প্রিয়জন: ‘পারস্য উপসাগর থেকে ইথারে ভেসে আসা কণ্ঠস্বর আমরা উপভোগ করি’
সুপ্রিয় শ্রোতা ভাই-বোন ও বন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক প্রীতি আর শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি চিঠিপত্রের সাপ্তাহিক আসর প্রিয়জন। আজকের আসরে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশিদ, আমি আকতার জাহান এবং আমি আশরাফুর রহমান।
আশরাফুর রহমান: চিঠির ঝাঁপি খোলার আগে আজও আমি একটি হাদিস শোনাতে চাই। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “বীরত্ব এটা নয় যে, প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করবে। নিশ্চয়ই বীরত্ব হলো রাগের সময় ধৈর্য ধরতে পারা।”
আকতার জাহান: আমরা সবাই যেন রাগের সময় ধৈর্যশীল হতে পারি এ কামনা করে নজর দিচ্ছি চিঠিপত্রের দিকে। আসরের প্রথম চিঠিটি এসেছে কিশোরগঞ্জের খড়ম পট্টি থেকে। আর লিখেছেন আমাদের নিয়মিত শ্রোতা শরিফা আক্তার পান্না। প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানানোর পর তিনি লিখেছেন, “২৩ ডিসেম্বর বুধবার রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগ থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলো হয় বিশ্বসংবাদ, দৃষ্টিপাত, স্বাস্থ্যকথা, কথাবার্তা ও কুরআনের আলো। এসব অনুষ্ঠানের মধ্যে বিশ্বসংবাদ, দৃষ্টিপাত ও কথাবার্তা নিয়মিত অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানগুলো আমাদেরকে দেশ-বিদেশ সম্পর্কে আপটুডেট রাখে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যকথা ও কুরআনের আলো সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান। এগুলো আমাদের জ্ঞানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে।”
গাজী আবদুর রশিদ: অনুষ্ঠান শোনার পর ইমেইল করে মতামত জানানোর জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আসরের পরের মেইলটি এসেছে বগুড়ার চাঁদনী বাজার থেকে। আর পাঠিয়েছেন মোঃ সাইফুল ইসলাম।
তিনি লিখেছেন, শিশু-কিশোরদের জনপ্রিয় গল্পের আসর 'রংধনু' আমার খুব পছন্দের একটি আসর। আমি নিয়মিতভাবে এ আসরটি শ্রবণ করার চেষ্টা করে থাকি। খুব মনোযোগ সহকারে শুনলাম গত ১০ ডিসেম্বরের 'রংধনু'র আসরটি। আসরের শুরুতেই শুনলাম চমৎকার এক শিক্ষণীয় গল্প। এটি ছিল এক ধার্মিক স্বর্ণকারের গল্প। এ গল্পের কাহিনি নিয়ে আমাদের দেশে নির্মিত হয়েছে বেশ কিছু চলচ্চিত্র। এ গল্প থেকে এটাই বোঝা যায়, যে সত্যিকারের ধার্মিককে আল্লাহ কখনো বিপদে ফেলেন না। বরং মহান আল্লাহ সকল প্রকার বিপদ-আপদ থেকে তার প্রিয় বান্দাকে রক্ষা করেন। এরপর ছিল বেশ কয়েকটি মজার কৌতুক পরিবেশন। সবশেষে শুনলাম 'ইয়া রাব্বি' নামে চমৎকার একটি হামদ। সব মিলিয়ে ভীষণ ভীষণ ভালো লেগেছে এই দিনের 'রংধনু'র আসরটি।
আশরাফুর রহমান: রংধনু আসরটি ভালো লেগেছে জেনে আমাদেরও ভালো লাগল। আশা করি আমাদের অন্যান্য অনুষ্ঠান সম্পর্কেও মতামত জানাবেন।
এবারের চিঠিটি পাঠিয়েছেন এস এম জাকির হোসেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার নওপাড়া শিমুলিয়া থেকে। তিনি লিখেছেন, “আমার বেতার জগতে আসার ৪০ বছর হয়ে গেল। প্রথম বেতার হিসেবে রেডিও পিকিংকে কাছে পাই। পরবর্তীতে এক এক করে অনেক বেতারকেই কাছে পাই। তার মধ্যে একটি নাম আমার প্রাণে ভেসে আসে আর তা হলো ইরানের রেডিও তেহরান। রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান শুধু আমাকে নয়, আমার পরিবারের সবাইকে আকৃষ্ট করে।”
আকতার জাহান: রেডিও তেহরান আপনার পরিবারের পছন্দের গণমাধ্যমে পরিণত হয়েছে জেনে ভালো লাগল। আশাকরি আরও পরবর্তী চিঠিতে সবার মতামত বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন।
বাংলাদেশের রাজবাড়ি জেলার খোশবাড়ি গ্রাম থেকে শাওন হোসাইন পাঠিয়েছেন এই মেইলটি। তিনি লিখেছেন, “রেডিও তেহরান শ্রোতাদের নিকট বর্তমানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে সুন্দর অনুষ্ঠান নির্মাণের পাশাপাশি শ্রোতাদের গুরুত্ব দেয়া। পারস্য উপসাগর থেকে বঙ্গোপসাগর, রেডিও তেহরান সঙ্গী হোক আপনার-আমার’ এই শ্লোগান আমার ভীষণ ভালো লাগে। সুদূর পারস্য উপসাগর থেকে ইথারে ভেসে আসা কণ্ঠস্বর আমরা শ্রোতারা নিয়মিত উপভোগ করি যা ভীষণ আনন্দের।”
গাজী আবদুর রশিদ: সবশেষে এ শ্রোতাবন্ধু লিখেছেন, “ছোট্ট সোনামণিদের জন্য রেডিও তেহরানের সাপ্তাহিক আয়োজন 'রংধনু' আমার খুবই প্রিয় আর তাই আমি একটি শ্রোতাক্লাব গঠন করেছি যার নাম ঠিক করেছি 'রংধনু বেতার শ্রোতা সংঘ'। নামটি কেমন হয়েছে আশা করি জানাবেন।”
আশরাফুর রহমান: 'রংধনু বেতার শ্রোতা সংঘ' নামটি আমাদের অনেক পছন্দ হয়েছে। খবরটি শুনে আশা করি ছোট্টবন্ধুরাওঅনেক খুশি হবে। আপনার ক্লাবের সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
ঢাকার গুলশান থেকে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম পাঠিয়েছেন পরের মেইলটি। তিনি লিখেছেন, “ছোটবেলায় বেতারের মাধ্যমে রেডিও তেহরান এর প্রায় অনুষ্ঠানগুলো শুনতাম। মাঝখানে অনেকদিন বেতার থেকে দূরে ছিলাম। এখন অবশ্য ফেসবুকের মাধ্যমে রেডিও তেহরানের প্রায় অনুষ্ঠান উপভোগ করি। এখানে বিশ্ব সংবাদ বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের খবরগুলো সুন্দরভাবে আমরা জানতে পারি। রেডিও তেহরানর সাথে আছি, থাকব ইনশাআল্লাহ।”
আকতার জাহান: দীর্ঘ বিরতির পর আবারো অনুষ্ঠান শোনা শুরু করেছেন জেনে ভালো লাগল। চিঠি লিখার জন্য জাহাঙ্গীর ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
গাজী আবদুর রশিদ: শ্রোতাবন্ধুরা, অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে আপনাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবো বাংলাদেশি শ্রোতাবন্ধু মোবারক হোসেন ফনিকে।

গাজী আবদুর রশিদ: সাক্ষাৎকারের পর আবারো চিঠিপত্রের দিকে নজর দিচ্ছি। বাংলাদেশের জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার পূর্ব নলছিয়া গ্রাম থেকে এই চিঠিটি পাঠিয়েছেন আয়েশা সিদ্দিকা আশা।
তিনি লিখেছেন, "গত ২৮ ডিসেম্বর রেডিও তেহরান এর সান্ধ্য অধিবেশন শুনলাম। সংবাদসহ প্রতিবেদন ও কথাবার্তা ভিন্ন রকম উন্মাদনা তৈরি করে বলেই এখনো বিভিন্ন বয়েসী শ্রোতারা রেডিও তেহরানের জন্য রেডিও হাতে মুখিয়ে থাকে। পরম যত্নে নির্ধারিত প্রচার সময়ে রেডিও টিউন করতে থাকে। যাহোক ঐ দিন প্রিয়জন শোনার জন্য আমিও মুখিয়ে ছিলাম। নিজের চিঠি না থাকলেও অনুষ্ঠান সংক্রান্ত শ্রোতাদের নানা অনুভুতি শুনে ভালো লেগেছে।"
সবশেষে তিনি জানতে চেয়েছেন, 'ইরানে চলচ্চিত্র রয়েছে কিনা? থাকলে কী ধরনের চলচ্চিত্র তা জানার ইচ্ছে পোষণ করছি।'
আশরাফুর রহমান: বর্তমানে বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনে ইরানি চলচ্চিত্রের বিশেষ পরিচিতি ও সুনাম রয়েছে। মানবতা, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং মানুষের প্রকৃতির বিশুদ্ধতার বার্তা দেয়ার কারণেই ইরানি চলচ্চিত্র আজ বিভিন্ন দেশ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র সকলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ধর্মীয় চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক সঙ্গতি-অসঙ্গতি, ইরানের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চেতনা ধারণ করে ইরানের চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে। এসব চলচ্চিত্র অস্কার, কান থেকে শুরু করে নানা আন্তর্জাতিক পুরস্কারেও ভূষিত হচ্ছে।
আকতার জাহান: বোন আয়েশা সিদ্দিকা আশা, আপনার প্রশ্নের উত্তর দেয়া হলো। আশাকরি কৌতুহল মিটেছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুপী থেকে হাফিজুর রহমান পাঠিয়েছেন এই মেইলটি। তিনি লিখেছেন, “বর্তমানে মার্কিন প্রশাসনসহ বিশ্বের বেশকিছু ইসলামবিরোধী রাষ্ট্র মুসলিমবিদ্বেষী হিংসা ছড়ানোর জন্য একটার পর একটা সুপরিকল্পিত ও সাজানো ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। পুরোটাই অভিনয়। এইসব মুখোশধারীদের মুখোশ যে কবে আর কিভাবে খুলবে- তা আল্লাহই জানে। মুসলিম বিদ্বেষী এ সব ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। আর তার জন্য ইরান আর রেডিও তেহরান আমাদের অনুপ্রেরণা।”
গাজী আবদুর রশিদ: গুরুত্বপূর্ণ চিঠিটির হাফিজুর রহমান ভাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আসরের শেষ চিঠিটির দিকে নজর দিচ্ছি।
বাংলাদেশের গাজীপুরের টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী এন্ড কলেজের প্রভাষক ফিরোজ আলম পাঠিয়েছেন এটি। তিনি লিখেছেন, রেডিও তেহরানের সকল অনুষ্ঠানই ইহলৌকিক ও পারলৌকিক মঙ্গল সাধন করছে যার ফলাফল সূদুর প্রসারী। ইদানীং 'ইরানি পণ্য সামগ্রী ' অনুষ্ঠান শুনে আমরা শুধু ইরানের পণ্য, কৃষি উৎপাদন, শিল্প উৎপাদন, কুটির শিল্প, ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্পর্কেই জানতে পারছি না, বাংলাদেশে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রেরণা যোগাচ্ছে। অনুষ্ঠানটি যেন বন্ধ করা না হয়, সে অনুরোধ করছি।
আশরাফুর রহমান: 'ইরানি পণ্য সামগ্রী' অনুষ্ঠান আপনাকে উদ্যোক্ত হওয়ার প্রেরণা যোগাচ্ছে জেনে ভালো লাগল। চিঠি লেখার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আকতার জাহান: অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে কিছু চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করছি।
- গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইড় থেকে ফয়সাল আহমেদ সিপন
- সাতক্ষীরা পাটকেলঘাটা থেকে এ, কে, এম, তারিক-উজ-জামান (কাকন)
- এইচএম তারেক ও সাঈফ আহমেদ উৎস লিখেছেন নারায়ণগঞ্জের আলী সাহারদি থেকে।
- চাঁদপুরের মতলব থেকে জোসনা রহমান ও রোজিনা আক্তার
- এবং বিধান চন্দ্র স্যানাল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে
গাজী আবদুর রশিদ: চিঠি লিখার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমি আরও কয়েকজন ডিএক্সারের নাম জানাতে চাই যারা আমাদের অনুষ্ঠান শোনার পর শ্রবণমান রিপোর্ট পাঠিয়েছেন।
- ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে বিধান চন্দ্র স্যানাল
- মুর্শিদাবাদ থেকে এস এম নাজিমউদ্দিন
- আনন্দমোহন বাইন ছত্তিশগড় থেকে
- জাওয়াদ সাবের মরক্কো থেকে
- বাংলাদেশের রাজবাড়ি থেকে শাওন হোসাইন
- টাঙ্গাইল থেকে আবু তাহের
- শাহাদত হোসেন কিশোরগঞ্জ থেকে
- এবং হারুন অর রশীদ জামালপুর থেকে
আশরাফুর রহমান: শ্রবণমান রিপোর্ট পাঠানোর জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। তো শ্রোতাবন্ধুরা, অনুষ্ঠান থেকে বিদায় নেয়ার আগে আপনাদের জন্য রয়েছে একটি গান। গানের কথা ও শিল্পী হায়দার হোসেন।
আকতার জাহান: তো বন্ধুরা, আপনারা গানটি শুনতে থাকুন আর আমরা বিদায় নিই চিঠিপত্রের আজকের আসর থেকে। কথা হবে আবারো আগামী আসরে।#