গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i100200-গাজীপুরের_মেয়র_জাহাঙ্গীর_আওয়ামী_লীগ_থেকে_আজীবনের_জন্য_বহিষ্কার
বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
নভেম্বর ১৯, ২০২১ ১৬:৩২ Asia/Dhaka
  • মেয়র জাহাঙ্গীর আলম সরকার
    মেয়র জাহাঙ্গীর আলম সরকার

বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

আজ (শুক্রবার) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক জানান, “মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তার প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয়েছে।”

মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করায় দলীয় নেতাকর্মীরা খুশি হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান। তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে নিজের মনগড়া বক্তব্য দিয়ে জাহাঙ্গীর যে অপরাধ করেছে, সেই অপরাধের শাস্তি সে পেয়েছে। এতে আমরা আওয়ামী পরিবারের লোক, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোক খুশি। শুধু গাজীপুরের নয়, সারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বপক্ষের লোক খুশি। এ সিদ্ধান্তের জন্য আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সকল সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।' 

এদিকে, দল থেকে বহিষ্কারের প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হয়তো ভুল বোঝানো হয়েছে। উনি সঠিকটা জানলে কোনো দিনই এই ব্যবস্থা নিতেন না।

জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে উনি একমুখো শুনেছেন, তাই হয়তো এমনটা হয়েছে। তারপরও তিনি দেশের ও দলের অভিভাবক। উনি যা ভালো মনে করেন আমি তা মাথা পাইতা নেব।

গত ২২ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া চার মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এবং রাষ্ট্রীয় দুটি সংস্থা নিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন মেয়র জাহাঙ্গীর। তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

তীব্র সমালোচনার মুখে পরে আরেক ভিডিও বার্তায় মেয়র দাবি করেছিলেন, ফেসবুকের ভিডিওটি সুপার এডিট করে প্রচার করে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করা হচ্ছে।

ফেসবুকে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর তার শাস্তির দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে ২৩ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ করেন গাজীপুর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। একই দিন টঙ্গী স্টেশন এলাকায় রেললাইনে আগুন দেন বিক্ষুব্ধরা। আগুনের কারণে সারা দেশের সঙ্গে দেড় ঘণ্টা রেল চলাচল বন্ধ থাকে।

বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে পড়ে গাজীপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর একদিকে জাহাঙ্গীর আলমের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে একই দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসডিজি অগ্রগতিতে পুরস্কার পাওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেন সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর। পাল্টাপাল্টি এ সমাবেশ নিয়ে উভয়পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

দলীয় ‘স্বার্থ পরিপন্থি কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ অভিযোগে গত ৩ অক্টোবর জাহাঙ্গীর আলমকে দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত শোকজের চিঠি ইস্যু করে ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জবাব দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।