানকে?

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর:

একদিনে ৯ জনের মৃত্যু-কেন বাড়ছে প্রাণহানি?-দৈনিক মানবজমিন

প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যু। এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা এক শ’ ছুঁই ছুঁই। রোগী নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল। সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সরকারের কড়া নজরদারির মধ্যেও এতো প্রাণহানি কেন? এমন প্রশ্নে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ডেঙ্গুর ধরণ ভিন্ন। তাই আক্রান্তদের বাঁচাতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে হবে। গতানুগতিক চিকিৎসায় প্রাণহাণি রোধ করা যাবে না। একইসঙ্গে ডেঙ্গু সনাক্ত হলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

অনেক রোগী এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটছেন। এতে তার অবস্থার অবনতি হচ্ছে। চিকিৎসায় ছেদ হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানালেও বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা ৯০ ছাড়িয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। 

এদিকে রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৩৪৮জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যা গত কয়েক দিনের ২৪ ঘণ্টার রেকর্ডকে অতিক্রম করেছে।

ডেঙ্গু বাস্তবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে-দৈনিক মানবজমিন

ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এডিস মশার হাত থেকে বাঁচতে দেশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে একযোগে মাঠে নামতে হবে। তা না-হলে মন্ত্রী-এমপি কেউই রেহাই পাবেন না।

দায় মেটানো ওষুধ ছিটানোর প্রয়োজন নেই: ওবায়দুল কাদের-দৈনিক ইত্তেফাক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘দায় মেটানোর জন্য অকার্যকর ওষুধ ছিটানোর কোনো প্রয়োজন নেই। আগামী দুই-চার দিনের মধ্যে কার্যকর ওষুধ ঢাকায় আসবে।’বুধবার বেলা ১১টার দিকে মিরপুর মাজার রোডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ডেঙ্গু নিয়্ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত মশক নিধন কার্যক্রম জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে। আমাদের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও চলবে।

শ্রমিক সংগঠনের নামে গরুর ট্রাকে চাঁদাবাজি-এবার পুলিশের নামে টাকা নেয়া হচ্ছে না-দৈনিক যুগান্তর

মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গরুর ট্রাক থেকে চাঁদা নেয়া হচ্ছে। শ্রমিক সংগঠনের নামে গরুর ট্রাক থামিয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ট্রাকচালক ও বেপারিরা জানান, এখন পুলিশ টাকা না নিলেও শ্রমিক সংগঠনের লোক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ঢাকার গাবতলী গরুর হাটেও নীরবে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সোমবার গাবতলী হাটে রংপুর থেকে গরু নিয়ে আসা ট্রাকচালক কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, রংপুর থেকে ৩০ হাজার টাকা চুক্তিতে ১৫টি গরু নিয়ে এসেছি। রাস্তায় কয়েকটি স্পটে আরও ১৪ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, রংপুর থেকে ঢাকায় পৌঁছতে গরুপ্রতি প্রায় তিন হাজার টাকা বাড়তি খরচ হয়েছে। এ টাকা ক্রেতাদের ঘাড়ে গিয়ে পড়বে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ট্রাকচালক জায়েদুর রহমান রাজশাহীর সিটির হাট থেকে গরু নিয়ে সোমবার সকালে ঢাকায় পৌঁছেছেন।

থানায় গণধর্ষণের ঘটনায় ওসিসহ ২ পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড-দৈনিক ইত্তেফাক

খুলনার জিআরপি (রেলওয়ে) থানায় তিন সন্তানের মাকে (৩০) গণধর্ষণের ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি পাঠান ও এসআই নাজমুল হককে ক্লোজ করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে বুধবার সকালে তাদের খুলনা জিআরপি থানা থেকে পাকশী জেলা রেলওয়ে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ তাদের ক্লোজ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ জানান, মঙ্গলবার দুপুর থেকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা খুলনা জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি পাঠানসহ ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে একজন নারীর তোলা ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেন। পুলিশের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়া এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাদের ক্লোজ করা হয়েছে। বাকি তিন পুলিশ সদস্যের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে, তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত ধর্ষণের বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ওই গৃহধূকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে আটক করে। পরে গভীর রাতে জিআরপি থানার ওসি উছমান গনি পাঠান ও এসআই গৌতম কুমার পালসহ ৫ পুলিশ সদস্য তাকে ধর্ষণ করে। পরদিন শনিবার তাকে ৫ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে খুলনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ফুলতলায় প্রেরণ করা হয়। ৪ আগস্ট আদালতে জামিন শুনানিকালে জিআরপি থানায় গণধর্ষণের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন তিনি। এরপর আদালতের নিদের্শে সোমবার তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

কাশ্মীর সংকট হিন্দু জাতীয়তাবাদের ফল-দৈনিক প্রথম আলো

সাত দশক পর জম্মু–কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বা স্বায়ত্তশাসন বাতিল করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার এটাকে ‘ঐতিহাসিক ভুলকে’ সংশোধন হিসেবে বিশেষায়িত করেছে। বিরোধীপক্ষের দিক থেকে এই পদক্ষেপকে ভারতের অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, কেন এটা ঘটল এবং এর গুরুত্বটাই বা কী? কাশ্মীর সংকটকে হিন্দু জাতীয়তাবাদের ফল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিশ্লষকেরা।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

মোদী সরকারের নজরে এ বার পাক অধিকৃত কাশ্মীর, প্রাণ দিতেও প্রস্তুত, বললেন শাহ-দৈনিক আনন্দবাজার

দল প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই দাবি ছিল, ক্ষমতায় এলে প্রত্যাহার করা হবে কাশ্মীরের ৩৭০ অনুচ্ছেদ। অবশেষে নরেন্দ্র মোদী সরকারের দ্বিতীয় পর্বে বাতিল হল সেই অনুচ্ছেদ। বিশেষ মর্যাদা হারাল জম্মু-কাশ্মীর। রাজ্য থেকে পরিণত হল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে? আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ বুঝিয়ে দিয়েছেন, সরকারের পরবর্তী লক্ষ্যই হল পাক অধিকৃত কাশ্মীর। 

তার মানে এই নয় যে, আগামিকাল থেকেই পাক অধিকৃত কাশ্মীর অভিযানে নেমে পড়বে ভারত। অদূর ভবিষ্যতেও সেই সম্ভাবনা কম। এক বিরোধী নেতার কথায়, ‘‘অন্তত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কিছু হবে বলে মনে হয় না।’’ বিরোধীরা এ কথা বললেও আজ শাহ লোকসভায় দাঁড়িয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর নজর রয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। যার জন্য তিনি প্রয়োজনে প্রাণ দিতে প্রস্তুত।

‘এবার বিয়ে করা যাবে ফরসা কাশ্মীরি যুবতীদের’, ৩৭০ রদে মন্তব্য বিজেপি বিধায়কের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

সংবিধানের বিতর্কিত ৩৭০ ধারা রদ হওয়া নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য বিজেপি বিধায়কের।  কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের সমর্থন করে উত্তরপ্রদেশের বিক্রম সিং বলেন, ‘এবার কাশ্মীরের ফরসা-সুন্দরী মেয়েদের বিয়ে করা যাবে।’ এই মন্তব্যে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে সমালোচনা।

গত সোমবার, সংবিধানের ৩৭০ ধারায় সংশোধন এনে ও ৩৫এ ধারা বিলুপ্ত করে কেন্দ্র।  একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরকে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করে দেওয়া হয়।  প্রায় ৬৯ বছর পর মোদি সরকার-২.০ এই পদক্ষেপ নিয়ে উপত্যকার মানচিত্র পালটে দেয়।  তারপরই দেশজুড়ে শুরু হয় উৎসব। কংগ্রেস প্রতিবাদ করলেও, দলীয় কোন্দলে তা নিয়ে কেউ বিশেষ মাথা ঘামায়নি। তবে উল্লাস করতে গিয়ে গোল বাঁধিয়েছেন মুজফফরনগরের খটৌলির বিধায়ক বিক্রম সিং সেনি।  নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে দলীয় সমর্থকদের অতি উৎসাহী ওই বিধায়ক বলেন, ‘দলের কর্মীরা উৎফুল্ল, বিশেষ করে যাঁরা অবিবাহিত।  এবার ফরসা কাশ্মীরি মেয়েদের সঙ্গে তাঁদের বিয়ে দেওয়া যাবে। আগে ভিনরাজ্যে বিয়ে করলে কাশ্মীরি মহিলারা নাগরিকত্ব খোয়াতেন। তাঁদের উপর অনেক অত্যাচার হত। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা না থাকে এবার সেসব সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন কাশ্মীরি মহিলারা।’ তবে শাসকদল যাই দাবি করুক না কেন, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অঙ্গরাজ্যের মর্যাদা খোয়ানোর পর কাশ্মীর উপত্যকা রাজনৈতিকভাবে যে একেবারে ঠান্ডা হয়ে যাবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় না৷#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৭