জুলাই ১৪, ২০২০ ১১:৫৮ Asia/Dhaka

প্রিয় শ্রোতা ভাই-বোনেরা, সবাইকে অনেক অনেক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আপনাদেরই চিঠিপত্রের আসর 'প্রিয়জন'। প্রত্যেক আসরের মতো আজও চিঠিপত্রের ঝাঁপি নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি আমরা তিনজন। আমি গাজী আবদুর রশিদ, আমি আকতার জাহান এবং আমি আশরাফুর রহমান।

আশরাফুর রহমান: চিঠির দিকে নজর দেয়ার আগে আজও আমরা একটি হাদিস শুনব। বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, 'কল্যাণের চেয়ে কল্যাণকারী উত্তম আর মন্দের চেয়েও মন্দ কাজে জড়িত ব্যক্তি নিকৃষ্টতর'। 

আকতার জাহান: আমরা সবাই কল্যাণকর কাজে নিয়োজিত থাকব এবং মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকব- এ আশাবাদ ব্যক্ত করে চিঠিপত্রের দিকে নজর দিচ্ছি। আসরের প্রথম চিঠিটি এসেছে সৌদি আরবের তাবুক শহর থেকে। আর লিখেছেন জাফুরুল ইসলাম জাফর। তিনি লিখেছেন:

গাজী আবদুর রশিদ: আমি ছোট বেলা থেকেই রেডিও শুনি। আমার বড় ভাই যখন রেডিও তেহরানের খবর শুনতেন তখন পাশের পড়ার টেবিল থেকেই চুপি চুপি রেডিও শুনতাম। এরপর আমি নিজে যখন রেডিও শোনা শুরু করি তখন রেডিও তেহরানে শুনতাম ফিরোজ আলম, আব্দুল কুদ্দুস মাস্টার, সোহেল রানা হৃদয়, সালাউদ্দিন ডলার, ফয়সাল আহমেদ সিপন ভাইসহ অনেকের নাম। বর্তমানে ফেসবুক পেইজে লাইভ স্ট্রিমিং প্রচার করায় অনেক সুবিধা হয়েছে। এর ফলে নতুন অনেক শ্রোতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করি।

আশরাফুর রহমান: ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান লিখেছেন এই চিঠিটি। তিনি লিখেছেন: "অনেক দিন পর প্রিয়জনের আসর শুনলাম। অনুষ্ঠানে বৈচিত্র্যতা এসেছে শুনে খুব ভালো লাগল। বেশি বেশি শ্রোতার চিঠি প্রচার করা শুরু হয়েছে এবং সেখান থেকে প্রত্যেকের চিঠির নির্যাস কথাটুকু প্রচার করা হোক। প্রতিদিন অন্ততঃ একজনের সাক্ষাৎকার প্রচারে অনেকেই অনুষ্ঠান শুনতে উৎসাহী হবে এবং শ্রোতা হিসেবেও তার স্বীকৃতি মিলবে। যাদের চিঠির বিষয়বস্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়, তাদের নাম প্রাপ্তিস্বীকারে থাকাটাই শ্রেয়। শ্রোতাদের জন্য কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ এবং এটা যেন অব্যাহত থাকে। প্রিয়জনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা।  

আকতার জাহান: ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার নওপাড়া শিমুলিয়ার ভ্রাতৃ রেডিও লিসনার্স ক্লাবের সভাপতি এস এম জাকির হোসেন লিখেছেন এবারের চিঠিটি। তিনি লিখেছেন: নতুন আঙ্গিকে রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান শুনতে ভালো লাগছে। ২৩ জুন তারিখের অনুষ্ঠান শুনলাম; মনটা ভরে গেল। প্রিয়জন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বনামধন্য শ্রোতা আলহাজ্ব আবদুল্লাহ ভাইয়ের সাক্ষাৎকার ভালো লেগেছে।

গাজী আবদুর রশিদ: আমাদের অনুষ্ঠান আপনাদের ভালো লাগছে জেনে আমাদেরও ভালো লাগছে। চিঠি লেখার জন্য জাফুরুল ইসলাম ভাই, জিল্লুর রহমান ভাই ও এস এম জাকির হোসেন ভাই আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। তো, অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে আমরা সরাসরি কথা বলব বাংলাদেশি শ্রোতা আতাউর রহমান রঞ্জুর সঙ্গে।  

আকতার জাহান: বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলার খোশবাড়ী গ্রাম থেকে শাওন হোসাইন লিখেছেন এবারের চিঠিটি। তিনি একদিনের অনুষ্ঠান সম্পর্কে মতামত জানিয়ে লিখেছেন: গত ১৭ জুন ঈমাম জাফর সাদিক (আ)-এর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে তার জীবনী শুনলাম যা থেকে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পারলাম। এরপর কুরআনের আলোতে সুরা গাফির থেকে তিলাওয়াত ও তরজমা শুনলাম যা মনকে প্রশান্ত করে দিল।       

গাজী আবদুর রশিদ: পঞ্চগড়ের দশমাইল থেকে মোহাম্মদ জুয়েল পাঠিয়েছেন পরের ইমেইলটি। তিনি লিখেছেন- আমি চলতি মাসেই আমি রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শোনা শুরু করেছি এবং নিয়মিত শুনে আসছি। রেডিও তেহরানের প্রতিটি অনুষ্ঠান আমার কাছে খুব ভালো লাগে। আপনাদের অসাধারণ উপস্থাপনা আমাকে অনুষ্ঠান শুনতে অনুপ্রাণিত করে।  

আশরাফুর রহমান: ভাই শাওন হোসাইন ও মোহাম্মদ জুয়েল, আমাদের অনুষ্ঠান আপনাদের উপকারে আসছে জেনে আমাদেরও ভালো লাগছে। চিঠি লেখার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।  আসরের পরের চিঠিটি এসেছে বগুড়া শহর থেকে। আর লিখেছেন সাইফুল ইসলাম।

আকতার জাহান: সাইফুল ভাইয়ের নামটা কানে বাজতেই একটা বিষয় উল্লেখ করা জরুরি মনে করছি। বিষয়টি হলো- আমি বেশ কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছি যে, এ শ্রোতাভাই আমাদের অনুষ্ঠান শোনার পর প্রায় প্রতিদিনই ইমেইল করেন।

আশরাফুর রহমান: আপনি ঠিকই লক্ষ্য করেছেন। সাইফুল ভাই লিখেনও বেশ সাজিয়ে গুছিয়ে। যাইহোক, এই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, বর্তমানে আপনাদের অনুষ্ঠান ওয়েব সাইটের মাধ্যমে খুব সহজেই শুনতে পাচ্ছি। ভীষণ ভালো লাগছে আপনাদের নিয়মিত অনুষ্ঠানগুলো। বিশেষ করে নতুন আঙ্গিকে সাজানো 'প্রিয়জন'-এর আসর বেশ ভালো লাগছে।

গাজী আবদুর রশিদ: সাইফুল ভাই তার চিঠিতে একটি প্রশ্নও করেছেন। জানতে চেয়েছেন, ইরানের রেল ব্যবস্থা কেমন? সমগ্র ইরানে কত কিলোমিটার রেলপথ বিস্তৃত?

আকতার জাহান: ইরানের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ সমৃদ্ধ, অত্যাধুনিক ও নিরাপদ। ইরানের রেল শিল্পের অভিজ্ঞ প্রকৌশলী ও কর্মীরা দুর্গম পবর্ত ও বিস্তীর্ণ মরুভূমির মধ্যদিয়ে রেললাইনকে ইরানের সর্বত্র সম্প্রসারিত করেছে। তারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমগ্র ইরানে রেলপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

আশরাফুর রহমান: ইরানে ১৮৮৬ সালে প্রথম রেলপথ তৈরি হয় যেটি তেহরানকে রেই শহরের সাথে সংযুক্ত করেছিল। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৮ হাজার ৭০০ মিটার। এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন শহরের মধ্যে তৈরি হয় স্বল্প দূরত্বের রেলপথ। ১৯৩৮ সালে সমগ্র ইরানে রেল যোগাযোগ শুরু হয়। এরপরও অন্যান্য রেলপথ তৈরি হয়েছে যা ইরানের বিভিন্ন অংশকে সংযুক্ত করেছে। শুধু তাই নয়, তুর্কমেনিস্তান, আজারবাইজান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইরাক, তুরস্কের সঙ্গে ইরানের রেল যোগাযোগ আছে। তুরস্ক ও ইরান সীমান্তে সম্প্রসারিত তাবরিযের রেলপথ ইরানের রেলপথকে ইউরোপের রেলপথের সাথে সংযুক্ত করেছে।  

গাজী আবদুর রশিদ: সাইফুল ভাইয়ের প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশের জবাবে বলছি- বর্তমানে ইরানে ১৫ হাজার কিলোমিটার রেল লাইন রয়েছে এবং ২০২৫ সালের মধ্যে তা ২৫ হাজার কিলোমিটারে নিতে চায় তেহরান।

আকতার জাহান: এবারে আমি কয়েকজন শ্রোতার চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করছি।

  • ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে লিখেছেন শিবেন্দু পাল
  • বাংলাদেশের রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পুরান তাহিরপুর থেকে মো. সাইফুল ইসলাম থান্দার
  • সাঈফ আহমেদ উৎস লিখেছেন নারায়ণগঞ্জের আলী সাহারদির শিক্ষার্থী শ্রোতা পরিষদ থেকে
  • ফয়সাল আহমেদ সিপন ওআফিয়া খানম জুলী লিখেছেন, মধুমতি বেতার শ্রোতা সংঘ ঘোড়াদাইড় গোপালগঞ্জ থেকে।

আশরাফুর রহমান: চিঠি লিখার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে আমি কয়েকজন শ্রোতার নাম-ঠিকানা জানিয়ে দিচ্ছি যারা অনুষ্ঠান শোনার পর শ্রবণমান রিপোর্টও পাঠিয়েছেন।

  • ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা থেকে মাধব চন্দ্র সাগৌড় 
  • আনন্দ মোহন বাইন লিখেছেন ভারতের ছত্তিশগড় থেকে
  • বাংলাদেশের টাঙ্গাইল থেকে আবু তাহের
  • চুয়াডাঙ্গা থেকে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ  এবং
  • ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থেকে মো. লাল মিয়া

গাজী আবদুর রশিদ: শ্রবণমান রিপোর্ট পাঠানোর জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। এখানে একটি বিষয় জানিয়ে দিতে চাই আর তা হলো- যারা শ্রবণমান রিপোর্ট পাঠাচ্ছেন তাদেরকে রেডিও তেহরান থেকে ই-কিউএসএল ভেরিফিকেশন কার্ড পাঠানো হয়। তাই আপনারাও শ্রবণমান রিপোর্ট পাঠিয়ে আমাদের অনুষ্ঠানের মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাাশাপাশি ই-কিউএসএল ভেরিফিকেশন কার্ড সংগ্রহ করতে পারেন।

আকতার জাহান: তো বন্ধুরা, দেখতে দেখতে আমাদের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে এসেছে। আপনারা ভালো ও সুস্থ থাকুন এ কামনা করে গুটিয়ে নিচ্ছি চিঠিপত্রের আজকের আসর।

আশরাফুর রহমান: কথা হবে আবারো আগামী আসরে। আশা করি সে আসরেও আপনাদের সঙ্গ পাব।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।