প্রিয়জন: ‘সারাদিনের কর্মক্লান্তির পর প্রশান্তির পরশ পেতে রেডিও তেহরান শুনি’
শ্রোতাবন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি চিঠিপত্রের আসর 'প্রিয়জন'। আশা করছি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন। আজকের আসরে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি নাসির মাহমুদ, আমি আকতার জাহান এবং আমি আশরাফুর রহমান।
আশরাফুর রহমান: আজও অনুষ্ঠান শুরু করব একটি মূল্যবান বাণী শুনিয়ে। নিজ পুত্র ইমাম হুসাইন (আ.)-কে উদ্দেশ করে আমিরুল মোমেনীন হযরত আলী (আ.) বলেছেন, “প্রিয় পুত্র আমার! তোমার প্রতি আমার উপদেশ হল- স্বচ্ছলতা ও অভাবের মধ্যে আল্লাহকে ভয় করে চলার; সন্তুষ্টি ও ক্রোধের মধ্যে সত্য কথা বলার। আর প্রাচুর্য ও দারিদ্রের মধ্যে মিতাচারী হওয়ার; শত্রু ও মিত্রের জন্য ন্যায়পরায়ন হওয়ার। সতেজতা ও অলস্যতায় কর্মমুখর হতে আর সুখে-দুঃখে আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকতে।“
আকতার জাহান: খুবই মূল্যবান কিছু উপদেশ শুনলাম। আমরা সবাই এই উপদেশগুলো মেনে চলার চেষ্টা করব- এ আশাবাদ ব্যক্ত করে নজর দিচ্ছি চিঠিপত্রের দিকে।
আসরের প্রথম চিঠিটি এসেছে বাংলাদেশে টাঙ্গাইলের ঘারিন্দার ইন্টারন্যাশনাল রেডিও ফ্যান ক্লাবস থেকে। আর লিখেছেন ক্লাব সভাপতি আবু তাহের। ৩১৬ শব্দের এই চিঠিতে তিনি প্রিয়জনসহ রেডিও তেহরানের বেশকিছু অনুষ্ঠান সম্পর্কে মতামত দিয়েছেন। তাঁর চিঠির কিছু অংশ পড়ে শোনাচ্ছি। আবু তাহের ভাই লিখেছেন, “জীবনের বাস্তবতা আমার নিকট থেকে নীরবে-নিভৃতে অনেক কিছু কেড়ে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। তারপরও জীবনযুদ্ধে জয়ী মনোভাব নিয়ে আশার প্রদীপ জ্বেলে হাজারও ব্যস্ততার মাঝে সারাদিনের কর্মক্লান্তির পরে একটু প্রশান্তির পরশ পেতে যোগ দিই রেডিও তেহরানের সাথে। যেখানে থাকে পরম শান্তির অমিয় বাণী ও ভবিষ্যতের পাথেয় স্বরূপ কুরআন ও হাদিসের দিকনির্দেশনা। এটাই সত্যি যে, রেডিও তেহরান বাংলা প্রতিটি মানুষের জীবন চলার পথে প্রয়োজনীয় ও শিক্ষণীয় বিশেষ অনুষ্ঠান উপহার দিয়ে থাকে। যেমন: কুরআনের আলো, আসমাউল হুসনা, পাশ্চাত্যে জীবন ব্যবস্থা, আদর্শ মানুষ গড়ার কৌশল। এসব অনুষ্ঠান আমাদের ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করি।”
নাসির মাহমুদ: রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান সম্পর্কে আবু তাহের ভাইয়ের মূল্যায়ন জেনে ভালো লাগল। তাঁর পুরো চিঠিটি আমরা আমাদের ওয়েবসাইট পার্সটুডে ডটকমের ‘শ্রোতাদের মতামত’ বিভাগে প্রকাশিত হয়েছে। শ্রোতাবন্ধুরা ইচ্ছে করলে সেখান থেকে পড়ে নিতে পারেন।
আশরাফুর রহমান: আর আবু তাহের ভাইয়ের কাছে আমাদের আহ্বান- আপনি নিয়মিত চিঠি লিখুন, গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি পরামর্শও দিন। আপনার চিঠি ও মতামত আমাদের অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করতে সহযোগিতা করবে নিঃসন্দেহে।
আসরের পরের চিঠিটি এসেছে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার পূর্ব নলছিয়া থেকে। আর পাঠিয়েছেন 'জাগো রেডিও লিসেনার্স ক্লাব'র সভাপতি হারুন অর রশীদ। প্রিয়জন অনুষ্ঠান সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, “তপ্ত মরুর ক্লান্ত পথিক যেমন একটু খানি শান্তির ছোঁয়া পেতে মরুদ্যান খুঁজে ফেরে; বিনোদনপিয়াসী প্রতিটি শ্রোতা হৃদয়ও তেমনি ‘প্রিয়জন’ শোনার প্রতীক্ষায় থাকে। ‘প্রিয়জন’ এখন এতোটাই শ্রোতাপ্রিয় যে ‘প্রিয়জন’ শোনা ছাড়া আমার সারা সপ্তাহের প্রতিটি দিনকে স্থবির মনে হয়। সপ্তাহ পেরিয়ে কবে আসবে কাঙ্ক্ষিত সোমবার- সে অপেক্ষা যেন শেষ-ই হতে চায় না! চাতক যেমন মেঘের জলের বরিষণে অপেক্ষমান আমিও ঠিক তেমনি ‘প্রিয়জন'-এর জন্য ব্যাকুল হৃদয়ে অপেক্ষায় থাকি। চমৎকার ও মনোমুগ্ধকর ‘প্রিয়জন’ অনুষ্ঠান উপহার দেবার জন্য সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীকে জানাই আমার শ্রদ্ধাপূর্ণ সালাম ও শুভেচ্ছা।”
আকতার জাহান: হারুন অর রশীদ ভাই, আপনি বেশ চমৎকার করে চিঠি লিখেন। আপনাকেও সালাম ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আশা করি নিয়মিত লিখবেন।
আসরের এবারের চিঠিটি এসেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটের ঢাকা কলোনী থেকে আর পাঠিয়েছেন সিনিয়র শ্রোতা বিধান চন্দ্র সান্যাল।
১৫ ফেব্রুয়ারি প্রচারিত অনুষ্ঠান সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, প্রতিদিনের মত আজও পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত দিয়ে অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়। এরপর ছিল বিশ্ব সংবাদ ও দৃষ্টিপাত। দৃষ্টিপাতের পর শুরু হয় চিঠিপত্রের অনুষ্ঠান প্রিয়জন। আজকের প্রিয়জনে চিঠির জবাবের পাশাপাশি ভারতের শ্রোতা আনন্দমোহন বাইনের সুন্দর সাক্ষাৎকার এবং ইরানের প্রকৃতির ওপর নাসির মাহমুদের আবৃত্তি দারুণ লেগেছে।
নাসির মাহমুদ: শ্রোতাবন্ধু বিধান চন্দ্র স্যানাল, চিঠি ও মতামতের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আসরের পরের মেইলটি পাঠিয়েছেন সুলতান মাহমুদ সরকার। তিনি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার সেতু রেডিও ফ্যান ক্লাবের সভাপতি। তিনি জানিয়েছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে প্রচারিত প্রিয়জন অনুষ্ঠান খুব ভালো লেগেছে। বিশেষ করে বিশ্ব বেতার দিবস উপলক্ষে শ্রোতা বন্ধুদের শুভেচ্ছা বাণী খুব সুন্দর ছিল।
এরপর সুলতান ভাই লিখেছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সারা বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কথা বলে। ইরানই একমাত্র দেশ, যে দেশ আমেরিকার মত রাষ্ট্রকে যেকোনো বিষয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। আর এটা সম্ভব হয়েছে একমাত্র তাদের ঈমানি শক্তির কারণে।
আশরাফুর রহমান: ভাই সুলতান মাহমুদ সরকার, প্রিয়জন অনুষ্ঠান ও ইরান সম্পর্কে আপনার মতামত জেনে ভালো লাগল। আশা করি এভাবেই মতামত জানিয়ে সবসময়আমাদের পাশে থাকবেন।
শ্রোতাবন্ধুরা, আসরের এ পর্যায়ে আমরা সরাসরি কথা বলব ভারতের শ্রোতাবন্ধু আমানুল মল্লিকের সঙ্গে।
আকতার জাহান: সাক্ষাৎকারের পর আবারো চিঠিপত্রের দিকে নজর দিচ্ছি। বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ শাহাদত হোসেন পাঠিয়েছেন এই মেইলটি। ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রচারিত রংধনু আসরের প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন, রংধনুতে আজ প্রথমেই প্রচারিত হয় হাতেম তাঈ’র মহানুভবতা শীর্ষক একটি গল্প। গল্পটি আমাদের খুব খুব ভালো লেগেছে। সেই সুদূর ইয়েমেনের অধিবাসী হলেও হাতেম তাঈ বাংলাদেশে তথা ইসলামী বিশ্বে খুবই পরিচিত একটি নাম। তাঁকে নিয়ে অসংখ্য গল্পের বই আছে বাংলাদেশে, আছে নানা উপকথা। ইতিহাসকে ছাপিয়ে তাঁর নাম এখন মানুষের মুখে মুখে। সেই হাতেম তাঈকে নিয়ে প্রচারিত গল্প আমাদের ভালো লাগবে সেটাই স্বভাবিক। আসলে ধন-সম্পদই যে দানের একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না- এ গল্প আমাদের সে শিক্ষাই দেয়।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে মারিয়া তাসকিন ওমানির কণ্ঠে 'চাই সবুজ পৃথিবী গান' এবং কিশোরগঞ্জের শ্রোতা মোঃ আজহারুল ইসলাম তামিমের সাক্ষাৎকার খুব ভালো লেগেছে।
নাসির মাহমুদ: রংধনু আসর সম্পর্কে মতামতসমৃদ্ধ চিঠির জন্য শাহাদত ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
অনুষ্ঠানের পরের মেইলটি এসেছে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর থানার নওপাড়া শিমুলিয়া থেকে। আর পাঠিয়েছেন ভিআরএল ক্লাবের সভাপতি এস এম জাকির হোসেন। তিনি লিখেছেন, "রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান আমাদেরকে বাড়তি খোরাক জোগায়। অন্য বেতারের তুলনায় রেডিও তেহরানের বৈশিষ্ট্য আলাদা। বর্তমানে কোনো বেতারই মাসিক কুইজ প্রতিযোগিতা, মাসিক ও বাৎসরিক শ্রেষ্ঠ শ্রোতা নির্বাচন করে না কিন্তু রেডিও তেহরান করে থাকে। তাছাড়া, রেডিও তেহরান সব শ্রোতাদের সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকে। গ্রাম-শহর সমস্ত শ্রোতাদের সমান চোখে দেখে। তাই রেডিও তেহরানকে কোনোদিন ভুলতে পারব না।"
আশরাফুর রহমান: রেডিও তেহরান সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন জেনে ভালো লাগল। চিঠি লেখার জন্য জাকির ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার সৈয়দপুর গ্রাম থেকে এ, টি, এম, আতাউর রহমান রঞ্জু পাঠিয়েছেন এবারের মেইলটি মেইলটি। রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগের পরিচালক, উপস্থাপক, উপস্থাপিকা, কলাকুশলীদেরকে বাসন্তী শুভেচ্ছা জানানোর পর তিনি লিখেছেন, "কিছুদিন থেকে ব্যস্ত আছি। তাই রেডিও তেহরান বাংলাকে সময় কম দেয়া হচ্ছে। তবু সাথে আছি অনলাইন, ফেসবুক ও টুইটারে। শেয়ার করি বিভিন্ন পোস্ট। তবে মাঝেমধ্যে ফেসবুকে শ্রবণমান ভালো না থাকায় খারাপ লাগে। আশাকরি ভালো শ্রবণ মান পাব।"
আকতার জাহান: ফেসবুক ও শর্টওয়েভে শ্রবণমান উন্নত করতে আমরা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছি। আশাকরি পরিস্থিতির উন্নতি হবে। চিঠি লিখে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা থেকে আসরের শেষ চিঠিটি পাঠিয়েছেন এ, কে, এম, তারিক-উজ-জামান (কাকন)।
তিনি লিখেছেন, "আমি রেডিও তেহরান নিয়মিত অনলাইনে শুনি। অনুষ্ঠানের শ্রবণমান খুব ভালো। খবর ও রংধনু আমার প্রিয় অনুষ্ঠান। রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান বাংলাদেশে এফ এম ব্যান্ডে সম্প্রচারের অনুরোধ করছি। আর ইরান সম্পর্কে আরও বেশি বেশি জানতে চাই।"
নাসির মাহমুদ: এ, কে, এম, তারিক-উজ-জামান কাকন, ইরান সম্পর্কে জানার জন্য নিয়মিত আমাদের অনুষ্ঠান শুনুন এবং ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। তো, চিঠি লেখার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আশরাফুর রহমান: শ্রোতাবন্ধুরা, অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে কয়েকজন শ্রোতার চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করছি।
• নারায়ণগঞ্জের আলী সাহারদি থেকে এইচ এম তারেক ও সাঈফ আহমেদ উৎস
• ফারিয়া খানম মুমু ইমামপুর, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ থেকে।
• শাওন হোসাইন রাজবাড়ী জেলার খোশবাড়ী থেকে
• ঠাকুরগাঁও থেকে মাহমুদুল হাসান।
আকতার জাহান: আমার হাতে কয়েকজন ডিএক্সার বন্ধুর মেইল আছে যারা আমাদের অনুষ্ঠানের শ্রবণমান রিপোর্ট পাঠিয়েছেন। আমি তাদের নাম-ঠিকানা জানিয়ে দিচ্ছি।
• ছত্তিশগড়ের ভিলাই থেকে আনন্দ মোহন বাইন
• পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে এসএম নাজিমউদ্দিন
• দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে রতন কুমার পাল ও বিধান চন্দ্র সান্যাল।
• রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে কনস্টানটিন বারসেকভ
• বাংলাদেশের গাজীপুর থেকে ফিরোজ আলম
• এবং টাঙ্গাইল থেকে আবু তাহের।
নাসির মাহমুদ: তো যারা অনুষ্ঠান শোনার পাশাপাশি কষ্ট করে শ্রবণমান রিপোর্ট পাঠিয়েছেন তাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আশরাফুর রহমান: তো বন্ধুরা, এবারের রয়েছে একটি আত্মশুদ্ধির গান। কথা ও সুর: মাহফুজ বিল্লাহ শাহী এবং গেয়েছেন আবু বকর সিদ্দিক।
আকতার জাহান: তো বন্ধুরা, আপনারা গানটি শুনতে থাকুন আর আমরা বিদাই নিই চিঠিপত্রের আজকের আসর থেকে। কথা হবে আবারো আগামী আসরে।