আগস্ট ১০, ২০২১ ১৬:০৫ Asia/Dhaka

শ্রোতা/পাঠক!১০ আগস্ট মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবরের শিরোনাম:

  • এভাবে গ্রেফতার-প্রচারণা নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির নোংরা বহিঃপ্রকাশ’আফরোজা হক রীনা-ইত্তেফাক
  • পরীমনির বাসায় যাতায়াত ছিল এমন কারও তালিকা হচ্ছে না: ডিএমপি কমিশনার-প্রথম আলো, দৈনিকটির অন্য একটি খবর-পরীমনি আবারও রিমান্ডে
  • করোনার চেয়ে দ্বিগুণ মৃত্যু উপসর্গে- মানবজমিন
  • বাংলাদেশে নারী অপরাধ-কালের কণ্ঠ
  • ‘পরীমনিদের সঙ্গে বিশিষ্টজনদের ভিডিও ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা চলছে’ -যুগান্তর

এবার ভারতের কয়েকটি খবরের শিরোনাম:

  • প্রার্থীর অপরাধ-যোগের নথি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জমা দিতে সব দলকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের -আনন্দবাজার
  • ত্রিপুরায় তৃণমূল কর্মীদের ফাঁসাচ্ছে পুলিশ, মানবাধিকার কমিশন কোথায়? তোপ কুণালের -আজকাল
  • দেশজুড়ে এনআরসি নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি, সংসদে-এ জানাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক -সংবাদ প্রতিদিন

শ্রোতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার দু’টি বিষয়ের বিশ্লেষণে যাব। 

১. করোনা ও বন্দর সংকটে পিছিয়েছি- এটি হলো দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার একটি শিরোনাম। আর বক্তব্যটি দিয়েছেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী এমপি। কী বলবেন আপনি?

২. ইহুদিবাদী ইসরাইলের একটি সাবমেরিন লোহিত সাগরে প্রবেশ করেছে বলে জানা গেছে। সাবমেরিনটি বাবুল মান্দেব প্রণালী পার হয়ে পারস্য উপসাগরের দিকে রওয়ানা দিতে পারে এবং ধারণা করা হচ্ছে তার সম্ভাব্য লক্ষ্য হচ্ছে ইরান। বড় কোনো ঘটনার আশংকা কী আছে বলে মনে হয়?কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর

ভারী যানবাহন নিয়ে পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ ইত্তেফাকারের শিরোনাম এটি। লেখা হয়েছে, নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে ভারী যানবাহন নিয়ে আর ফেরি চলাচল করবে না বলে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্‌মুদ চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

প্রায় সব দৈনিকের খবর গতকাল-১৮ দিনের মাথায় পদ্মা সেতুর পিলারে ফের ফেরির ধাক্কা। খবরটিতে লেখা হয়েছে,ফের পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কা দিয়েছে রো রো ফেরি। সোমবার সন্ধ্যায় মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাট থেকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাটে যাওয়ার সময় বীরশ্রেষ্ঠ  জাহাঙ্গীর নামে রো রো ফেরি পদ্মা সেতুর ১০ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয়। ১৮ দিনের মধ্যে পদ্মা সেতুর পিলারে দুই বার ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটল।বিআইডব্লিউটিসির মেরিন অফিসার আহাম্মদ আলী বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ধাক্কা খাওয়ার পর ফেরিতে থাকা একটি পণ্যবাহী ট্রাক অপর দুটি প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে যায়। 

ফাঁড়িতে তরুণীর শ্লীলতাহানি, এএসআই  প্রত্যাহার-যুগান্তর/মানবজমিন/প্রথম আলো

রাজশাহীতে পুলিশ ফাঁড়িতে একজন সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মো. শামীম নামে ওই এএসআইকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সোমবার রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক তাকে প্রত্যাহার করেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণীর (১৮) বাড়ি নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে। তিনি বিবাহিত। স্বামীর নির্যাতনের কারণে তিনি পুলিশের জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেছিলেন। এরপর মহানগরীর বোসপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শামীম তদন্ত করে আসেন। সেদিন তিনি ওই তরুণীকে পুলিশ ফাঁড়িতে ডেকে পাঠান। সে অনুযায়ী রোববার সকালে ওই তরুণী তার মাকে নিয়ে ফাঁড়িতে যান।

এ সময় এএসআই শামীম ওই তরুণীর মাকে রুমের বাইরে যেতে বলেন। ওই তরুণী রুমে একা থাকলে এএসআই শামীম তার শ্লীলতাহানি ঘটান। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় ওই তরুণীর বাবা বোয়ালিয়া থানায় এএসআই শামীমের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য এএসআই শামীমের দুটি মোবাইল ফোন নম্বরে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে খুদেবার্তা পাঠানোর পরও তিনি সাড়া দেননি। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরকারি কর্মকর্তা এমন স্লোগান দিতে পারেন না: ব্যারিস্টার সুমন

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক (সুমন) ফেসবুক লাইভে চারপাশের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে প্রায়ই আলোচিত হন। সম্প্রতি তাঁকে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়ার পর আবার আলোচনায় এসেছেন তিনি।

 যুবলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সায়েদুল হকের বিরুদ্ধে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও আদর্শবিরোধী এবং অরাজনৈতিক আচরণের সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে এবং এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়েছে। তবে সায়েদুল হক প্রথম আলোকে বলেছেন, তিনি দলের সুনাম নষ্ট হয়, এমন কোনো কাজ বা বক্তব্য কখনোই দেননি।সোমবার মুঠোফোনে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন সায়েদুল হক। শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন স্লোগান দেন। একটি বেসরকারি টেলিভিশনে স্লোগান দেওয়ার ভিডিও দেখে সায়েদুল হক ফেসবুক লাইভে বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ওসি এ ধরনের স্লোগান দিতে পারেন না। এরপরই সংগঠন থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতির চিঠি পান তিনি।গত শুক্রবার ফেসবুক লাইভে সায়েদুল হক বলেন, ‘...মায়ের চেয়ে যখন মাসির দরদ বেশি হয়, তখন বুঝে নেবেন আপনার অবস্থা কিন্তু ভালো না। অনেক ওসি ও পুলিশ কর্মকর্তা দলমতের ঊর্ধ্বে দেশের সেবা করে যাচ্ছেন। এই ওসির (আক্তার হোসেন) কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁদের অবস্থাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, এ নিয়েও প্রশ্ন করেন সায়েদুল হক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ওসি যে এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন, সেখানকার জনগণ ভাবতে পারেন ওসি সাহেব তো নিজেই আওয়ামী লীগার।সায়েদুল হক সংগঠন থেকে অব্যাহতির বিষয়টিকে দেখছেন তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে। এ অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘একদল ফেসবুকে প্রচার করেন আমি জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানের বিরোধিতা করেছি। অথচ বিষয়টি তেমন ছিল না। আমি ওসি সাহেবের স্লোগান দেওয়া বেমানান এবং তা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলেই বলেছি। আমি লাইভে এটাও বলেছি, আওয়ামী লীগে আর কোনো নেতা কি নেই যে তাঁকেই স্লোগান ধরতে হবে? অথচ বলা হচ্ছে, আমি জয় বাংলার বিরোধিতা করেছি।’যাঁর স্লোগানকে কেন্দ্র করে এত আলোচনা, পালং মডেল থানার সেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেকোনো অনুষ্ঠানে স্লোগান দেওয়া যাবে বলে হাইকোর্টের একটি রুল আছে। আমি পুলিশে চাকরি করি এটা ঠিক। তবে আমি তো এ দেশের নাগরিক। সেই অনুষ্ঠানে এমপিসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। আমি পুলিশের পোশাকে সে অনুষ্ঠানে ছিলাম না। সিভিল পোশাকে ছিলাম। আমি মনে করি, আমি কোনো নীতিমালা লঙ্ঘন করি নাই।’

বাহুবলে ১ মিনিটের ব্যবধানে চা–শ্রমিককে দুবার টিকাদান-প্রথম আলো

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় এক মিনিটের ব্যবধানে এক ব্যক্তিকে দুবার করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকাদান কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির নাম রবি কালিন্দি (৫৪)। তিনি পেশায় চা-শ্রমিক।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বৃন্দাবন চা-বাগানের ওই শ্রমিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা দিতে যান। সেখানে তাঁর টিকা নিবন্ধন কার্ড জমা নেওয়ার পর তাঁকে একটি চেয়ারে বসতে দেওয়া হয়।

পরে প্রথমে তাঁর বাঁ হাতে টিকা দেওয়া হয়। টিকা দেওয়ার পর তিনি ওই চেয়ারেই বসে ছিলেন। প্রথম ডোজ দেওয়ার এক মিনিটের ভেতরেই ওই একই টিকাদানকারী আরেকটি সিরিঞ্জ হাতে নিয়ে ওই ব্যক্তিকে শার্ট খুলতে বলেন। রবি কালিন্দি টিকাদানকারীর কথামতো শার্ট খোলার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ডান হাতে আরেক ডোজ টিকা দেওয়া হয়। 

তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি বুঝে ওঠার আগেই তাঁর ডান হাতে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। রবি কালিন্দির পেছনে থাকা অপেক্ষমাণ লোকজনও তাঁকে দুবার টিকা দেওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন।

বাসায় গিয়ে টিকা-প্রতি ডোজ এক হাজার টাকায় টিকা নেন তাঁরা-প্রথম আলো

চট্টগ্রাম নগরে বাসায় গিয়ে দুই যুবককে টিকাদানের ঘটনায় সোমবার মামলা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, কাট্টলীর মোস্তফা হাকিম মাতৃসদনের ল্যাব টেকনিশিয়ান বিষু দে নিয়ম ভেঙে গত শনিবার বাসায় গিয়ে দুই ব্যক্তিকে করোনার টিকা দিয়েছিলেন। প্রতি ডোজের জন্য নেওয়া হয়েছে এক হাজার টাকা। এ কাজে দুজনকে সহায়তা করেন তাঁদের এক ব্যাংকার বন্ধু।

প্রথম আলোর মতামত কলামের শিরোনাম-সব লকডাউন মাটি হলো কেন-সাংবাদিক কামাল আহমেদ লিখেছেন, গত এপ্রিলের শুরু থেকে দেশে বিভিন্ন নামে যে লকডাউন চলছিল, সরকার তার ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কলকারখানা, সরকারি-বেসরকারি অফিস, দোকানপাট—এগুলোর সবই খুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রথমে ছিল সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয় লকডাউন, তারপর জাতীয় পরিসরে সর্বাত্মক লকডাউন, অতঃপর কঠোর লকডাউন এবং আরও কঠোর লকডাউন—এসবের অবসান ঘটছে। লকডাউনগুলোর বর্ণনায় সরকারের কর্তাব্যক্তিরা যেসব বিশেষণ ব্যবহার করেছেন, তাতে যৌক্তিকভাবে ধারণা তৈরি হতে পারে যে আমরা করোনাকে পরাজিত করেছি। আর যদি পুরোপুরি পরাস্ত না–ও হয়ে থাকে, তা অন্তত নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তৃতীয় আরেকটি সম্ভাবনাও থাকে। সেটি হচ্ছে বাস্তবে লকডাউন আর ধরে রাখা যাচ্ছে না বলেই তা আর কাগজে-কলমে রেখে দেওয়াটা অর্থহীন মেনে নিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে বিধিনিষেধের ইতি টানা হচ্ছে।সরকারের গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি এমন কোনো উপসংহারে পৌঁছেছে কি না, তা অবশ্য জানানো হয়নি। তবে গত রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়েছে, আগামী বুধবার থেকে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে। সড়ক, রেল ও নৌপথে আসনসংখ্যার সমপরিমাণ যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন বা যানবাহনও চলাচল করতে পারবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আরও জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ৩ আগস্ট আন্তমন্ত্রণালয় সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে কোনো ঘোষণা নেই। সম্ভবত সরকারের ধারণা, শিশু-কিশোর-তরুণদের ঝুঁকি বেশি, যদিও বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় এদের ঝুঁকি কম বলেই টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের রাখা হয়েছে সবার শেষে।রোগ শনাক্তকরণের মতো টিকার রেজিস্ট্রেশন ও টিকাকেন্দ্রের অবস্থাও যে কতটা শোচনীয়, তার ছবি গত দুদিনের পত্রিকার পাতায় ভালোভাবেই উঠে এসেছে। এ ধরনের জনসমাগমে কার্যকর স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন কীভাবে হতে পারে? টিকাকেন্দ্রই যদি সংক্রমণ ছড়ানোর উৎস হয়ে যায়, তাহলে সেই টিকা কতটা কাজে আসবে?

বাংলাদেশে নারী অপরাধ-কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক, মো. সাখাওয়াত হোসেন লিখেছেন,নারীদের দ্বারা মারত্মক ও জঘন্য অপকর্ম সংঘটিত হবে না মর্মে সবাই বিশ্বাস করে থাকেন। অপরাধবিজ্ঞানের পথচলায় শুরুর দিকে নারীদের অপরাধ নিয়ে তেমন আগ্রহ ও চিন্তন না থাকলেও বর্তমান সময়ে নারী অপরাধ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হচ্ছে, প্রত্যহ আগ্রহ বাড়ছে একাডেমিশিয়ানদের। উল্লেখ করার মতো বিষয় হচ্ছে, নারীরা পুরুষের চেয়ে ত্বরিত  মারত্মক সব অপরাধ সংঘটন করে থাকে। উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, সুইসাইড বোম্বিংয়ে সক্রিয়ভাবে নারী সন্ত্রাসীরাই অংশগ্রহণ করে থাকে। কাজেই একাডেমিক ও ব্যাবহারিক আলোচনায় নারী অপরাধ বিষয়টি অত্যন্ত আলোচিত ও লোমহর্ষক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিদিনকার খবর, সংবাদ, ঘটনাপ্রবাহ দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে নারী অপরাধ বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। জটিল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে এই কারণে যে নারীরা যেভাবে ভয়ংকর সব অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে তা যেকোনো সমাজ চিন্তকের চোখে-মুখে ভাঁজ ফেলে দিতে যথেষ্ট। ইদানীংকালের ট্রেন্ডে দেখা যাচ্ছে, গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে সমাজে ব্যাপকভাবে পরিচিতদের অপরাধমুখিতার তথ্য-প্রমাণসহ আটক হওয়ার ঘটনায় বিশেষ শ্রেণির মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। কারণ যারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন, তারা সমাজে কোনো না কোনোভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং তাদের সঙ্গে অনেকের জীবনাচারণ নানাভাবে সম্পৃক্ত; সুতরাং তাদের দ্বারা এমন গর্হিত আচরণ সমাজে বিশৃঙ্খলা আনয়নে সহায়ক। কেননা একটি শ্রেণি যেকোনো কারণেই হোক, তাদেরকে অনুসরণ করে অনুপ্রাণিত হবার চেষ্টা করে এবং তাদের করুণ পরিণতি বিশেষ শ্রেণিকে হরেক রকম উপায়ে দ্বিধাগ্রস্ত করে তোলে।সাম্প্রতিক সময়ে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয় এবং সর্বশেষ হেলেনাকে পুলিশ সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে।অপরাধবিজ্ঞানের Marginalization Theory- তত্ত্বে মেডা চেজনি লিন্ড (১৯৮৬)-উল্লেখ করেন; কম উপার্জন, অপর্যাপ্ত চাকুরি, নিম্ন পর্যায়ে অবস্থান, পারিবারিকভাবে নির্যাতন সহ্য করা ইত্যাদি কারণগুলো একজন নারীকে অপরাধ প্রবৃত্তির দিকে আহবান জানায়।প্রকৃতঅর্থে এমনটাই হওয়ার কথা ছিলো কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে দেখা যায়, যে সকল নারীরা প্রতিষ্ঠিত এবং সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন সেসব নারীরাই আলোচিত অপরাধ সংঘটন করছে।কিন্তু এ তত্ত্বে উল্লিখিত কারণগুলোর জন্য নারীরা হতাশায় পর্যুদস্ত হয়ে অপরাধী হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে Paternalism Theory- তত্ত্বে থমাস (১৯৫০) বর্ণনা করেন এমনও দেখা যায় নারীদের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পুরুষেরা অপরাধ করে থাকে। আবার বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা আসলে একটি মিথ, মূলত উৎপাদনশীল কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার পর থেকেই নারীরা পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে যেমনিভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন ঠিক তেমনিভাবে অপরাধের মোহনীয়তার আবিষ্ট হয়ে উঠছে নানা প্রেক্ষাপটেই।বিশ্লেষকরা বলছেন যে সকল নারীরা কর্মজীবী তারা অন্য নারীদের চেয়ে ভয়ংকর অপরাধে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছে এবং এটি খুবই ভয়াবহ আকার সমাজে দেখা দিয়েছে।কাজেই, নারী অপরাধের বিশ্লেষণে সমাজবৈজ্ঞানিক কারণগুলো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সর্বক্ষেত্রে হুবহু সাদৃশ্য পরিলক্ষিত না হলেও অধিকাংশের সঙ্গে উপাদানগুলোর সামঞ্জস্যতা বজায় থাকে।

নারী অপরাধের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক কারণগুলো জানা গেছে এবং অনেকেই এসব বিষয়ে অবগত রয়েছেন কিন্তু কারণগুলো জানা স্বত্ত্বেও কেন আমরা নারী অপরাধকে সহসাই নির্মুল করতে পারছি না সেটাই আলোচনার মূল বিষয় হওয়া উচিত।মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে ঘৃণ্য জঘন্য নারীদের অপরাধলিপ্সু মনোবৃত্তিকে চিহ্নিত করার জন্য ইন্টেলিজেন্সি ইউনিটের সক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে হবে, পাশাপাশি বিচারব্যবস্থাকেও আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হবে। কোন মামলা পেন্ডিং রাখা যাবে না, প্রয়োজনে বিশেষ আদালত বসাতে হবে, উদ্যোগ গ্রহণ করে বিচারক নিয়োগ দিতে হবে। অপরাধীকে সনাক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে মূল হোতাদেরও বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে পারলেই হেলেনা, পিয়াসা, মৌ, সাবরিনা, ঈশিতাদের উত্থান বন্ধ করা সম্ভব হবে, না হয় আরও এমন চরিত্রের উত্থান ঘটতে পারে সহসাই। অন্যদিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো চৌকস ও দায়িত্বশীল হতে হবে কেননা উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য বাজারজাতের দায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অব্যশই নিতে হবে। তাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কিভাবে মাদকের ছড়াছড়ি সর্বত্র সে বিষয়েও ব্যাপকভাবে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। কারণ পুলিশেও ওসি প্রদীপের মতো অফিসাররাও রয়েছেন এখনো।

মাদকমামলায় আবারও দুই দিনের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হলো চিত্রনায়িকা পরীমনিকে। এ ছাড়া তাঁর সহযোগী আশরাফুল আলম দীপুকে দুই দিনের এবং মাদক ও পর্নোগ্রাফি মামলায় মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার নজরুল ইসলাম রাজকে ছয়দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রাজের সহযোগী সবুজ আলীকেও ছয়দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। আদালতে কাঁদলেন পরীমনি।

ভারতের কয়েকটি খবরের বিস্তারিত

প্রার্থীর অপরাধ-যোগের নথি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জমা দিতে সব দলকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের-আনন্দবাজার পত্রিকা

রাজনীতিকে ‘অপরাধমুক্ত’ করতে নজিরবিহীন নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। এ বার ভোট প্রার্থীদের জমা দিতে হবে অপরাধ-যোগের নথি। কোনও ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সেই প্রার্থীর অপরাধ-যোগের নথি জমা দিতে হবে বলে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট রাজ্যের হাইকোর্টের নির্দেশ ছাড়া কোনও সাংসদ বা বিধায়কের বিরুদ্ধে চলা মামলা তুলে নেওয়া যাবে না বলেও জানিয়ে দিল দেশের শীর্ষ আদালত। ক্ষমতার অপপ্রয়োগ বন্ধ করতে মঙ্গলবার এই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ২০২০-র ১৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কিছুটা রদবদল করে মঙ্গলবার এমনই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি রোহিন্তন নরিম্যান এবং বিআর গাভাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ।

দেশজুড়ে এনআরসি নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি, সংসদে-এ জানাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক-সংবাদ প্রতিদিন

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে এরাজ্যে দাঁড়িয়েই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) ঘোষণা করেছিলেন, এখনই দেশজুড়ে নাগরিকপঞ্জি অর্থাৎ NRC চালুর কোনও পরিকল্পনা নেই। মঙ্গলবার সংসদেও নিজেদের পুরনো অবস্থান বজায় রাখল কেন্দ্র। লোকসভায় এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই (Nityananda Rai) জানিয়ে দিলেন, এখনই দেশজুড়ে এনআরসি চালু করা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। যার সোজা অর্থ, এত হম্বিতম্বির পরও এনআরসি চালু করা নিয়ে সরকার এক পা-ও এগোয়নি।

ত্রিপুরায় তৃণমূল কর্মীদের ফাঁসাচ্ছে পুলিশ, মানবাধিকার কমিশন কোথায়? তোপ কুণালের-আজকাল

ত্রিপুরার পুলিশ মিথ্যে মামলায় ফাঁসাচ্ছে তৃণমূল কর্মীদের। মিথ্যে অভিযোগে গ্রেপ্তার করছে তৃণমূল কর্মী-‌সমর্থকদের, এখন কেন্দ্রীয় মানবাধিকার কমিশন কোথায়? প্রশ্ন তুলে গর্জে উঠলেন কুণাল ঘোষ। টুইটে কুণাল ঘোষ লেখেন, ‘খবর আসছে রাত থেকে ত্রিপুরার আমবাসা এলাকার তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি থেকে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কাউকে ডেকে পাঠানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কোর্টে তোলা হবে। সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা, মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাণ্ডব চলছে। কেন্দ্রীয় মানবাধিকার কমিশন কোথায়?’। কুণাল ঘোষ আরও বলেন, ‘ত্রিপুরায় জঙ্গলরাজ চলছে। তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা চালাচ্ছে বিজেপির গুণ্ডারা। কিন্তু কেন্দ্রীয় মানবাধিকার কমিশন কোথায় গেল!‌মানবাধিকার কমিশন তো বিজেপির শাখা সংগঠন নয়।’#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।