আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দ্রব্যমূল্য ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে: রিজভী
দ্রব্যমূল্য যদি বিএনপিই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, আপনারা ক্ষমতায় আছেন কেন?: ফখরুলের প্রশ্ন
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরবলেছেন, সরকারের মন্ত্রীরা দ্রব্যমূল্য নিয়ে হাস্যকর ও উদ্ভট কথাবার্তা বলে জনগণের সঙ্গে তামাশা করছেন। তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মুল্য বৃদ্ধির জন্য সরকারের লোকজন দায়ী। এ ক্ষেত্রে নিজেদের ব্যর্থতার দায়ভার মাথায় নিয়ে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত।
আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে আলাপকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে ভোক্তা সাধারনের নাভিশ্বাস উঠেছে। পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। প্রতিটি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনিসহ অন্যান্য দ্রব্যের দাম যেভাবে বেড়েছে সাধারণ মানুষ, নিম্ন আয়ের মানুষ, মধ্যবিত্তের মানুষ হিমশিম খাচ্ছে।
মির্জা ফখরুল সরকারের মন্ত্রীদের প্রতি প্রশ্ন করেন, ‘বিএনপি যদি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তবে আওয়ামী লীগ সরকারে আছেন কেন? আপনারা পদত্যাগ করে বিএনপির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেখুন, দ্রব্যমূল্যে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কি না।
এ সময় বিএনপির মহাসচিব দেশের জনগণের বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্র, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক মাধ্যম এবং দেশি-বিদেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে বিটিআরসি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নতুন দুই নীতিমালাসহ ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিলের দাবি জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে এই সরকার টিকে আছে। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করছে, বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে, প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করছে। গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করার কারণে যাঁরা আজ ভিন্নমত পোষণ করছেন, যাঁরা বিরোধী দল করছেন, যাঁরা জনগণের পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করছেন, তাঁদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।
সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা যাতে কথা বলতে না পারেন, লিখতে না পারেন, সে জন্য অনেকগুলো আইন করা হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাতে কার্যকরভাবে কাজ করতে না পারে, সে জন্য আইন করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবমতে, দেশে ৬০০ জনের ওপর সংবাদকর্মীর নামে মামলা আছে। দুই শতাধিক সংবাদকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, সরকার নিজেদের দুর্নীতি-অপশাসনের প্রচার ঠেকাতেসম্প্রতি ‘দ্য বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন রেগুলেশন ফর ডিজিটাল, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যান্ড ওটিটি প্ল্যাটফর্মস-২০২১’ এবং ‘ওভার দ্য টপ (ওটিটি) কনটেন্টভিত্তিক পরিষেবা প্রদান এবং পরিচালনা নীতিমালা-২০২১’ নামে দুটি নতুন ‘নিবর্তনমূলক’ নীতিমালার খসড়া করেছে।
২৮ মার্চ বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা হরতালে বিএনপির অবস্থান নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, কাল সোমবার দলের স্থায়ী কমিটির সভা আছে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সংলাপ শুরু করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সংলাপে বিএনপি অংশ নেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে কোনো কথাই বলব না। কারণ, নির্বাচন কমিশন মানিই না।’
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দ্রব্যমূল্য ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে: রিজভী
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দ্রব্যমূল্য মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ রবিবার (১৩ মার্চ) সকাল ১১টায় রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সরকারের দুঃশাসন সংবলিত লিফলেট বিতরণকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, চাল-ডাল, তেল, আটা, গুঁড়া দুধ, আনাজপাতির মূল্য আজকে মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। আজকে বেগুনের গায়ে হাত দিলে, আলুর গায়ে হাত দিলে, সবজির গায়ে হাত দিলে বিদ্যুতের মতো শক করে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দুর্ভিক্ষের ছায়া থাকবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে মানুষ আধপেটা থাকবে এটাই বাস্তবতা, এটাই সত্য।
রিজভী অভিযোগ করেন, এই ১০ বছরে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে ৯০ শতাংশ, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে ১৪৪ শতাংশ, ডিজেলের দাম তারা বৃদ্ধি করেছে ৮২ শতাংশ এবং পানির দাম বৃদ্ধি করেছে তারা ২৪৪ শতাংশ। পৃথিবীর যে দেশে জনগণের সরকার থাকে সেখানে এই ধরনের দাম বৃদ্ধি হয় না।
রিজভী বলেন, আজকে ওএমএসের যে লম্বা লাইন, সেখানে মধ্য আয় ও স্বল্প আয়ের মানুষ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে এই চৈত্র্যের ভয়ংকর রোদের মধ্যে। রাজধানীসহ কিছু জেলায় এই টিসিবির ন্যায্যমূল্যের পণ্য সারা দেশে ১-২ শতাংশ দিতে পারে। সারা দেশের মানুষ আজকে চড়া দামে জিনিসপত্র কিনছে। অর্ধপেট এবং এক বেলা-আধপেটা খেয়ে দিন কাটাচ্ছে তারা।
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপুসহ নেতাদের নিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সরকারের দুঃশাসন’ সংবলিত লিফলেট ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বিলি করেন।#
পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।